চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১ , ৮ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

উপকারী মালেককে ভুলতে পারছেন এলাকাবাসী

পাশাপাশি কবরে শায়িত হলেন দুই ভাইবোন, বাড়িতে শোকের মাতম

প্রকাশ: ৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ৮:০৬ : অপরাহ্ণ

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই

মালেক ও খালেক দুইভাই ছোটবেলা থেকে একসাথে চলাফেরা করতেন। দুইজনই আগ বাড়িয়ে সব সময় এলাকার মানুষের উপকার করতো। কারো সাথে দুই ভাইয়ের কোনদিন ঝগড়া হয়নি। তাদেরই একজন আব্দুল মালেক এখন না ফেরার দেশে। তাকে কিছুতেই ভুলতে পারছেন না এলাকাবাসী। পুরো এলাকার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত দুই ভাইবোন আব্দুল মালেক (২৩) ও সুমাইয়া আক্তার জেসমিনকে (১৪) পাশাপাশি কবরে শায়িত করা হয়েছে। শনিবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে দাফন করা হয়েছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিরসরাই উপজেলার ১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর বাওয়াছড়া সড়কে রেল লাইনে ছবি তুলতে গিয়ে দুই ভাইবোন মালেক ও জেসমিন মারা যান। শুক্রবার রাতে এ্যাম্বুলেন্স যোগে তাদের লাশ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ নিয়ে যাওয়া হয়।

নিহত মালেক ও জেসমিনের মামা ইমরান হোসেন জানান, শুক্রবার শেষ রাতে আমার ভাগিনা-ভাগনির লাশ মিরসরাই থেকে আমার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় আমার কড়ইতলী গ্রামে প্রথম জানাযা ও তাদের গ্রামের বাড়ি কৃষ্ণপুরে ২য় জানাযা শেষে দাফন করা হয়েছে। তিনি বলেন, কিছুতেই ভুলতে পারছি না তাদের। এভাবে একসাথে চলে যাবে কোনদিন ভাবতেও পারিনি বলে মুঠোফোনে হাউমাও করে কেঁদে উঠেন। তিনি আরো বলেন, আমার বোন, আর বেঁেচ থাকা এক ভাগিনা, ভগ্নিপতিকে আর মিরসরাই যেতে দেব না।এখন থেকে তারা আমার বাড়িতে থাকবে।

জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকায় ১৫ বছর ধরে স্ত্রী ২ ছেলে, ১মেয়েকে বসবাস করতে মোঃ নুরুল মোস্তফা। তিনি স্থানীয় প্যারাগন ফিড মিলে চাকুরী করেন। গত কয়েক বছর ধরে বাবার সাথে নিহত ছেলে মালেকও প্যারাগনে চাকুরী করেন। তাঁরা দক্ষিণ ওয়াহেদপুর গ্রামের আনোয়ারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। গত শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মালেক তাঁর মা শামছুন নেছা ও ছোট বোন জেসমিনকে নিয়ে পাশ্ববর্তি বাওয়াছড়া লেকে ঘুরতে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে রেল লাইনে ছবি তোলার সময় শ্রবণ প্রতিবন্ধি ভাই মালেককে বাঁচাতে গিয়ে বোন জেসমিনও ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। মহুর্তে আনন্দ বিষাদে পরিনত হয়েছে। সুমাইয়া আক্তার জেসমিন সরকারহাট এনআর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত।

ছেলে মালেক ও মেয়ে জেসমিনকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা শামছুননেছা ও বাবা নুরুল মোস্তফা। কিছুতেই আদরের দুই সন্তানকে ভুলতে পারছেন না তারা। বার বার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে মা।

ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ বলেন, খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। তারা ছোটকাল থেকে আমার এলাকায় বসবাস করছে। কোনদিন কারো সাথে তাদের দুকথা হয়নি। মালেক, খালেক দুই ভাই তারা সব সময় যে কোন কাজে এগিয়ে আসতো। মালেক ও তাঁর বোন মারা যাওয়ায় খুব কষ্ট লাগছে। শুক্রবার রাতে এ্যম্বুলেন্স যোগে তাদের লাশ গ্রামের বাড়িতে নেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

Print Friendly and PDF