চট্টগ্রাম, রোববার, ১১ এপ্রিল ২০২১ , ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনার দ্বিতীয় ধাপে চট্টগ্রামে হচ্ছে কয়েকটি আইসোলেশন সেন্টার

প্রকাশ: ৫ এপ্রিল, ২০২১ ১১:৪১ : পূর্বাহ্ণ

করোনার দ্বিতীয় ধাপে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার দিন দিন বাড়ছে। চট্টগ্রামে প্রথম রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৩ এপ্রিল। গত শুক্রবার রেকর্ড ৫১৮ জন শনাক্ত হয়েছে। এবার সংক্রমিতদের মাঝে সংকটাপন্ন রোগীর সংখ্যা বেশি। তাই বাড়ছে আইসিইউ বেডের চাহিদা। এই সময়ে চট্টগ্রামে সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গা হচ্ছে সরকারি হাসপাতালগুলো। কেননা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য তাদের নেই। তবে রোগী আরও বাড়লে সরকারি হাসপাতালে সমস্যা হবে। এ রকম পরিস্থিতিতে এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের ফিল্ড হসপিটাল কিংবা আইসোলেশন সেন্টার গড়ে উঠেনি নগরীতে। এর মাঝে সুখবর হচ্ছে ৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। আগামীকাল ৬ এপ্রিল থেকে এর কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া গতবার বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু আইসোলেশন সেন্টার গড়ে উঠেছিল। এবার তাদের কয়েকজন পুনরায় আইসোলেশন সেন্টার গড়ে তুলবেন বলে জানিয়েছেন।মহানগরীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাধারণ ও আইসিইউ মিলে ৫৪১টি শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০৬টি সাধারণ ও ৩৫টি আইসিইউ শয্যা। তবে আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য শুধুমাত্র ২২৯টি সিট রয়েছে। গত বছর কোভিড রোগী ও সাসপেক্টেড রোগীদের জন্য বিভিন্ন সংগঠন ও সচেতন তরুণদের উদ্যোগে নগরীতে ৭টি ফিল্ড হসপিটাল ও আইসোলেশন সেন্টার হয়েছিল। এ বছরের মার্চ থেকে করোনা আরও শক্তিশালী রূপেয় ছড়ালেও এখনো পর্যন্ত ফিল্ড হাসপাতাল কিংবা আইসোলেশন সেন্টার গড়ে না ওঠায় সাধারণ মানুষের কপালে ভাঁজ পড়েছে। চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮০টি, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে ৩২টি, আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে ১৪০টি, চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালে ৫৪টি এবং হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১০০টি সাধারণ বেড রয়েছে।
অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ১৯৯৬টি শয্যা রয়েছে। বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে কোভিড রোগী ও সাসপেক্টেড মিলে ৩৭৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে করোনা ডেডিকেটেড আইসিইউ রয়েছে ১০৫টি।
গত বছর করোনাকালে প্রথম থেকে মরদেহ দাফন ও সৎকার কাজে নিয়োজিত ছিল আল মানাহিল ফাউন্ডেশন। তাদের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় আল মানাহিল নার্চার হাসপাতাল। এ বছরও এই সংগঠনের কর্মীরা কাজ শুরু করেছেন। গত বছর আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে চসিকের উদ্যোগে ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার চালু করেছিলেন সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী গত বছর বাকলিয়ার তুলাতলীর ওয়েডিং পার্ক কমিউনিটি সেন্টারে ৭০ শয্যার মুক্তি আইসোলেশন সেন্টার চালু করেছিলেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হোসেন আহম্মদের উদ্যোগে পতেঙ্গায় একটি স্কুলে গড়ে তোলা হয় পতেঙ্গা-ইপিজেড ফিল্ড হাসপাতাল। এছাড়া পতেঙ্গায় চালু হয়েছিল ৬০ শয্যার বিদ্যানন্দ ফিল্ড হাসপাতাল।
এর আগে ফৌজদারহাট সলিমপুরের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া প্রথম চালু করেছিলেন ফিল্ড হাসপাতাল। বেশ কয়েকজন তরুণ উদ্যোক্তা হালিশহরে প্রিন্স অব চিটাগং কমিউনিটি সেন্টারে গড়ে তোলেন ১০০ শয্যার করোনা আইসোলেশন সেন্টার। এই সেন্টারের প্রধান উদ্যোক্তা মোহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন, প্রধান সমন্বয়ক নুরুল আজিম রনি ও সেন্টারটির মুখপাত্র ছিলেন জিনাত সোহানা চৌধুরী।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হোসেন আহম্মদ আজাদীকে বলেন, গতবার আমরা বহু রোগীকে সেবা দিয়েছি। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে আবার ৫০ শয্যার ফিল্ড হসপিটাল চালু করব। ডাক্তার, নার্স থেকে শুরু করে সকল প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত আছে। ৬ মাস চালানোর মতো ফান্ডও আছে। কারো কাছ থেকে সাহায্য নিতে হবে না। তিনি বলেন, হাসপাতাল এতদিন বন্ধ থাকলেও আমি নিয়মিত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। প্রতিদিন ৪/৫ জন রোগীকে ফ্রি সেবা দিয়ে থাকি। আজকেও ৫ জনকে সেবা দিয়েছি। আমরা যেখানে পাঠাচ্ছি কোথাও সিট নেই।
গতবার হালিশহরে প্রিন্স অব চিটাগং কমিউনিটি সেন্টারে গড়ে তোলা ১০০ শয্যার করোনা আইসোলেশন সেন্টারের প্রধান উদ্যোক্তা মোহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন আজাদীকে বলেন, এবার আইসোলেশন সেন্টারের জন্য কেউ জায়গা দিতে চাচ্ছে না। এবার আইসোলেশন সেন্টারের চেয়েও বেশি প্রয়োজন আইসিইউ। এবার হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ও অক্সিজেন বেশি দরকার। আমরা চেষ্টা করছি ছোট পরিসরে হলেও কিছু করা যায় কিনা।

Print Friendly and PDF