চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২ , ৭ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পরিবহন ধর্মঘট: ৩৫০০ কন্টেইনার না নিয়েই চলে গেল ৭ জাহাজ

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর, ২০২১ ১২:৩৫ : অপরাহ্ণ

চার দিনের পরিবহন ধর্মঘটে পণ্যবোঝাই সাড়ে তিন হাজার কন্টেইনার না নিয়েই চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে ৭টি জাহাজ। এতে অন্তত ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের তৈরি পোশাক বিদেশি ক্রেতার কাছে পাঠানো যায়নি।

ফলে এসব গার্মেন্টস পণ্য পাঠানো নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। পাশাপাশি জাহাজ খালি অবস্থায় চলে যাওয়ায় ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে এ দেশের এজেন্টরা।


পরিবহন ধর্মঘটের কারণে জাহাজের হুক পয়েন্টে পৌঁছাতে না পারায় ৭ নভেম্বর ৩টি জাহাজ ১ হাজার ৯০০ টিইউএস এবং ৮ নভেম্বর আরও ৩টি জাহাজ ১ হাজার ৫০০ টিইইউএস রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার না নিয়েই চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করে। এর সিংহভাগেই ছিল বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডারের তৈরি পোশাক। যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ৫০০ কোটি টাকার বেশি। এ অবস্থায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চলতি নভেম্বর মাসে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে এ ধরনের ধর্মঘটের কারণে বড় ক্ষতিটা হচ্ছে- বায়াররা অনিরাপদ মনে করবে। কোনো ঘোষণা ছাড়াই যাদি এমনটা হয় তাহলে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে, আমরা কাজ হারাব।

শুধুই যে পণ্যবাহী কন্টেইনার ফেলে রেখে জাহাজ বন্দর ত্যাগ করেছে, তা নয়। এ সময় বিদেশ থেকে কাঁচামাল নিয়ে আসা প্রায় ১২ হাজার কন্টেইনার কারখানায় পৌঁছাতে পারেনি। আর ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও প্রয়োজনীয় ট্রাক-কাভার্ড এবং কন্টেইনারবাহী লরি পাচ্ছে না বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। তাতে এসব যানবাহনের ভাড়াও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ বলেন, আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনের জন্য চাহিদা অনুযায়ী ট্রাক-কাভার্ড বা কন্টেইনারবাহী লরি পাওয়া যাচ্ছে না। এটার সুদূরপ্রসারী প্রভাব হলো যে, আগামী ১০-১৫ দিন আমাদের আমদানি-রপ্তানিকারকদের মাশুল দিতে হবে।

কন্টেইনার ফেলে জাহাজগুলো বন্দর ছেড়ে যাওয়ায় দেশীয় এজেন্টরা ক্ষতির মুখে পড়েছে ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি। আর প্রায় ৫ হাজার কন্টেইনার শিপমেন্টে বিলম্বিত হয়েছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক শফিকুল ইসলাম জুয়েল বলেন, এ ধরনের ধর্মঘটের কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। হঠাৎ করে এ ধরনের ধর্মঘট না দিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা উচিত।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে ধর্মঘট পালন করে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান এবং লরী চালক-শ্রমিক ও মালিকরা। এতে দেশের বন্দরগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি স্হবির হয়ে পড়ে।

Print Friendly and PDF