চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১ , ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আইপিএল পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট মোস্তফিজুর রহমান

প্রকাশ: ৯ মে, ২০২১ ২:৪৭ : অপরাহ্ণ

ভিত্তিমূল্য এক কোটি রুপিতেই এবারের আইপিএল নিলামে রাজস্থান রয়্যালসে ডাক পেয়েছিলেন মোস্তফিজুর রহমান। ভাগ্য সুপ্রসন্ন ফিজের। রাজস্থানের অপর বিদেশি জোফরা আর্চারের আঙুলের ইনজুরি খেলার পথ করে দেয় তার। তাতে বাংলাদেশ পেসারের লাভ হয়েছে দারুণ। আর্চারকে যে সম্মানটা দেওয়া হতো সেই সম্মান পেয়েছেন রাজস্থানে। সব ম্যাচেই ছিলেন স্ট্রাইক বোলার। ৭ ম্যাচে নিয়েছেন ৮ উইকেট। ব্যাকহ্যান্ড কাটারে নিজেকে আরও ধারালো করছিলেন ক্রমেই। এর মধ্যেই করোনার থাবায় আসরটা থমকে গেল। দেশে ফিরে সোনারগাঁও হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় ফিজ ক্রিকবাজকে জানালেন এবারের আইপিএল অভিজ্ঞতা।

শুরুতে গুঞ্জন উঠেছিল ফিজকে ব্যাকআপ বোলার হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। দলে বিদেশি বোলার হিসেবে ক্রিস মরিস আছেন। যাকে আইপিএল ইতিহাসে বিদেশি ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ১৫.৫ কোটিতে কিনেছে রাজস্থান। এছাড়া আগে থেকেই জোফরা আর্চার ছিলেন। দুজন বোলারকে টপকে মোস্তাফিজের খেলা কঠিন ছিল। কিন্তু হলো উল্টো। আর্চারের অনুপস্থিতি আর রাজস্থানের টিম ডিরেক্টর কুমার সাঙ্গাকারার সঙ্গে পূর্ব পরিচয় ফিজের খেলার পথ খুলে দিল। মোস্তাফিজ জানান, ‘সাঙ্গাকারার সঙ্গে ঢাকা ডায়নামাইটস থেকে পরিচয় (২০১৬ সালে এক সঙ্গে খেলার সূত্রে)। আমি জানি সে আমার কাছে কী আশা করে। আমি সেটাই দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাছাড়া রাজস্থানের সবাই আমাকে খুব সাহায্য করেছে, সম্মান করেছে। তারা আমাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। আমি খুব খুশি যে ওরা আমাকে নতুন বলে নিয়মিত বল করার সুযোগ দিয়েছে এবং আমিও ওদের প্রত্যাশা মেটানোর চেষ্টা কিরেছি। এছাড়া ড্রেসিংরুমে আমাকে চাঙ্গা রাখা বা চাপমুক্ত রাখার জন্য সবাই হাত বাড়িয়েছে।’

নির্ভার থাকলে নাকি পারফরম্যান্স ভালো হয়। মোস্তাফিজের বেলায় এবার হয়েছে সেটাই। ২০১৫-১৬ দুই মৌসুম অসাধারণ খেলা এই পেসার পরের কয়েকটি বছর যেন হারিয়েই গিয়েছিলেন। পুরনো সেøায়ার বা ইয়র্কারগুলো যেন হারিয়েই গিয়েছিল। ২০১৯ বিশ্বকাপ থেকে ক্রমে নিজেকে ফেরানোর চেষ্টায় ছিলেন ফিজ। রাজস্থানের হয়ে এই মৌসুমে এ দুই অস্ত্রই ফিরে পেয়েছে ফিজ। ব্যাক হ্যান্ডে স্লোয়ার দিয়েছেন প্রায় প্রতি ম্যাচেই। শেষদিকে ইয়ার্কারও মারছিলেন। তাতে রান খরচ করলেও উইকেট পাচ্ছিলেন। ২০১৮ মৌসুমে নিজের উইকেট সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন আসরের মাঝপথেই। সেবার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ৭ ম্যাচে ৭ উইকেট নেন। এবার ৭ ম্যাচে নিয়েছেন ৮টি। মোস্তাফিজ এই পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। তবুও বিচারের কাজটা ছেড়ে দিচ্ছেন সমর্থকদের ওপরই, ‘এবার ছন্দটা ভালো পেয়েছি, বোলিংয়ে যা করার চেষ্টা করেছি। আমি আমার দিক থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। নিজের কাছে মনে হচ্ছে ভালোই কাটিয়েছি। খেলা তো আগেই থেমে গেল, নয়তো আরও ভালো করতে পারতাম। তবে কতটুকু সফল হতে পেরেছি তার বিচার আপনারা করবেন।’

এই আসরে ফিজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল স্লোয়ার ফিরিয়ে আনা। ফিজকে তার রূপে দেখে সমর্থকরাও আনন্দিত। আসলে পেসার নিজেই স্লোয়ার ফেরানোর চেষ্টা করছিলেন গত কিছুদিন ধরে। কিন্তু ম্যাচ পরিস্থিতি, পরিকল্পনা মিলিয়ে ঝুঁকি নিতে পারছিলেন না। এবার একটানা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ পেয়ে সুযোগটা নিয়ে সফলও হলেন। মোস্তাফিজ জানান, ‘আসলে অনেকদিন ধরেই উল্টোহাতে স্লোয়ার দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। এটা সঠিক করার জন্য কিন্তু অনেক সময় লাগে। নেটে এটার চেষ্টা করছিলাম। আইপিএলে যাওয়ার পর অনুশীলনেও এ চেষ্টা করেছি পরে ম্যাচেও করলাম। স্লো বল করার চেয়েও স্লো ইয়র্কার দেওয়াটা কিন্তু কঠিন। টি-টোয়েন্টিতে এই রিস্কগুলো নেওয়া যায় যেহেতু ওভার কম থাকে। আমি সেই ঝুঁকিটা নিয়ে সফল হয়েছি হয়তো। আইপিএল থেকে ফিরে এখন মনে হচ্ছে এ বলটা করতে পারব।’

ছন্দে থাকা অবস্থায় আইপিএল বন্ধ হওয়ায় খারাপ লাগছে না মোস্তাফিজের। করোনা ছড়িয়ে পড়ার আগেই টুর্নামেন্ট থামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে যথাযথ মনে করছেন। তা না হলে আরও ক্রিকেটার করোনা আক্রান্ত হতেন। মোস্তাফিজের আক্ষেপ বায়ো-বাবল কোয়ারেন্টাইন নিয়ে। টানা ঘরবন্দি থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে উঠেছেন বলে জানান। উইন্ডিজ সিরিজ থেকে শুরু করে গত ৫ মাসে এই পরিস্থিতিতেই তো থাকতে হয়েছে তাকে। নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে একটু ছাড় পেয়েছিলেন। কিন্তু নিউজিল্যান্ড থেকে টানা বায়ো বাবল-কোয়ারেন্টাইনেই থাকতে হচ্ছে এই পেসারকে।

Print Friendly and PDF