চট্টগ্রাম, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ , ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

খামারিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

মিরসরাইয়ে বাজার বসলেও, আগ্রহ নেই ক্রেতাদের কোরবানির পশু নিয়ে

প্রকাশ: ২৭ জুলাই, ২০২০ ৯:০৪ : অপরাহ্ণ

এম মাঈন উদ্দিন

মাত্র কয়েকদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। কিন্তু এখনো ক্রেতাদের মধ্যে পশু ক্রয় নিয়ে তেমন আগ্রহ দেয়া যায়নি। প্রতি বছর এসময় স্থানীয় ও শহরের ব্যবসায়ীদের পদচারনায় সরগরম থাকতো কৃষকের বাড়ি ও খামার।

মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে এবারের দৃশ্য একেবারেই ভিন্ন। তাই পশু বিক্রি হবে কি কিনা, বিক্রি হলেও উপযুক্ত দাম পাওয়া যাবে কি না এনিয়ে চিন্তার শেষ নেই কৃষক ও খামারিদের।

জানা গেছে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চাহিদার তুলনায় বেশি সংখ্যক পশু লালন-পালন করেছেন মিরসরাই উপজেলার খামারিরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাকালীন অবরুদ্ধতার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। করোনাকালে কেমন হবে গরুর বেচাবিক্রি, দাম কেমন পাওয়া যাবে- এসব চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে খামারিদের।

গো-খাদ্যের চড়া দাম আর বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে গড়া এসব খামারের মালিকরা বলছেন, লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে তাদের।

করোনার প্রভাব থাকায় হাটের সংখ্যাও কমে গেছে। এসব কোরবানির পশু হাটে না নিয়ে খামার থেকে বিক্রি করলে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে জানান খামারিরা।

অপরদিকে, অনেকেই আর্থিক অবস্থার কথা চিন্তা করে কম বাজেটে কোরবানির পশু কিনতে আসলে বড় গরুর দাম কমতে পারে। কোরবানির হাটে গবাদি পশুর দাম কম থাকলে খামারিদের সাথে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়বে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্র জানায়, কোরবানীকে ঘিরে ২ হাজার ৫৯৭ জন খামারি ও প্রান্তিক কৃষক ৪৫ হাজার ৯৬৭টি গরু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৫৭৫টি ষাঁড়, ১২ হাজার ৮১২টি বলদ, ১ হাজার ১০০টি গাভী, ৪ হাজার ৪১৬টি মহিষ, ৫ হাজার ৫৮৭টি ছাগল ও ৩ হাজার ১৭৭টি ভেড়া রয়েছে।

এবার পশু কেনাবেচার জন্য উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ২ পৌরসভায় ৩১টি স্থায়ী অস্থায়ী বাজার রয়েছে। তবে এবার লোকসানে পড়তে পারেন বাজার ইজারাদারেরা।

দীর্ঘ ৪ মাসেরও বেশি সময় বাজার না বসায় এবং কোরবানী ঘিরেও খুব একটা জমজমাট না থাকায় লোকসানের আশংকা করছেন মিঠাছড়া বাজার ইজারাদার মোতাহের হোসেন চৌধুরী জুয়েল ও কমলদহ বাজার ইজারাদার আশরাফুল কামাল মিটু।

কথা হয় উপজেলার ঘেড়ামারা এলাকার জামাল উদ্দিনের সাথে। তিনি বলেন, প্রতি বছর কোরাবানীর জন্য আমি ১০ থেকে ১৫টি গরু মোটাতাজার করে থাকি।

এবারও ১০টি গরু মোটাতাজার করেছি। কিন্তু কোরবানের মাত্র কয়েকদিন রয়েছে এখনো একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি। প্রতি বছর ১৫দিন আগে থেকে বেচা শুরু হয়। আমার কাছে ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার মূল্যের গরু রয়েছে।

খামারি শাহীদুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, অন্য বছর বাজারে গরু তোলার আগে খামারে কিছু গরু বিক্রি হয়ে যেত। এবার বেপারীদের আনাগোনাও দেখা যাচ্ছে না। বেশ চিন্তায় আছি।

গবাদি পশু পালনকারীরা জানান, মূলত কোরবানি উপলক্ষেই গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ বিভিন্ন পশু মোটাতাজা করা হয়েছে।

কোরবানির ৪-৫ মাস আগে থেকে কোরবানি পর্যন্ত কয়েক দফা গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। সে অনুযায়ী কোরবানির সময় পশুর দামও বাড়তি থাকে। কিন্তু এ বছর করোনা পরিস্থিতিতে পশু খাদ্য ও আনুসঙ্গিক সবকিছুর দাম বেড়ে যায়।

তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে পশুর হাট তেমন বসছে না, ক্রেতাও থাকবে কম। এই অবস্থায় গবাদি পশুর তেমন দাম হবে না। এই পরিস্থিতি থাকলে এ বছর লোকসান গুনতে হবে আমাদের।

মৌসুমী গরু ব্যবসায়ী মোঃ আবদুল্লাহ বলেন, সারাবছরই আমরা গরু কেনা বেচা করে থাকি। কোরবানির আগের কিছুদিন সব থেকে বেশি ব্যবসা হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে পশুরহাট খুব একটা জমছে না। এই অবস্থায় বাজার খুবই মন্দা থাকবে। কোনভাবেই ভালো ব্যবসা আশা করা যায় না।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল কান্তি পোদ্দার বলেন, উপজেলায় ৪৫ হাজার ৯৬৭টি কোরবানির পশু মজুত রয়েছে। এসব কোরবানির পশু উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন হাটে বিক্রি হবে।

তবে, ভালো দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা। তাই, ভারত বা অন্য জেলা থেকে গরু না আসলে খামারিরা লাভবান হবেন। তবে এবার শহরের ব্যবসায়ীদের আনাগোনা কম। তিনি আশা করেন শেষ সময়ে বাজার জমে উঠবে। বাজার তদারকির জন্য প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ের ১০টি টিম কাজ করবে।

Print Friendly and PDF

———