আদিবাসী দিবস আজ: অধিকার, ভূমি বিরোধ ও অমীমাংসিত চুক্তির আবহে কাটছে দিন
হাবিবুর রশিদ হিমন, বান্দরবান প্রতিনিধি:
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় ঘেঁষা পথ থেকে শুরু করে উত্তর বা দক্ষিণাঞ্চলের সমতল—আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। জাতিগোষ্ঠী মানুষের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অবদানকে স্মরণ করার দিন এটি। তবে উৎসব ও উদযাপনের ঝলমলে আলোর আড়ালে রয়ে গেছে বছরের পর বছর ধরে চলা গভীর সংকট, অনিষ্পন্ন ভূমি বিরোধ এবং অধিকারবঞ্চনার বাস্তব চিত্র।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা নিরসন ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাক্ষরিত হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি’। তবে অভিযোগ রয়েছে, চুক্তি বাস্তবায়নের গতি বিগত বহু বছর ধরেই থমকে আছে। বিশেষ করে অঞ্চলের মূল সংকট—ভূমি বিরোধ মীমাংসা কমিশন কার্যকরভাবে কাজ করতে না পারায় পাহাড়ের মানুষের ভূমির অধিকার এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
শুধু পাহাড়ে নয়, সমতলে ছড়িয়ে থাকা নানা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অবস্থাও বেশ নাজুক। ভূমির যথাযথ দলিল বা আইনি সুরক্ষার অভাবে তাঁরা প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হচ্ছেন
ভূমি দখলের আশঙ্কায়,
ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের আতঙ্কে ও
বছরের পর বছর ধরে চলা জটিল আইনি লড়াইয়ে।
রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও নীতি-নির্ধারণে তাঁদের প্রকৃত অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন নাগরিক সমাজ ও জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, মূলধারার সার্বিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মতামতকে অন্তর্ভুক্ত না করলে অন্তর্ভুক্তিমূলক বা টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞ মনে করছেন,
উৎসব-অনুষ্ঠানে তাঁদের রঙিন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরাই যথেষ্ট নয়। তাঁদের মৌলিক অধিকার রক্ষা, ভূমির আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং পার্বত্য চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নই কেবল পারে সমস্যার স্থায়ী সমাধান আনতে।