চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০ , ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের আওতায় প্রতিরক্ষা চুক্তি করবে না বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর, ২০২০ ১:০৯ : অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধিন প্রস্তাবিত ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল (আইপিএস) জোটের আওতায় বাংলাদেশ অস্ত্র কিনতে রাজি নয়। বরং দেশটি তার অবকাঠামো খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ চায়। খবর ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

আইপিএস সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এই পত্রিকাকে বলেন, তারা অস্ত্র বিক্রি করতে চায়। কিন্তু আমরা সংঘাত-সংশ্লিষ্ট কোন ইস্যুতে আগ্রহী নই।

বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট স্টিফেন বিগানকে তার ঢাকা সফরকালে অবহিত করা হবে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) থেকে তার তিন দিনব্যাপী এই সফর শুরু হচ্ছে।

বাংলাদেশ মনে করে আইপিএস কৌশলের আওতায় অবকাঠামো নির্মাণ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ লাভ করা গেলেই সেটাই ফলপ্রসূ হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল নিয়ে আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু তারা যদি আইপিএস-কে বেশি কার্যকর করতে চায় তাহলে তাদেরকে অবকাঠামো উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের যুক্তরাষ্ট্রের কোন অবদান নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তাদেরকে টাকা খরচ করতে হবে। শুধু কথা বললে হবে না, তাদেরকে বিনিয়োগ করতে হবে। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি বলেন, তারা চাইলে এটা করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কাছে অ্যাপাচে হেলিকপ্টারসহ অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির যে উদ্যোগ নিয়েছিলো তা সফল হয়নি। এসব অস্ত্র বিক্রি নিয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা আলোচনা করার কথা মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন। এসব অস্ত্রকে তারা বিশ্বসেরা বলে দাবি করেন।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউটের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমান বিশ্বে চীন পঞ্চম বৃহৎ অস্ত্র রফতানিকারক এবং ভারত বাদে এই অঞ্চলের বেশিরভাগ অস্ত্র তারা রফতানি করে। ভারত হলো চীনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী।

২০১৩-১৭ মেয়াদে চীনের রফতানি অস্ত্রের ৩৫ শতাংশ গেছে পাকিস্তানে। এরপর বাংলাদেশের অবস্থান, ১৯%। গত পাঁচ বছর মেয়াদে ঢাকা তার ৭১% অস্ত্র চীন থেকে কিনেছে। মিয়ানমার কিনেছে তার ৬৮% অস্ত্র।

এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় তা মোকাবেলা করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আইপিএস গ্রহণ করে। এই কৌশলকে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) দমানোর উদ্যোগ বলে মনে করা হয়। বিআরআই-এর বড় অংশীদার বাংলাদেশ। এর আওতায় অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশকে ২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন।

এ অঞ্চলের যেসব দেশ চীনের বিআরআই-এর অংশীদার সেগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক চাঙ্গা করতে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে আগ্রাসী কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্টিফেন বিগানের সফরকে এই উদ্যোগের অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সম্ভাব্য এজেন্ডা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন যে বিগানের সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের আলোচনায় আইপিএস গুরুত্ব পাবে। তবে রোহিঙ্গা, ভিসা ও কোভিড সহযোগিতার মতো ইস্যুগুলোও সামনে আসবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলবো এবং বলবো যে আমরা শুধু মানবিক ত্রাণ সহায়তা পেলেই সন্তুষ্ট হবো না। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো তাদেরকে ফেরত পাঠানো। তাদেকে মিয়ানমারে ফেরত যেতে হবে।

বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদেরকে ভিসা না দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন ড. মোমেন। এসব শিক্ষার্থী আমেরিকান প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আই-২০ পেয়েছিল।

তিনি বলেন, আই-২০ পাওয়ার পরও তারা বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের ভিসা দেয়নি। অথচ ভারত ও পাকিস্তানের একই ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীরা ভিসা পেয়েছে। এটা বৈষম্যমূলক। কারণ কোডিভ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থা অনেক দেশের চেয়ে ভালো। এদেশে কোভিড-এর প্রভাব তেমন পড়েনি।

মন্ত্রী বলেন, এখনো তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের ভিসা দিচ্ছে না। এটা ভালো না। আমরা আমাদের গার্মেন্ট খাতের জন্যও সাহায্য চাইবো, কোভিডে এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই খাত যেন কোভিড-এর ধকল কাটিয়ে উঠতে পারে সেজন্য তারা তিন বছর শুল্ক আদায় বন্ধ রাখতে পারে।

Print Friendly and PDF

———