চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১ , ৬ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

অন্যায়-অনৈতিক কাজে আমার ক্ষমতাকে ব্যবহার করবো না, নগরপিতা রেজাউল করিম

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ৩:৩২ : অপরাহ্ণ

অর্থ-বিত্তের প্রতি লোভ-লালসা অতীতেও ছিল না, এখনও নেই বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটির নতুন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আমি অতীতে কোন সময় কারও মুখাপেক্ষী হইনি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, ভবিষ্যতেও যেন আল্লাহ আমাকে কারও মুখাপেক্ষী না করেন, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া। আমি কথা দিতে পারি কোন, অন্যায়-অনৈতিক কাজে আমি আমার ক্ষমতাকে ব্যবহার করবো না।’

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় নগরের বহদ্দারহাটে নিজের বাসার সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য যা যা করা দরকার তাই করে যাবেন জানিয়ে রেজাউল বলেন, ‘কোনো প্রভাব, প্রতিপত্তি, লোভ, লালসা অতীতে যেমন আমাকে নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি, ভবিষ্যতে মেয়রের চেয়ারে বসার পরও আমাকে কেউ এক ইঞ্চিও বিচ্যুত করাতে পারবে না। কারণ অর্থবিত্তের প্রতি আমার লোভ লালসা নেই। অতীতেও ছিল না। আমি এটা পরিষ্কারভাবে আগেও বলেছি, এখনও বলছি।’

‘বুকে সাহস নিয়ে বলছি, চট্টগ্রামে এমন কোন ব্যক্তি নেই যিনি বলতে পারবেন, রেজাউল করিম চৌধুরী অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জন করেছে, অনৈতিক কাজ করেছে, কারও উপর নির্যাতন-অত্যাচার করেছে, কারও উপর জুলুম করেছে। নীতি বিসর্জন দিয়ে আমি কোনো কাজ করিনি। আমি নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়ে রাজনীতি করেছি। ভবিষ্যতেও নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়ে রাজনীতি করে যাবো, যতদিন বেঁচে থাকি।’ যোগ করেন মেয়র রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করতে গিয়ে প্রত্যেক মানুষের স্বপ্ন থাকে। স্বপ্ন না থাকলে কেউ এগুতে পারে না। আমারও স্বপ্ন ছিল, এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করা, মানুষের স্বার্থে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সেই সুযোগ দিয়েছেন, এজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আল্লাহ আমাকে মহান দায়িত্ব দিয়েছেন। এই দায়িত্ব যেন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করতে পারি, সেজন্য দোয়া চাই।’

পারিবারিকভাবে যা সম্পদ আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট জানিয়ে রেজাউল করিম বলেন, ‘চট্টগ্রামকে আমি পরিকল্পিতভাবে সাজাতে চাই। তবে এককভাবে নয়, সবাইকে নিয়ে। এককভাবে করলে ভুলত্রুটি থেকে যায়। চট্টগ্রামে অনেক জ্ঞানী-গুণি মানুষ আছেন, সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, পরিকল্পনাবিদ আছেন। সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে, তাদের পরামর্শ নিয়ে, যে পরামর্শ টেকসই হবে, বাস্তবসম্মত হবে সেটাকে গ্রহণ করে চট্টগ্রামকে সাজাতে চাই।’

নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘নগরবাসী আমার উপর যে আস্থা, বিশ্বাস রেখে ভোট দিয়েছেন, আমি চেষ্টা করবো আমার অঙ্গীকার শতভাগ পূরণ করতে। এক্ষেত্রে আমি আমার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবো।’

তিনি বলেন, ‘নগরের সমস্যা তো অনেক। চট্টগ্রামকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন একটি নগরীতে পরিণত করা, মশা থেকে মোটামুটি মুক্ত করা- এসব কাজকে অগ্রাধিকার দেব।’

১০০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির বিষয়ে রেজাউল বলেন, ‘১০০ দিন তো বেশি নয়। কথার ফুলঝুরি দিয়ে লাভ হবে না। রাস্তাঘাটের যে সমস্যা আছে সেগুলো সমাধান করে জনগণ যাতে স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারে, এটার উপর প্রথমে মনোযোগ দেব।’

এর আগে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত মেয়র পদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন রেজাউল করিম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শাহাদাত হোসেন পেয়েছেন ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট।

বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে স্থাপিত নির্বাচন কমিশনের অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এ ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান।

নান্দনিক নগরী গড়ে চট্টগ্রামবাসীর সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়া রেজাউল করিম পর্যটন রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তোলা, হোল্ডিং ট্যাক্স এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে সমন্বয়কের ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেছেন।

জলাবদ্ধতা নিরসন, ১০০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি, যানজট সমস্যা থেকে উত্তরণ, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, নালা-নর্দমা, খাল-নদী দখলদার উচ্ছেদ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নগরীর সবচেয়ে বড় সংকট জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পগুলো ঠিকমত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়ার কথাও বলেন রেজাউল।

Print Friendly and PDF