চট্টগ্রাম, বুধবার, ৪ আগস্ট ২০২১ , ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ পেছাতে পারে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ১২ মার্চ, ২০২১ ৯:৪৬ : অপরাহ্ণ

দেশে গত কয়েকদিন ধরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ৩০ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার যে সিন্ধান্ত হয়েছিল তা পেছানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকদের নিরাপত্তা আগে।’

শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন বিষয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, করোনা সংক্রমণের চলমান ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। সরকার বিবেচনা করবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩০ মার্চ খুলবে নাকি পেছাবে। যদি পরিবর্তন হয় তাহলে জানানো হবে।

গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক ধাপে বাড়ানোর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন আগামী ৩০ মার্চ দেশের সব স্কুল-কলেজ খুলে দেয়া হবে।

এদিন তিনি বলেন, দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ২৪ মে থেকে শুরু হবে এবং হল খুলবে ১৭ মে। এর আগে সব ধরনের পাঠদান ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। ১৭ মে এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের করোনা টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া বিসিএস পরীক্ষার আবেদন ও পরীক্ষার তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে দুই মাস পর (৬১ দিন) গত ১০ মার্চ তার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনার শনাক্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়ায় বলে তথ্য দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেদিন ১ হাজার ১৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এর আগে সবশেষ টানা ছয় দিন হাজারের নিচে থাকার পর গত ৭ জানুয়ারি শনাক্ত হাজার ছাড়ায় (১ হাজার ৭ জন)। এরপর দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা কমতে থাকে। ৯ জানুয়ারি সাতশোর ঘরে (৬৯২) নামে। সর্বশেষ ২৫ জানুয়ারি ৬০২ জন শনাক্তের তথ্য জানানো হয়। এরপর পাঁচ সপ্তাহ ধরে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছয়শোর নিচে ছিল। এমনকি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তিনশোর নিচেও নেমেছিল দৈনিক শনাক্ত। এতে মানুষের মনে একটু স্বস্তি এসেছিল। তবে, এরপর গত ৩ মার্চ থেকে শনাক্তের সংখ্যা টানা তিনদিন (৬১৪, ৬১৯, ৬৩৫) ছয়শোর বেশি হয়। আর ১০ মার্চ হাজার ছাড়ায়।

আজ শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত নতুন এক হাজার ৬৬ জনসহ দেশে ৫ লাখ ৫৫ হাজার ২২২ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।আর নতুন ১৩ জনসহ ৮ হাজার ৫১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৯ হাজার ১৭২ জন।

Print Friendly and PDF