চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ , ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

করোনা টিকা রেজিস্ট্রেশন করেও ডাক আসেনি, অপেক্ষায় সাড়ে ৬৬ লাখ মানুষ

প্রকাশ: ৪ আগস্ট, ২০২১ ১২:২৯ : অপরাহ্ণ

দেশে করোনার টিকাপ্রত্যাশীদের লাইন দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। সাড়ে ৬৬ লাখ নিবন্ধনকারী টিকা নিতে নিবন্ধন করে অপেক্ষায় রয়েছেন। ১৪ লাখের বেশি মানুষ বহুদিন ধরে অপেক্ষায় আছেন অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজের জন্য। গতকাল পর্যন্ত হাতে টিকা মজুত আছে মাত্র ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ১৬২ ডোজ। ২রা আগস্ট বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টিকা নিতে নিবন্ধন করেছেন ১ কোটি ৬০ লাখ ৫৮ হাজার ৫২৬ জন। এটা প্রতিদিনই ৬ থেকে ৭ লাখ করে বাড়ছে। দেশে করোনা প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি চলছে। আর দ্রুত টিকার আওতায় আনতে ৭ই আগস্ট থেকে ১৪ই আগস্ট পর্যন্ত ১ কোটি মানুষকে গণটিকা দেয়ার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।

এই লক্ষ্যে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়া দেশের যেকোনো নাগরিককে নিবন্ধনের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর থেকে ২রা আগস্ট পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলে বিভিন্ন টিকা দেয়া হয়েছে মোট ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫৮ ডোজ। এরমধ্যে টিকার ১ ডোজ নিয়েছেন ৯৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮২৯ জন এবং ২ ডোজ নিয়েছেন ৪৩ লাখ ৬৭ হাজার ৯২৯ জন। এগুলো দেয়া হয়েছে অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকার ফর্মুলায় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি কোভিশিল্ড, চীনের তৈরি সিনোফার্ম, ফাইজার ও মডার্নার টিকা। ২রা আগস্ট বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টিকা নিতে নিবন্ধন করেছেন ১ কোটি ৬০ লাখ ৫৮ হাজার ৫২৬ জন। তবে গত কয়েকদিনের নিবন্ধনের গতিতে দেখা যাচ্ছে ৬ থেকে ৭ লাখ টিকাপ্রত্যাশী নিবন্ধন করছেন। পক্ষান্তরে গত এক সপ্তাহ ধরে আড়াই থেকে প্রায় ৩ লাখ মানুষ টিকা নিচ্ছেন প্রতিদিন। উপহার এবং কেনা মিলে দেশে এ পর্যন্ত টিকা এসেছে ২ কোটি ৫৬ লাখ ৪৩ হাজার ৯২০ ডোজ। এর থেকে প্রয়োগ করা হয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫৮ ডোজ। এখন হাতে আছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ১৬২ ডোজ। অন্যদিকে নিবন্ধন করে টিকার অপেক্ষায় আছেন ৬৬ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রথম ডোজ নেয়া ৫৮ লাখ ২০ হাজার ৩৩ জনের মধ্যে সাড়ে ১৪ লাখের মতো মানুষের দ্বিতীয় ডোজ নেয়া বাকি আছে। এদের অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকারই দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। কেননা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো দুই কোম্পানির দুই ডোজের টিকা গ্রহণের কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

গতকাল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সাতদিনের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে টিকা দেয়ার কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এই সাতদিনে প্রায় এক কোটি টিকা আমরা দেবো, এটাই আমাদের উদ্দেশ্য। টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে গ্রামের যারা বয়স্ক তাদের অগ্রাধিকার দেবো। কারণ তাদের মৃত্যু ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ। গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ যারা তারাই বেশি মারা যাচ্ছেন, সেই কারণে টিকা আমরা গ্রামে নিয়ে যাচ্ছি। যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই তাদের জন্য জন্মনিবন্ধনপত্র বা এসএসসি’র সনদ নিয়ে টিকা দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের হাতে সোয়া কোটি ডোজ টিকা আছে। আরও এক কোটি টিকা আমাদের হাতে এসে পৌঁছবে। অর্থাৎ টিকা কর্মসূচি বজায় থাকবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এনআইডি’র (জাতীয় পরিচয়পত্র) মাধ্যমে আমরা ভ্যাকসিন দেব। যাদের এনআইডি নেই তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় টিকা দেয়া হবে। এ বিষয়ে ঘোষণা আগেই দেয়া হয়েছে।

Print Friendly and PDF