চট্টগ্রাম, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ , ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বিল পাস, এইচএসসির ফল প্রকাশে আর বাধা নেই

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ১২:৩৭ : অপরাহ্ণ

অবশেষে প্রায় পৌনে ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। আইন সংশোধন করে সংসদে বিল পাসের মধ্য দিয়ে করোনা ভাইরাসের বিরূপ পরিস্থিতিতে বাতিল হওয়া গেল বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের বাধা কাটলো।

রবিবার (২৪ জানুয়ারি) শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সংসদে ‘ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১’ পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

এদিন বিলের ওপর দেয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১’, ‘বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১ সংসদে পাস হতে পারে।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা, কারিগরি ও মাদরাসা বোর্ড এর সংশোধিত আইন-২০২১ এর পৃথক তিনটি বিল উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী।

ওইদিন বিল উত্থাপনকালে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ বিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এইচএসসির ফলের জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অপেক্ষা করছেন। ফল প্রস্তুতও আছে। কিন্তু আইনে পরীক্ষা গ্রহণপূর্বক ফল দেয়ার বিষয়টি ছিল। কিন্তু এবার বৈশ্বিক করোনা সংকটের কারণে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমরা বিকল্প একটি পদ্ধতিতে আগের দুটি (জেএসসি-জেডিসি ও এসএসসি) পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে এইচএসসি ও সমমানের ফল দিতে যাচ্ছি। সে কারণে বর্তমান আইনটি সংশোধন করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর এই শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে।

দেশের ১১টি বোর্ডে এ বছর ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন শিক্ষার্থীর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। গত ১ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা ছিল এ পরীক্ষা। কিন্তু করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ায় পরীক্ষাও পিছিয়ে যায়।

তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় গেল বছরের ৭ অক্টোবর এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী।

একইসঙ্গে জেএসসি-জেডিসির ফলাফলকে ২৫ শতাংশ এবং এসএসসি ও সমমানের ফলকে ৭৫ শতাংশ বিবেচনায় নিয়ে এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করা হবে বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় দফায় দফায় এ ছুটি বাড়ানো হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে টিভিতে ক্লাস সম্প্রচার করা হচ্ছে। উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাস্তরে অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস চলছে।

এদিকে করোনা মহামারির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এ বছর এইচএসসি ও সমমানসহ প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী, অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করে সরকার। জেএসসি ও এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসির ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়। তবে অন্যান্য শ্রেণিগুলোতে পরীক্ষা ছাড়াই ‘অটো পাস’ ভিত্তিতে পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ করা হয়। আর মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতি গ্রহণ করে সরকার।

Print Friendly and PDF