চট্টগ্রাম, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ , ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ


নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে বিএনপিতে প্রশ্ন


প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ৯:২৫ : পূর্বাহ্ণ

চার দফায় ২০১টি পৌরসভা নির্বাচনে জামানত হরিয়েছেন ধানের শীষের ৯১ মেয়র প্রার্থী। জয় পেয়েছেন মাত্র ১০ জন। পরাজিত কিংবা বিজয়ী, বিএনপির অনেক প্রার্থীই বর্তমান সরকারের আমলে আর কোন নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে নন।

তৃণমূলের নেতারাও বলছেন, এ ধরনের নির্বাচনে অংশ নেয়ায় মামলা হামলার পাশাপাশি আর্থিক, শারীরিক ও মানসিকভাবেও চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। অন্যদিকে, কেন্দ্র বলছে, বিএনপি ভোটে অংশ নিচ্ছে বলেই সরকারের চরিত্র জনগণ জানতে পারছে।

তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে উপজেলার পর পৌরসভার ভোটেও আছে বিএনপি।

এখন পর্যন্ত চার ধাপে অনুষ্ঠিত ২০১টি পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির ৯১ জন মেয়র প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। আর জয়ী হয়েছেন মাত্র ১০ জন। মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে হওয়া স্থানীয় পর্যায়ের এই নির্বাচনে এমন ফল মেনে নিতে পারছেন না ধানের শীষের প্রার্থীরা।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভার পরাজিত মেয়র প্রার্থী মোতাহার হোসেন মানিক বলেন, “নির্বাচনে প্রশাসনযন্ত্র প্রত্যক্ষভাবে; পুলিশ, মেজিস্ট্রেসি, রিটার্নিং অফিসার সবাই একযোগে সিল মারার মহৎসব করছে।”

বগুড়ার গাবতলি পৌরসভায় মেয়র পদে জয়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, “এটাকে নির্বাচন বলে না, এটা একটা তামাশা। আমি মনে করি, বিএনপির আর কোনো নির্বাচনে যাওয়া ঠিক না, এই সরকারের আমলে।”

দলটির তৃণমূলের নেতারাও এখন প্রশ্ন তুলছেন এ ধরনের নির্বাচনে অংশ নেয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে।

শরিয়তপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, “এই প্রহসনমূলক নির্বাচনে অংশগ্রহণ আর কতকাল করবো! আমরা যারা মাঠে আছি তারা তো অ্যাফেক্টেড। আমাদের টাকা যাচ্ছে, লুজার হচ্ছি। মামলা খাচ্ছি। আহত হচ্ছি, হসপিটালে যাচ্ছি। কিন্তু রেজাল্ট কি? জনহণকে যা জানানোর তা জানানো হয়ে গেছে। আমরা সরকারকে বলছি অবৈধ, আবার আমরাই এই সরকারের অধিনে নির্বাচনে যাচ্ছি। জনগণই এখন প্রশ্ন করছে-তোমরা কি চাচ্ছ?”

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি রাহাদুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, “ভোটার কেন আসছে না ভোট দিতে? কারণ আমাদের যে নেতৃত্ব সে নেতৃত্বের ওপর ভোটাররা বিশ্বাসী না।”

কেন্দ্রের নেতারাও চেষ্টা করছেন উত্তর খোঁজার।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, “জনগণ যাকে ভোট দেবে সেই আসবে, সেটাকে সামনে রেখেই আমরা বারবার নির্বাচনে যেতে চাই। নির্বাচনে না গেলে বলা হবে, ভয়ে যাচ্ছে না। আমরা জনগণকে দেখাতে চাই যে আমরা উদার।”

জাতীয় থেকে স্থানীয়- সব নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত ও তার ফলাফল দলে যে বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে তা বিবেচনা করার সময় এসেছে বলে মত আরেক নেতার।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমার ২০১৮ এর নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। আমাকে দু হাজার ভোট দেয়া হয়েছে। এই নির্বাচন কোনো নির্বাচন নয়। ভোট ডাকাতি হচ্ছে। মনে হয় এখন সময় এসেছে একটি ওপেন মাইন্ড নিয়ে শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ চেয়ারম্যানের একটা সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ দ্রুত- আমরা এ ধরনের নির্বাচনে আর যাব কিনা।

আসছে ২৮শে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচন।

Print Friendly and PDF