চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০ , ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারে ‘উন্মুক্ত কারাগারে’ বাস করছে রোহিঙ্গারা

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর, ২০২০ ১২:০৮ : অপরাহ্ণ

মিয়ানমারের সঙ্ঘাত কবলিত রাখাইন রাজ্যের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে যে প্রায় ১৩০,০০০ রোহিঙ্গা মুসলিম বাস করছে, তারা ‘মানবেতর ও দুর্দশা’র মধ্যে বাস করছে বলে মন্তব্য করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। বৃহস্পতিবার সংগঠনটি দাবি করেছে যাতে তাদের এই যথেচ্ছাচার অনির্দিষ্টকালের আটকাবস্থার অবিলম্বে অবসান ঘটানো হয়।

এইচআরডাব্লিউ বলেছে যেভাবে মূলত মুসলিম রোহিঙ্গাদের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে আটকে রাখা হয়েছে, সেটাকে ‘খোলা কারাগার’ বলা চলে।

রিপোর্টের লেখক শাইনা বাউকনার বলেন, “মিয়ানমার সরকার আট বছর ধরে ১৩০,০০০ রোহিঙ্গাকে অমানবিক পরিবেশে আটকে রেখেছে, তাদেরকে বাড়িঘর, জমি এবং জীবিকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে, এবং পরিস্থিতির উন্নতির কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না”।

২০১৭ সালের আগে মিয়ানমারে প্রায় এক মিলিয়নের মতো রোহিঙ্গা ছিল। বহু প্রজন্ম ধরে তারা সেখানে বাস করে আসছে, কিন্তু সরকার তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসী মনে করে এবং তাদেরকে নাগরিকত্ব দিতে বা এমনকি রোহিঙ্গা হিসেবে উল্লেখ করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

২০১৭ সালে সামরিক এক ষাঁড়াশি অভিযানের সময় প্রায় ৭৫০,০০০ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এখন জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মিয়ানমারে যে ২৫০,০০০ এর কিছু বেশি রোহিঙ্গা অবশিষ্ট আছে, তাদের মধ্যে কমপক্ষে ১০০,০০০ জন শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে বাস করছে এবং ২০১২ সালের সহিংসতার সময় থেকে তারা সেখানে বাস করে আসছে।

রাখাইনের বিভিন্ন গ্রামে আরও হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাস করছে। কিন্তু তারা সামরিক বাহিনীর ভয়ে ভীত।

তাদের সমস্যা জটিল হওয়ার আরেকটি কারণ হলো জাতিগত রাখাইন সশস্ত্র গ্রুপ আরাকান আর্মির সাথে সামরিক বাহিনীর সঙ্ঘাত সম্প্রতি অনেক বেড়ে গেছে।

‘বাসযোগ্য নয়’

এইচআরডাব্লিউ নতুন ১৬৯ পৃষ্ঠার যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বৃহস্পতিবার, এতে বলা হয়েছে যে, শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে যে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাস করছে, তারা জীবিকার ব্যাপারে অনেক ‘সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছে এবং তাদের চলাফেরার উপরও বিধিনিষেধ রয়েছে।

রিপোর্টে এক রোহিঙ্গা ব্যক্তির উদ্ধৃতি দেয়া হয়, যিনি বলেছেন যে, “এই ক্যাম্প আমাদের জন্য বাসযোগ্য নয়”।

রাখাইনকে ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে এবং বিদেশী সাংবাদিকদের সেখানে যাওয়ার সুযোগ নেই। শুধুমাত্র সরকারপন্থীরা পূর্ব থেকে নির্ধারিত সফরে নিয়ে গেলেও তাদের পক্ষে সেখানে যাওয়া সম্ভব। চলতি বছরের শুরুর দিকে আল জাজিরা সেখানি গিয়ে দেখতে পায় তারা মানবেতর পরিবেশে কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক ভয়ের মধ্যে বাস করছে।

এইচআরডাব্লিউ রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ক্যাম্পে বসবাসের পরিবেশ রোহিঙ্গাদের জীবনধারণের অধিকার ও মৌলিক অধিকারের উপর উত্তরোত্তর হুমকি সৃষ্টি করছে”। কমিউনিটির সদস্যরা আরও বেশি অপুষ্টি ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে।

Print Friendly and PDF

———