চট্টগ্রাম, রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ , ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মেজর (অব.) সিনহা নিহতের ঘটনায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ৭ আগস্ট, ২০২০ ৭:০৯ : অপরাহ্ণ

মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ নিহতের ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যার ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি যে সুপারিশ করবে, সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

পুলিশের দায়ের করা মামলায় সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের সঙ্গে থাকা লোকজন, যাদের কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে তাদের ভবিষ্যৎ কী? এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়টিও আমাদের নজরে রয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশে এদের বিষয়টিও আশা করছি থাকবে।’ তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দেখে এদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

‘অনুমতি ছাড়া বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান চালানো যাবে না’—স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিযান বন্ধ নেই। অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েরও একটি নির্দেশনা রয়েছে। যেখানে অভিযান প্রয়োজন হবে, অবশ্যই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালানো হবে।

গেলো শুক্রবার রাতে কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। করা হয় মামলা। দাবি করা হয় মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের।

আলোচনা সমালোচনায় গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। বুধবার পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয় মামলা। তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় র‌্যাবকে। বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সেনা ও পুলিশ প্রধান। বলা হয় প্রভাবমুক্ত তদন্তের।

পরের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশের চট্টগ্রাম পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের কথা জানান মামলার অন্যতম আসামি টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ সাহা। পুলিশ প্রহরায় নিয়ে যাওয়া হয় কক্সবাজারে। আগেই আত্মসমর্পণের জন্য আদালতে ছিলেন প্রধান আসামি লিয়াকত সহ অন্য ছয় আসামি।

আদালত জামিন না মঞ্জুর করে নির্দেশ দেন কারাগারে পাঠানোর। কিছুক্ষণ পর র‌্যাব আবেদন করে আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ডের।

শুনানি শেষে প্রদীপ- লিয়াকতসহ তিনজনকে ৭ দিনের অন্য ৪ জনকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয় আদালত। পরে আবারো পুর্নবিবেচনা করা হয়। আদালতে উপস্থিত ৭ আসামিকেই দেন ৭ দিন করে রিমান্ড।

আদালতে হাজির না থাকা অন্য দুই আসামি এসআই টুটুল ও কনস্টেবল মোস্তফার বিরুদ্ধে জারি করা হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা।

প্রদীপ লিয়াকত ছাড়া ৭ দিন র‌্যাবের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হবেন এসআই নন্দ নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং এএসআই লিটন মিয়া।

এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে পুলিশি হেফাজতে কক্সবাজার নিয়ে যাওয়া হয় টেকনাফের প্রত্যাহার হওয়া ওসি প্রদীপ কুমারকে। চট্টগ্রাম পুলিশের কাছে আত্মসমার্পন করলে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে বলে জানানো হয়।

বুধবার টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ ও বাহারছড়া চেকপোস্টের আইসি লিয়াকতসহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে কক্সবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন নিহতের বোন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় র‌্যাবকে।

Print Friendly and PDF

———