চট্টগ্রাম, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ , ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বিশ্বে বেড়েছে যমজ শিশুর জন্ম

প্রকাশ: ১৩ মার্চ, ২০২১ ১:১৩ : অপরাহ্ণ

বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে যমজ শিশুর জন্ম বেড়ে গেছে। যমজ শিশু জন্মের এই প্রবণতা আগে কখনো দেখা যায়নি। তাই বিষয়টি চমকে দিয়েছে গবেষকদের।

শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘হিউম্যান রিপ্রোডাকশনে’প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে এ তথ্য উঠে এসেছে।

খবরে বলা হয়, জন্ম নেওয়া প্রতি ৪২ শিশুর একটি যমজ। সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর জন্ম নিচ্ছে প্রায় ১৬ লাখ যমজ শিশু। ১৩৫টি দেশ থেকে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণাটি চালানো হয়।

নিবন্ধটির সহ-লেখক ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক ক্রিস্টিয়ান মনডেন বলেন, ‘বিশ্বে যমজ শিশুর সংখ্যা এত বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে যে গত বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে এমনটা আর দেখা যায়নি। যেকোনো সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা সর্বোচ্চ।’

গবেষকদের মতে, চিকিৎসা ব্যবস্থার সহায়তায় প্রজনন বেড়ে যাওয়ায় যমজ শিশু জন্ম দেওয়ার ঘটনা বেড়েছে। ১৯৭০–এর দশকে উন্নত দেশগুলোতে চিকিৎসার সহায়তায় প্রজনন প্রযুক্তির (এআরটি) ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। যার ফলে বেশি বয়সেও মায়েরা শিশু জন্ম দিতে সক্ষম হন, এতে যমজের সংখ্যার হার বেশি। গর্ভনিরোধের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া, নারীদের বেশি বয়সে সন্তান নেওয়াও একটি অন্যতম কারণ।

গবেষকয় দেখা যায়, আফ্রিকাতে যমজ শিশুর হার সবচেয়ে বেশি। এর পেছনে কাজ করছে মহাদেশটির সঙ্গে বাকি বিশ্বের জিনগত পার্থক্য। এ অঞ্চলে যমজ শিশুর জন্ম আগে থেকেই বেশি ছিল।

তবে গত ৩০ বছরে যমজ শিশুর জন্ম সবচেয়ে বেড়েছে উত্তর আমেরিকায়, ৭১ শতাংশ। একই সময়ে এশিয়ায় বেড়েছে ৩২ শতাংশ।

অধ্যাপক মনডেন বলেন, শিশুদের মধ্যে যমজ শিশুর মৃত্যুহারও বেশি। গর্ভধারণের সময়, জন্ম নেওয়ার আগে–পরে মা ও শিশুর জন্য জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে।

গবেষণা নিবন্ধটির আরেক সহ-লেখক জেরোয়েন স্মিথ বলেন, স্বল্প ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে জন্ম নেওয়া যমজ শিশুদের প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া দরকার। বিশেষ করে আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলে জন্ম নেওয়ার এক বছরের মধ্যে অনেক যমজ শিশুর একটি মারা যায়। আমাদের আগের একটি গবেষণা অনুসারে, প্রতিবছর এ মৃত্যুর সংখ্যা দুই থেকে তিন হাজার।

Print Friendly and PDF