চট্টগ্রাম, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ , ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

গৃহহীনদের দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মান প্রকল্প

অন্যের ঘর দেখিয়ে বিল উত্তোলন!

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১১:০৫ : পূর্বাহ্ণ

করিম শাহ, রামগড় (খাগড়াছড়ি)প্রতিনিধি

খাগড়াছড়ি’র রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ২ নং ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে ২০১৮- ২০১৯ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষন (টিআর) কর্মসুচীর আওতায় গৃহহীনদের জন্য সরকারী অর্থে ২৫ টি দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মান প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া সব গুলা ঘর নির্মান শেষ হলেও একটি ঘর নির্মানে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ার্ড মেম্বারের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে ২ নং পাতাছড়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ মহিনউদ্দিন কে এই বাসগৃহ নির্মানের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে মহিনউদ্দিন সে বাসগৃহ সময় মত সম্পূর্ণ করতে পারেননি, যা বর্তমানে অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, কিন্তু বাসগৃহ সম্পূর্ণ নির্মান না করেও সে ঘর তৈরীর নির্মানের সব অর্থ অন্যের ঘর দেখিয়ে বিল উত্তোলন করে প্রকল্প চেয়ারম্যান।

কর্মসুচী আওতায় গৃহহীন মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন (পিতা সুবেদ আলী) জানান, সরকারী অর্থে আমার দলিলকৃত জায়গায় পরিষদ থেকে আমার নামে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে গ্রামীন অববাঠামো টি, আর কর্মসুচী গৃহহীনদের জন্য যে দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মানে প্রকল্পে একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়, কিন্তু সবার ঘর নির্মান হয়ে গেলেও আমার ঘরটি অসম্পূর্ণ রয়ে যায়, আমি ঘর নির্মানের জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত মেম্বার কে বললে সে আমাকে বিভিন্ন খারাপ ভাষায় গালি দিয়ে থাকে, গত ২বছরেও আমার নামে ঘরটি আমি বুঝে পাইনি।

এবিষয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনিদ্র ত্রিপুরা ও রামগড় সাবেক নির্বাহী অফিসার উম্মে ইসরাত বার বার মেম্বার মহিনউদ্দিন কে বলেছেন তবুও সে কারো কথা শুনেন নাই, আমার ঘর তো দুরের কথা বরং রাতের অন্ধকারে আমার জায়গা থেকে মাটি কেঁটেও নিয়ে যায়, এতে বাঁধা দিলে সে আমাকে মেরে পেলার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে, আমি ভয়ে আর ঘরের বিষয়ে কাউকে কিছু বলতে পারি না।

তিনি আরো জানান সেপ্টেম্বর মাসের ২/৩ তারিখে আমি আমার জায়গাতে সরকারি ঘরে বিষয়ে মেম্বার মহিউদ্দিনের সাথে কথা বললে সে আমাকে পাতাছড়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে মারধর করে পরিষদ থেকে বের করে দেয় এবং বেশী বাড়াবাড়ি করলে মেরে পেলার হুমকী দেয়। তিনি তার জায়গা উদ্ধার ও আধানির্মিত ঘরটি নির্মাণ করে তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবী জানান।

এবিষয়ে মহিনউদ্দিন মেম্বার এর সাথে কথা বললে সে বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে গেছেন, নির্মান কাজ শেষ না করে, কি ভাবে বিল তুলা হয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি কোন সৎ উত্তর দিতে পারেননি।

২নংপাতাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, ঘরটি এখনো আংশিক নির্মান কাজ বাকী রয়েছে, তবে তা সম্পন্ন করে দ্রুত তোপাজ্জলকে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে। তবে তোফাজ্জলকে তার সামনে গালমন্দর বিষয়ে স্বীকার করলেও মারধর ও হুমকীর বিষয়টি সঠিক নয় বলে তিনি জানান।

এই বিষয়ে রামগড় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মনছুর আলী বলেন ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে গ্রামীন অবকাঠামো টি আর কর্মসুচীর আওতায় গৃহহীদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মান প্রকল্পের কাজ অনেক আগেই শেষ করা হয়েছে। কাজটি কেন হয়নি তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারি কমিশনার (ভুমি) সজিব কান্তি রুদ্র বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। তদন্ত করে অপরাধ প্রমাণিত হলে পরবর্তীত্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly and PDF

———