চট্টগ্রাম, রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০ , ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রাউজানে কলেজ ছাত্রী উত্ত্যক্তকারী বখাটেকে গনপিঠুনি!

প্রকাশ: ১৪ জুলাই, ২০২০ ১০:০১ : অপরাহ্ণ

রাউজান প্রতিনিধি

রাউজান সরকারী কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের সনাতন ধর্মীয় অনুস্বারী এক ছাত্রীকে কলেজে আসা যাওয়ার সময় রাউজানের চিকদাইর ইউনিয়নের উত্তর পাঠানপাড়া এলাকার মৃত সাহালমের পুত্র মোরশেদ (২৫) প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত করে আসতো।

গত কয়েকমাস পুর্বে কলেজ ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার সময়ে বখাটে মোরশেদকে এলাকার লোকজন ধরে স্থানীয় মেম্বার মিটু শীল সহ সালিসি বৈঠক করে তার কছে থেকে আর কখনো কলেজ ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করবেনা মর্মে অঙ্গিকার নামা নিয়ে মোরশেদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

এঘটনার পর থেকে ঐ কলেজ ছাত্রীকে প্রতিদিন তার মা সাথে করে রাউজান সরকারী কলেজে নিয়ে যেতো। কলেজ ছুটির পর আবারো তার মা কলেজ ছাত্রীকে সাথে নিয়ে বাড়ীতে নিয়ে আসতো।

১৩ জূলাই দিবাগত রাত ৮টার দিকে বখাটে মোরশেদ ওই কলেজ ছাত্রীর ঘরের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকলে ঘরে থাকা কলেজ ছাত্রীর পিতা দরজা খুললে বখাটে মোরশেদ কলেজ ছাত্রীর ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় কলেজ ছাত্রীর পিতা ও প্রতিবেশীরা বখাটে মোরশেদকে আটক করে মারধর করে। ঘটনার ব্যাপারে ডাবুয়া ইউনিয়নের মেম্বার মিটু শীলকে জানালে স্থানীয় মেম্বার মিটু শীল বিষয়টি রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোনায়েদ কবির সোহাগকে ফোন করে জানায়।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ইউএনও জোনায়েদ কবির সোহাগ ডাবুয়ায় কলেজ ছাত্রীর বাড়ীতে উপস্থিত হয়ে দেখতে পায় বখাটে মোরশেদকে বেদম প্রহার করা হয়েছে। ওই সময় জোনায়েদ কবির সোহাগ বখাটে মোরশেদের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় মামলা করার নির্দেশ প্রদান করেন।

পরে স্থানীয় মেম্বার মিটু শীল সহ কলেজ ছাত্রীর পিতা রাউজান থানায় উপস্থিত হয়ে মামলা দায়ের করার কথা বললে থানার ওসি কেপায়েত উল্লাহ মামলা নেয়নি বলে জানান স্থানীয় ইউপি মেম্বার মিটু শীল।

পরে স্থানীয় মেম্বার মিটু শীল সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা চিকদাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রিয়তোষ চৌধুরীর কাছে বখাটে মোরশেদকে সোর্পদ করে। ওই সময় চেয়ারম্যান প্রিয়তোষ চৌধুরী বখাটে মোরশেদ থেকে ‘আর কখনো এ ধরনের কাজ করবেনা’ মর্মে আঙ্গিকার নামা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।

এদিকে কলেজ ছাত্রী ও তার অভিভাবকেরা বখাটে মোরশেদের কারণে চরম আতংকের মধ্যে দিনযাপন করছেন।

রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, কলেজ ছাত্রীর ঘরে বখাটে মোরশেদ প্রবেশ করার ঘটনায় তাকে দেশের প্রচলিত আইনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়া যেত। বখাটে মোরশেদকে আটক করার পর কলেজ ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে তাকে বেদমভাবে প্রহার করায় তার বিরুদ্ধে রাউজান থানায় নিয়মিত মমালা করে তাকে পুলিশের হোফাজতে সোর্পদ করে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

Print Friendly and PDF

———