চট্টগ্রাম, সোমবার, ১ মার্চ ২০২১ , ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রামগড়ে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি!

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১২:২৩ : অপরাহ্ণ

রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি


ফেনী-খাগড়াছড়ি সড়কের বিভিন্ন হাট বাজারে এমনকি ইউপি পর্যায়ে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। বিভিন্ন বাজারে দোকানের সামনে গিয়ে হাতি শুঁড় উঁচিয়ে সালাম দিয়ে এবং গর্জন শুনিয়ে কিছু ক্ষেত্রে ভয় দেখিয়ে কৌশলে প্রতিটি দোকান থেকে ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা করে নিচ্ছে হাতির মাহুত।

বিভিন্ন ব্যস্ততম সড়কেও যাত্রীবাহী বাস বা ছোট যানবাহন থামিয়ে টাকা উঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। মাসে মাসে হাতির চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন খাগড়াছড়ি -ফেনী সড়কের পথচারী, যানবাহনের ড্রাইভার, মালিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) সকালে ফেনী -খাগড়াছড়ি সড়ক হয়ে হাতিটি জালিয়া পাড়া নেয়া হচ্ছে। এসময় রামগড় পৌরসভার সোনাইপুল ও রামগড় বাজারে প্রতিটি দোকানে ও ছোট-বড় যানবাহন থামিয়ে চলছে এই চাঁদাবাজি।

ব্যবসায়ীরা জানান, হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কৌশলী ওই মাহুত। পথচারী রুবেল হোসেন জানান, হাতিকে ১০ টাকার নিচে দিলে তা ছুড়ে ফেলে দেয়। আবার অবস্থা বুঝে ২০ টাকা বা তার বেশি দিলে হাতি শুঁড় দিয়ে চেপে ধরে নিয়ে তার পিঠে বসে থাকা মাহুতের হাতে তুলে দেয়। কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করছে।

সোনাইপুল বাজারের ব্যবসায়ী নুর নবী ও আরিফ জানান, হাতি দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালে ক্রেতারা ভয়ে দোকানে ঢুকে না বা ঢুকতে সাহস পায়না। তাই ওই বিড়ম্বনা এড়াতে দোকানিরা বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে হাতিকে দ্রুত বিদায় করে দেয়।

টমটম চালক ফারুক মিয়া জানান, সড়কে চলাচলকারী যানবাহন থামিয়ে টাকা আদায় করায় যাত্রীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। ভয়ে থাকে যাত্রীরা।

হাতির মাহুত রানার সাথে কথা বলতে চাইলে সে বারবার যায় পরে বলেন, তার হাতির খাবারের জন্য বাধ্য হয়ে দোকানে দোকানে ঘুরে বা বিভিন্ন গাড়ি থামিয়ে টাকা তুলতে হয়।

এ ব্যাপারে রামগড় থানা অফিসার ইনচার্জ মো: শামসুজ্জামান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বন্য প্রাণী অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও চাঁদাবাজি দুইটাই অপরাধ। তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান।

Print Friendly and PDF