চট্টগ্রাম, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০ , ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাত-বাহরাইনের ‘চুক্তি’ সই

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১০:৫৩ : পূর্বাহ্ণ

ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আনুষ্ঠানিক ‘চুক্তি’ করেছে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের দাবিতে ফিলিস্তিনি জনগণের কয়েক দশকের সংগ্রামকে পাশ কাটিয়েই এ চুক্তি করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক এ চুক্তিকে ‘নতুন মধ্যপ্রাচ্যের সূর্যোদয়’ বলে প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দুপুরে তিন দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’ স্বাক্ষর হয়।

যদিও এ চুক্তি নিয়ে ফিলিস্তিন ও বিভিন্ন মুসলিম দেশ দেশ দু’টির ব্যাপক সমালোচনা করেছে। আবার মিসর, ওমান ও জর্ডান সহ অনেক দেশ স্বাগতও জানিয়েছে। আবার মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে এ চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর কৌশলগত সখ্যতার বিষয়টিও আরও স্পষ্ট হবে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ইসরায়েলও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নিরাপত্তাহীনতা সম্পর্কে চিন্তামুক্ত থাকতে পারবে।

ট্রাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত মঙ্গলবারের এ অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ আল জায়ানি নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তিন দেশই চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে হোয়াইট হাউসে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ঘটনাবহুল একটি সময়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। যে সময়ে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন কয়েক দশকের বিরোধ নিষ্পত্তি ছাড়াই প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পরে বাহরাইন তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয়।

এই চুক্তির মাধ্যমে তৃতীয় ও চতুর্থ আরব দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে অঙ্গীকারাবদ্ধ হবে। এর আগে ১৯৭৯ সালে মিশর এবং ১৯৯৪ সালে জর্ডান ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ফিলিস্তিনিদের বিরোধিতা ও তীব্র প্রতিবাদের মুখেও মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে দুটি আরব দেশের ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা ট্রাম্পের অভাবনীয় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সমবেত অতিথিদের উদ্দেশে ট্রাম্প এই চুক্তির প্রশংসায় বলেছেন, “কয়েক দশকের বিভক্তি এবং সংঘাতের পর আমরা নতুন মধ্যপ্রাচ্যের যাত্রা শুরু করলাম। আমরা আজ ইতিহাসের পথপরিক্রমা বদলে দিতে এখানে সমবেত হয়েছি।”

ওদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “আজ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় শুরুর দিন। এর মধ্য দিয়ে শান্তির নতুন ভোরের সূচনা হল।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এ চুক্তিকে একটি বড় ধরনের অগ্রগতি উল্লেখ করে বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে সব ধর্মীয় বিশ্বাসের মানুষই একযোগে শান্তি ও সমৃদ্ধির মধ্যে বাস করবে। আজ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের তিনদেশ একসঙ্গে কাজ করতে চলেছে; তারা এখন বন্ধুও, বলেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রেসিডেন্ট তার মেয়াদের পুরোটা সময়জুড়েই এ ধরনের কূটনৈতিক সফলতা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। এজন্য উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে কয়েক দফা সাক্ষাৎও করেছেন তিনি, যদিও পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে কার্যকর কোনো সমাধানে তিনি পৌঁছাতে পারেননি।

ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাত ও বাহরাইনের ‘শান্তি চুক্তি’ ৩ নভেম্বর হতে যাওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইসরায়েলপন্থি অ্যাভেঞ্জেলিকাল খ্রিস্টানদের ভোট টানতেও বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। রিপাবলিকান ঘাঁটিগুলোতে জয় নিশ্চিত করতে এ ভোটারদের সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের জন্যও এ চুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ভেতর দিয়ে দেশদুটি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তার এবং তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিকাশ নিয়ে তাদের যৌথ উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাল বলেও ধারণা অনেকের। আর উদ্বেগের কারণেই আরব আমিরাত এবং বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করল বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

ইরান শুরু থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাত ও বাহরাইনের চুক্তির বিরোধিতা করে আসছে। এখন দেখার বিষয় আমিরাত ও বাহরাইনের পর কোন আরব দেশ সম্পর্ক স্থাপনের এগিয়ে আসে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুব শিগগিরই আরও অন্তত পাঁচ/ছয়টি দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিচুক্তির পথ অনুসরণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তবে ফিলিস্তিনিরা ইসলায়েলের সঙ্গে তাদের সংঘাতের সামাধান না হওয়া পর্যন্ত কাউকে এমন চুক্তি না করার আহ্বান জানিয়েছে।

আরব দেশগুলো কয়েক দশক ধরেই ইসরায়েলকে বয়কট করে এসেছে। তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে তাদের শর্ত ছিল, আগে ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইসরায়েলের বিরোধের অবসান ঘটতে হবে।

Print Friendly and PDF

———