চট্টগ্রাম, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০ , ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পর্যটন সম্ভাবনাময় মিরসরাইয়ের সাহেরখালী সমুদ্র সৈকত

প্রকাশ: ২২ আগস্ট, ২০২০ ৮:২৫ : অপরাহ্ণ

এম মাঈন উদ্দিন

ঝর্ণার রানী হিসেবে আগেই সুখ্যাতি লাভ করেছে পরিচিত চট্টগ্রামের মিরসরাই। পাশপাশি একাধিক পর্যটন স্পট থাকায় দেশের ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের কাছে অতি পরিচিত এই উপজেলা। অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা মিরসরাইয়ে একদিকে পাহাড় অন্যদিকে সাগর। আর ভ্রমণপিপাসুরা চায় এমনই একটি স্থান। আঁকা বাঁকা পথে পাহাড় ভ্রমণ কিংবা সাগর। কোলাহল মুক্ত এমননি একটি সাগরের খোঁজে ছুটে চলেন ভ্রমনপিপাসুরা। উপজেলার শাহেরখালী ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকায় সমুদ্র সৈকতের আবিস্কার করছে স্থানীয় ভ্রমণপিপাসুরা৷ যা ইতোমধ্যে “মিরসরাই সি-বিচ” নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

সম্প্রতি জেগে উঠা চরের পাশ ঘেঁষে গড়ে উঠছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্পনগর। শাহেরখালী বেড়িবাঁধের স্লুইসগেট এলাকা থেকে প্রায় ৩/৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সাগরের মোহনায় নির্মাণ করা হয়েছে আরো একটি স্লুইসগেট। যা দিয়ে নিয়ন্ত্রন করা হবে উপকূলের পানি। চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। নির্মাণ করা হয়েছে আরো একটি বেড়িবাঁধ। মূলত বেড়িবাঁধের পুর্বাংশে গড়ে উঠছে শিল্প কারখানা। এর পশ্চিম অংশে জেগে উঠেছে বিশাল চর। কবি নজরুলের সেই কবিতাটির কথা মনে পড়ে যায়, নদীর এ-কূল ভাঙে, ও-কূল গড়ে এই তো নদীর খেলা। সকাল বেলার আমির রে ভাই, ফকির সন্ধ্যাবেলা রে ভাই!

আর এই চরকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছেন মিরসরাই ভ্রমণপিপাসুরা। প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত পর্যটক। দেখতে পতেঙ্গা সি-বিচ এর মতো হওয়ায় স্থানীয়রা মিরসরাই সি-বিচ নামেই দেখছে এই বিচকে। বেড়িবাঁধ জুড়ে সবুজের সমারোহ, খেজুর আর নারিকেল গাছের সারি, পাখিদের কোলাহল, কিছুদূর পর পর সাগরের সাথে মিশে যাওয়া ছোট ছোট খালের অবিরাম বয়ে চলা, বাঁধের পূর্বে গ্রামীণ জনপদ আর পশ্চিমে সাগরের কোল জুড়ে ম্যানগ্রোভ বন। এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবে যে কেউ। কিছুদূর পার হলে শোনা যায় বঙ্গোপসাগরের ডেউয়ের গর্জন। খেজুর, নারিকেল আর ঝাউ গাছের সারি। বিস্তৃত চরজুড়ে কেওড়া গাছের সমহার। রয়েছে হরেক রকমের বৃক্ষ। পূর্বে তাকাতেই দেখা মিলে বিস্তীর্ণ মাঠে সোনালী ফসল, আপন মনে কাজ করছে কৃষক।

পশ্চিমে তাকালে চোঁখ যতদূর যায় সবুজ আর সবুজ। পথে পথে দেখা মিলে সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। চিংড়ি ঘের আর মাছের চাষ। স্লইসগেইট ঘেঁষে জেলেদের ব্যস্ততা, সাগর থেকে মাছ নিয়ে ফেরে জেলেরা। কেউ জাল বুনে অবসরে, কেউ আবার উত্তাল সাগরে নৌকা ভিড়ায়।

লাল কাঁকড়া, সাগরের বিভিন্ন জাতের কাঁকড়া ভেজা মাটিতে ছোট ছোট গর্তে মুখ তুলে থাকে, পায়ে হাটতে দেখা মিলে মুখ তুলে থাকা সাগরের বিভিন্ন মাছ। সবুজ বনায়নজুড়ে হরিণের পায়ের পদচিহ্ন। কখনও কখনও দেখা মিলে হরিণেরও। সন্ধা হলেই শোনা যায় শিয়ালের ডাক। শীতের মৌসুম খেজুরের মিষ্টি রসের স্বাদ, আর মহিষের দুধের চা খেয়ে মুহুর্তেই দূর হবে শরীরের ক্লান্তি। সকালের সূর্যের আলোয় ঝিলমিল করে সাগরের ঢেউ। বিকেলে মিষ্টি রোদ আর সূর্যাস্তের সৌন্দয্যের মন কেড়ে নিবে যে কারোই।

সম্প্রতি পর্যটনে মুখর হয়ে উঠছে শাহেরখালী সি-বিচ। প্রতিদিন ভীড় করছে শত শত পর্যটক। ঘুরতে আসা এমনই দুই বন্ধুর সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। গোলাম কাউসার ও আলী রিয়াদ বলেন, মিরসরাইয়ে এতো সুন্দর সি-বিচ রয়েছে তা ভাবতেই ভালো লাগছে। কোলাহল মুক্ত পরিবেশ, পাখির কলকাকলী, বিশুদ্ধ বাতাস, লাল কাঁকড়া, বনের ভেতর হরিণের আনাগোনা আর নৌকা ভ্রমন সত্যি অসাধারণ। ফ্যামিলি নিয়ে ঘুরতে আসাও মন্দ হবেনা। তারা আরো বলেন, যাতায়াত ব্যবস্থা আরো উন্নত হলে ভালো হতো। তাদের দাবী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা যদি সু-নজর দেয় যাতায়াতের ব্যবস্থা আরো উন্নত হলে স্থানীয়সহ পর্যটকদের সুবিধা বাড়বে।

কিভাবে যাবেনঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড়তাকিয়া থেকে সিএনজি যোগে আবুতোরাব, সেখান থেকে পায়ে হেটে যেতে চাইলে আবুতোরাব থেকে আনন্দরহাট পর্যন্ত সিএনজিতে যেতে হবে। সেখান থেকে কিছুদূর হেটে মায়ানী-শাহেরখালী সাঁকো পার হয়ে ১ কিলোমিটার হেটে পৌঁছাতে পারবেন শাহেরখালী বেড়িবাঁধ। অথবা রিজার্ভ সিএনজিতে গেলে আবুতোরাব, আনন্দরহাট, নিজামপুর ও ভোরের বাজার থেকেও যেতে পারেন।

Print Friendly and PDF

———