বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম

জুলাইয়ের চেতনা হচ্ছে বন্দরকে আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত করা : অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক চসিক মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী বলেছেন, জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের অন্যতম দাবি হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত ও জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। বন্দরকেন্দ্রিক সব ধরনের ষড়যন্ত্র, দুর্নীতি ও শ্রমিকবিরোধী অপতৎপরতা প্রতিহত করে শ্রমিকদের অধিকার ও দেশের সার্বভৌম স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আজ বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘ আয়োজিত জুলাই র‌্যালি পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইয়াছিনের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, মহানগর সহ-সভাপতি মকবুল আহমদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী ও চট্টগ্রাম ১১ আসনের সাবেক এমপি প্রার্থী সফিউল আলম।

অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বৈষম্য, স্বৈরাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে গণমানুষের আন্দোলন। এই আন্দোলনে শ্রমিকদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলা, হয়রানি ও তাদের অবদানকে খাটো করার যেকোনো অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল করতে শ্রমিক সমাজের আত্মত্যাগ ছিল অবিস্মরণীয়। সেই আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন, জুলাই যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং শ্রমিকবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেবে না। বন্দরকে ঘিরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, কর্মসংস্থান ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দিয়ে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এস এম লুৎফর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল করতে শ্রমিকরা রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু এখনো অনেক জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের ন্যায্য স্বীকৃতি এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত হয়নি। তাদের মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা, স্বার্থ ও শ্রমিকদের অধিকার কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। বন্দরকে কেন্দ্র করে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, ন্যায্য অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড আমির ফিরোজ আহমদ, ফেডারেশনের বন্দর থানা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম আদনান, শ্রমিক নেতা আব্দুর রহিম পাঠান, রফিকুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম রুমেল, শাহ আলম, আমান উল্লাহ, রেজাউল করিম, রবিউল হাসান, সানাউল্লাহ প্রমুখ।

ক্যাটাগরি