চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০ , ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মিরসরাইয়ে গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই, ২০২০ ৬:৫১ : অপরাহ্ণ

এম মাঈন উদ্দিন

মিরসরাই উপজেলার অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন সড়ক সাহেরখালী ইউনিয়নের খেয়ারহাট-বেড়িবাঁধ সড়ক। প্রতিদিন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাসহ শত শত মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। শুস্ক মৌসুমে কোনভাবে চলাচল করলেও বর্ষা মৌসুমে চলাচল কষ্টে এলাকাবাসীকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।

জানা গেছে, সাহেরখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ মঘাদিয়া এলাকার খেয়ারহাট থেকে বেড়িবাঁধ সড়ক (হৈয়ামিয়া-ছেরাছমিয়া সড়ক) প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খেয়াহাট থেকে ৭০০ মিটার কার্পেটিং হলেও নামার বাজার থেকে আমতল, আমতল থেকে বেড়ীবাধ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় খানাখন্দে ভরে গেছে। আর গ্রামীন সড়কের এই বেহাল দশা যেন দেখার কেউ নেই। একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে তিন কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে কাঁদায় মাখামাখি হয়। বর্ষার কাঁদা পানি মাড়িয়েই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়তই চলাচল করেন দক্ষিণ মঘাদিয়া এলাকার সহ পশ্চিম মায়ানী আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়, খেয়ারহাট নুরীয়া সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা, দক্ষিণ মাঘাদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৪ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণ। বর্ষা মৌসুমেই রাস্তায় চলাচলকারী পথচারীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত ইট, কংক্রিট উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। আর গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পানি রাস্তায় জমে কাঁদা একাকার হয়ে আছে।

এই বিষয়ে ভুক্তভোগী পশ্চিম মায়ানী আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু ছালেক জানান, ‘রাস্তটি দিয়ে দৈনিক প্রায় ৪ হাজার মানুষ চলাচল করে। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে হাঁটু পরিমান কাঁদার সৃষ্টি হয়, আর এই কাঁদা মাড়িয়েই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসেন। তবে সবচেয়ে বেশি বিপদে পরেন অসুস্থ ও প্রসূতি রোগীরা।’

এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক, জাকারিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন, ভোট এলেই এই সড়ক সংস্কার করে দেয়ার প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দেন জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে গেলে তাদের আর খবর থাকে না। তাদের দাবি, অতিশীঘ্রই এসব সড়কের সংস্কার কাজ করে যেন মানুষকে ভোগান্তি থেকে রক্ষা করা হয়।

এই বিষয়ে ১৬ নং সাহেরখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদকে জানানো হয়েছে। চেয়ারম্যান মহোদয়ের সাথে কথা বলে যে সব স্থানে রাস্তায় গর্ত আছে, সেই স্থানে বর্ষা মৌসুমের জন্য ইট বালি দিয়ে সাময়িক চলাচলের ব্যবস্থা করছি।

এই ব্যাপারে ১৬ নং সাহেরখালী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হায়দার চৌধুরী বলেন, ইতিমধ্যে দক্ষিণ মঘাদিয়া এলাকার খেয়ারহাট থেকে বেড়িবাঁধ সড়কে প্রায় ৭০০ মিটার কার্পেটিং কাজ সম্পুর্ণ করা হয়েছে। বাকি প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার রাস্তা টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে। আশাকরছি শীঘ্রই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরু করতে পারবো।

Print Friendly and PDF

———