চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ , ৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সিনহা হত্যা: ওসি প্রদীপসহ ৩ আসামির আরো তিন দিনের রিমান্ড

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট, ২০২০ ৪:৫৭ : অপরাহ্ণ

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতের তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

এর আগে দ্বিতীয় দফা চার দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার বেলা সোয়া ৩টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট টেকনাফ-৩ আদালতে আসামিদের হাজির করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) খায়রুল আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক তামান্না ফারাহর আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

অপরদিকে অ্যাডভোকেট আহসানুল হক হেনার নেতৃত্বে একটি আইনজীবী প্যানেল চট্টগ্রাম থেকে আদালতে হাজির হয়ে ওসি প্রদীপসহ তিনজনের জামিন আবেদন করেন। একই সঙ্গে রিমান্ড বাতিলেরও আবেদন করেন। দীর্ঘ শুনানির পর কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ আবেদন দুটি নাকচ করে জামিন নামঞ্জুর করেন এবং প্রত্যেককে তিন দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলাটি খুবই স্পর্শকাতর। তাই অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আসামিদের আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের প্রয়োজন। আসামিদের চার দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা।

এর আগে দুপুরে মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলার মূল আসামি ওসি প্রদীপ, লিয়াকত ও নন্দ দুলালকে দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষ করে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে হাজির করে র‌্যাব।

এর আগে ২৪ আগস্ট তাদের দ্বিতীয় দফা রিমান্ড মঞ্জুর করে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালত।

গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করে। এ মামলায় সিনহার দুই সফরসঙ্গীকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে নয়জনকে আসামি করা হয়।

আসামিরা হলেন টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, এএসআই লিটন মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. মোস্তফা ও এসআই টুটুল। এদের মধ্যে আসামি মোস্তফা ও টুটুল পলাতক।

Print Friendly and PDF

———