চট্টগ্রাম, রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০ , ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নগরীর চার খালে বসবে অত্যাধুনিক স্লুইস গেট, মুক্তি মিলবে জোয়ারের পানির কষ্ট থেকে

প্রকাশ: ১ নভেম্বর, ২০২০ ১:২৪ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য দেশে প্রথমবারের মত নেদারল্যান্ড থেকে কম্পোজিট ম্যাটেরিয়ালের স্লুইস গেট আমদানি করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। খবর পূর্বকোণ

বাংলাদেশে এই প্রথম অত্যাধুনিক কম্পোজিট ম্যাটেরিয়ালের স্লুইস গেট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী বছরের এপ্রিলে স্লুইস গেটগুলো দেশে আসার কথা রয়েছে। এই স্লুইস গেটগুলো বসানো সম্পন্ন হলে কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে জোয়ারের পানি শহরে প্রবেশ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেড প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহ আলী।

সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেড প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, জলাবদ্ধতা প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাঁচটি রেগুলেটর বা স্লুইস গেট বসাবে। এরমধ্যে চারটি স্লুইস গেট ছোট। যেগুলোতে দুইটি করে ভেন্ট (পানি যাওয়ার পথ) থাকবে।

প্রতিটি ভেন্টের সামনে ও পিছনে মোট দুটি করে গেট থাকবে। স্লুইস গেটগুলো বসানো হবে- কলাবাগিচা, মরিয়মবিবি, টেগপাড়া ও ফিরিঙ্গীবাজার খালে। অপর স্লুইস গেটটি বসানো হবে মহেশখালে। সেখানে ১২টি ভেন্ট ও ২৪টি গেইট থাকবে।

প্রকল্প সূত্রে আরো জানা যায়, জোয়ারের পানি যখন শহরের দিকে প্রবেশের জন্য চাপ দিবে, স্লুইস গেইটগুলো অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যাবে। অন্যদিকে ভাটার সময় শহরের বৃষ্টির পানি নদী বা সাগরে বের করে দিতে হলে পিছনের গেইট খুলে দিতে হবে।

সেই গেইটির মাধ্যমে বৃষ্টির পানি নদী বা সাগরে চলে যাবে। তবে জোয়ারের সময় বৃষ্টি হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গেইটের মাধ্যমে পানি বের হবে না।

সে ক্ষেত্রে পাম্পের মাধ্যমে পানি বের করত হবে। সেজন্য ফাইভ কিউবিক মিটারের বড় পাম্প থাকবে। এছাড়া, মহেশখালে নেভিগেশন লক (নৌযান চলাচলের পথ) থাকবে। যেগুলো প্রায় ২০ ফিট প্রশস্ত হবে। নৌকা যাওয়ার সময় গেট খুলে দিবে এবং অন্যান্য সময় গেট বন্ধ থাকবে।

জানতে চাইলে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেড প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহ আলী বলেন, “চট্টগ্রাম শহরের দীর্ঘদিনের ও প্রধানতম একটি সমস্যা জলাদ্ধতা।

নেদারল্যান্ড থেকে কম্পোজিট ম্যাটেরিয়ালের যে স্লুইস গেট আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেটির মাধ্যমে জোয়ারের সময় যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, সেটি বন্ধ হবে। এই গেটগুলো বসানো সম্পন্ন হলে, জোয়ারের পানিকে শহরে প্রবেশের মুখে আটকে দেবে।

তবে বৃষ্টির পানি থেকে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে হলে ড্রেন ও খালের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। ড্রেনের মাধ্যমে যখন বৃষ্টির পানি খালে প্রবেশ করবে। খালের প্রবেশ মুখ থেকে পাম্পের মাধ্যমে পানি সরিয়ে নেয়া হবে।”

নেদারল্যান্ড থেকে কম্পোজিট ম্যাটেরিয়ালের স্লুইস গেট এপ্রিলে আসবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে নেদারল্যান্ডের সাপ্লাইয়ারের সাথে মিটিং করেছি এবং তাদের প্রেজেন্টেশন দেখেছি। ওই প্রেজেন্টশনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিনিয়ন সচিব উপস্থিত ছিলেন।

গেইটগুলো কেমন হবে, সেই তথ্য আমরা নেদারল্যান্ডের কোম্পানিকে দিয়েছি। তারা সে তথ্য অনুযায়ী ড্রয়িং-ডিজাইন করেছে। এখন গেটগুলো প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং আগামী বছরের এপ্রিলে আমরা এটি পাবো বলে আশা করছি।’

বাংলাদেশে এই প্রথম কোন স্লুইস গেটে কম্পোজিড ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হচ্ছে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহ আলী বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিজাইন ছিল, স্লুইস গেট বসানোর ক্ষেত্রে এমএস শিড বা মাইল্ড স্টিল শিড ব্যবহার হবে। এগুলো পানির মধ্যে থাকতে থাকতে মরিচা ধরে যায়।

গেটগুলো কিছুদিন উঠা-নামা না করলে জং ধরে অকার্যকর হয়ে পড়ে। কম্পোজিড ম্যাটেরিয়াল ব্যবহারের ফলে এই গেটগুলো নষ্ট হয় না। এগুলো রাভার পেড টাইপের হওয়াতে মরিচা বা জং ধরার কোন সম্ভাবনা নেই। এছাড়া, বিভিন্ন উন্নত দেশে এগুলো ব্যবহার হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিডিএ’র ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক।

তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ সমুয় ২০২০ সালের জুন মাস। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০১৮ বছরের ৯ এপ্রিল সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর করে সিডিএ। এরপর ২৮ এপ্রিল প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং চলতি বছরের ২ জুলাই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়।

Print Friendly and PDF

———