চট্টগ্রাম, রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০ , ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আজ ফটিকছড়ির লেলাং গণহত্যা দিবস

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর, ২০২০ ১২:৩৭ : অপরাহ্ণ

মুহাম্মাদ নাছির উদ্দিন,ফটিকছড়ি:

আজ ২১ নভেম্বর ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এদিনে পাক হানাদার বাহিনী তাদের এ দেশিয় দোসর রাজাকারদের সহযোগিতায় লেলাং ইউনিয়নের গোপালঘাটা ও শাহনগর গ্রামে হানা দিয়ে ২৯জন নিরপরাধ মানুষকে নির্মম ভাবে হত্যা করে।

সেদিন ছিল মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ উল ফিতরের দিন। হানাদারদের আক্রমনে ঈদের আনন্দ মাটি করে দিয়ে এলাকায় নেমে আসে শোকের বিভীষিকা। দেশ মাতৃকার মুক্তির সোপানে যাঁরা সেদিন প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন,তাদের নামটিও শহীদের তালিকায় এখনো স্থান পায়নি। যা ভাবলে সেসব শহীদের স্বজনদের মনে আজো পীড়া দেয়।

সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয়রা জানান, ঈদের দিন সকাল ১০টার দিকে পাক বাহিনীর ২০/৩০ জনের একটি অস্ত্র সজ্জিত দল পার্শ্ববতী কর্ণফুলী চা বাগানের দিক থেকে প্রথমে গোপালঘাটা গ্রামে হানা দেয়। তখন মানুষ সবে মাত্র ঈদের নামাজ সেরে পরিবার পরিজনের সাথে কোলাকুলিতে ব্যস্ত।

এমন সময় হানাদারের দল গোপালঘাটা গ্রাম থেকে বেশ কয়েকজনকে ধরে গোপালঘাটা আর পাশের গ্রাম শাহনগরের মাঝখানে মনাইছড়ি খালের পাড়ে নিয়ে আসে। অতপর শাহনগর গ্রাম থেকে আরো বেশ কয়েকজনকে ধরে খালের পাড়ে নিয়ে এসে সেখান থেকে বেছে বেছে ৩০ জনকে রেখে বাকীদের ছেড়ে দেয়। এ ৩০ জনকে মনাইছড়ি খালের পাড়ে হাত বেঁধে দাড় করিয়ে এক পাঞ্জাবী ক্যাপ্টেন ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে খালের পাশে একটি ডোবার মধ্যে ফেলে মাটি চাপা দিয়ে চলে যায়। হত্যাযজ্ঞ শেষ করে পাক আর্মিরা চলে গেলে সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ছৈয়দুল হক নামে একজনকে জীবিত পাওয়া যায়। তাকে গ্রামবাসী উদ্ধার করে গোপনে চিকিৎসা দিয়ে ভালো করে তোলে।

এসব শহীদদের নাম শহীদি তালিকায় এখনো অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি। এদের জন্য হয় না কোন স্মরন সভা। শুধু চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের অর্থায়নে একটি স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে, আজ ২১নভেম্বর গণহত্যা দিবস স্বরণে কোন কর্মসুচী পালনের উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

সেদিন পাক বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছিলেন- মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মুহাম্মদ ইউনুস, নুর আহমেদ, আফসার আহমেদ, নুরুল ইসলাম, মুহাম্মদ এয়াকুব, মুহাম্মদ নুরুল আলম,মুহাম্মদ রুহুল আমিন, মুহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ, ফয়েজ আহমদ, জগির আহমেদ, চিকন মিয়া, জনুর আহমেদ, মুহাম্মদ ইদ্রিস, মুহাম্মদ সোলেমান, বজল আহমদ, জমিল উদ্দিন, রফিকুল আলম, রমেশ চন্দ্র নাথ,সুরেশ লাল নাথ,গৌরহরি নাথ, কৃষ্ণহরি নাথ, সুধাংশু বিমল নাথ, হরিপদ নাথ, বিপিন চন্দ্র নাথ, নগরবাসী নাথ, হরিলাল নাথ, হরিধর নাথ, ক্ষেমেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য্য নাথ।

Print Friendly and PDF

———