চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১ , ৮ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফেইসবুকের ভার্চুয়াল মুদ্রা লিবরা জানুয়ারিতে আসছে

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর, ২০২০ ২:৫৫ : অপরাহ্ণ

ফেইসবুকের ক্রিপটোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রা লিবরা জানুয়ারি মাসে সীমিত পরিসরে চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

গত বছর জানুয়ারিতে ফেইসবুক ঘোষণা দেয়, ২০২০ সাল নাগাদ তারা নিজস্ব ভার্চুয়াল মুদ্রা লিবরার প্রচলন শুরু করবে। কিন্তু বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আপত্তির মুখে সেটি সম্ভব হয়নি।

বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরোধিতার মুখে ফেইসবুক কিছুটা সময় নেয়। তখন তারা একক স্থির-কয়েন পদ্ধতির কথা চিন্তা করে। এই ধরনের মুদ্রা ডলারসহ বিভিন্ন মুদ্রার বিপরীতে ব্যবহার করা যায়।

ভার্চুয়াল মুদ্রা আসলে কী?

এটি দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না। আনা যায় না ঘরে। রাখা যায় না ব্যাংকে। তবু বলা হচ্ছে মুদ্রা!

মনে করুন আপনার কাছে এক লাখ টাকা আছে। আপনি সেগুলো ব্যাংকে রাখতে চান না। আবার নিজের কাছেও রাখতে চান না। এমন একটা স্থানে রাখতে চান যেখান থেকে যে কোনো সময় নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারবেন, অর্থের মান আবার হঠাৎ করে কয়েক গুণ বাড়ার সম্ভাবনাও থাকবে। এটি করতে হলে ওই লাখ টাকা দিয়ে আপনাকে ভার্চুয়াল মুদ্রা কিনতে হবে।

বাংলাদেশের মুদ্রার নাম যেমন টাকা, আমেরিকার যেমন ডলার, ভারতের যেমন রুপি ভার্চুয়াল মুদ্রারও আলাদা, আলাদা নাম আছে। এমন প্রায় এক হাজার মুদ্রা প্রচলিত আছে।

সবচেয়ে জনপ্রিয় মুদ্রার নাম বিটকয়েন। সারা বিশ্বের হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এদের চুক্তি আছে। সেসব প্রতিষ্ঠানে বিটকয়েন দিয়ে কেনাকাটা করা যায়।

এটি মূলত ডিজিটাল মানি। অর্থাৎ অনলাইনে আপনার অ্যাকাউন্ট থাকবে, সেই অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল কোডের মাধ্যমে আপনার মুদ্রা সংরক্ষিত থাকবে।

লিবরা জমা রাখতে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ ‘ক্যালিব্রা’ নামের একটি সাবসিডিয়ারি চালু করছে, যা ডিজিটাল ওয়ালেট হিসেবে ভার্চুয়াল মুদ্রা সংরক্ষণ, আদান-প্রদান ও খরচ করার সুবিধা দেবে। ক্যালিব্রা ফেসবুকের কয়েক শ কোটি ব্যবহারকারীর মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। বিটকয়েনের জন্যও এমন আলাদা ওয়ালেট আছে।

যারা প্রোগ্রামিং এবং গণিতে দক্ষ তারা বিশেষ কম্পিউটার ব্যবহার করে জটিল হিসাব সমাধান করে এই ধরনের মুদ্রা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের থেকে নিজেদের অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসেন। যেমন বিটকয়েন নিজের অ্যাকাউন্টে আনার বা তৈরি করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘মাইনিং’। সারা বিশ্বে সর্বোচ্চ ২১ মিলিয়ন বিটকয়েন তৈরি হবে। এরপর আর কোনো বিটকয়েন তৈরি করা যাবে না। আপনি তৈরি করতে না পারলে টাকার বিনিময়ে কিনে ব্যবহার করতে হবে। ফেইসবুকের মুদ্রা কীভাবে তৈরি হবে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।

বিটকয়েনের সংখ্যা এমন সীমাবদ্ধ বলেই শেয়ারবাজারের মতো দর ওঠানামা করে। তাতে মানুষ এটি কিনতে বেশি আগ্রহী হয়।

Print Friendly and PDF