চট্টগ্রাম, বুধবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২১ , ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে এক সপ্তাহে মারা পড়লো ৩টি হাতি

প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর, ২০২১ ১২:২০ : অপরাহ্ণ

কক্সবাজারে একের পর এক বন্যহাতির মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা। শুধু চলতি সপ্তাহেই কক্সবাজার বনাঞ্চলে তিনটি বন্যহাতি হত্যার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশবাদী সংগঠন এসব হাতিকে বৈদ্যুতিক শক ও গুলি করে হত্যার দাবি করলেও স্থানীয় বনবিভাগ বলছে হাতিগুলোর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এদিকে গত এক বছরে এ অঞ্চলে ১৮টি বন্যহাতি মারা পড়েছে।

স্থানীয় বনবিভাগ ও পরিবশেবাদীরা বলছেন- কক্সবাজারে হাতির আবাসস্থল উজাড় হয়েছে, বাধাগ্রস্ত হয়েছে চলাচলের করিডোর। এছাড়া খাদ্য সংকট ও মানুষের নির্মমতায় মারা পড়ছে বন্যহাতি। আবাসস্থল ছেড়ে লোকালয়ে হানা দেওয়ায় বন্যহাতি ও মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে দ্বন্দ্ব। এ কারণে ফসল রক্ষায় বৈদ্যুতিক শক ও গুলি করে হাতি হত্যার ঘটনা ঘটছে। চলতি সপ্তাহে কক্সবাজারে তিনটি বন্যহাতি মারা পড়েছে। এক বছরে কক্সবাজার অঞ্চলে ১৮টি হাতি মারা গেছে। বনাঞ্চল দখল, বনাঞ্চলে চাষাবাদ আর হাতির দাঁত বিক্রির জন্য ধারাবাহিকভাবে এ হত্যা চরছে বলে দাবি করেছেন পরিবেশবাদীরা। হাতি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কক্সবাজারের বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, মহাবিপন্ন এশিয়ান হাতিকে বৈদ্যুতিক শক ও গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তিনিএশিয়ান হাতির সুরক্ষায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।

কক্সবাজার এনভায়রনমেন্ট পিপলের প্রধান নির্বাহী একেএম রাশেদুল মজিদ বলেন, বনাঞ্চল ধ্বংস করে রোহিঙ্গা জনবসতি স্থাপন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও বনাঞ্চলে হাতির আবাসস্থল নষ্ট করার কারণে মানুষের সঙ্গে হাতির দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে।

কক্সবাজার উত্তর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, নানা কারণে গত এক বছরে কক্সবাজার অঞ্চলে ১৮টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। তবে মানুষের সঙ্গে হাতির দূরত্ব কমাতে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি হাতির করিডোর ও আবাসস্থল বৃদ্ধিসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। হাতির যাতে ক্ষতি না হয় সেজন্য বাঁশি, হর্ন ও পটকা ফুটিয়ে হাতি তাড়ানোর কৌশল শেখানো হচ্ছে স্থানীয়দের।

Print Friendly and PDF