চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০ , ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারে দাবি: ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের উদ্যোগ

প্রকাশ: ২ জুলাই, ২০২০ ২:১১ : অপরাহ্ণ

দেশে আবিষ্কৃত করোনার ভ্যাকসিনের প্রথম ধাপ সম্পন্নের দাবি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেকের। প্রাথমিক পর্যায়ে সফলভাবে প্রাণীর শরীরে ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তীতে প্রাণীদেহে নিয়মিত পরীক্ষার পর মানবদেহে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২রা জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডা. আসিফ মাহমুদ।

শিগগিরই মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমতি চাওয়া হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি জানান, আমরা বিষয়টি নিয়ে এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাব।

এরপর আমরা তাদের দেয়া গাইডলাইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব। তবে, মানবদেহেও ভ্যাকসিনটি সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ।

দেশে আবিষ্কৃত টিকা বিস্তারিত বিশ্লেষণের পর গবেষণাগারে প্রাণীদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর যথাযথ অ্যান্টিবডি তৈরিতে সন্তোষজনক ফল মিলেছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজ অনুযায়ী মঙ্গলবার পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৫ হাজার ৭৪৩টি সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স জমা হয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে জমা হয়েছে ৭৬টি।

উক্ত সকল সিকোয়েন্স বায়োইনফরম্যাটিক্স টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড তাদের টিকার টার্গেট নিশ্চিত করে। যা যৌক্তিকভাবে এই ভৌগোলিক অঞ্চলে অধিকতর কার্যকরী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উক্ত টার্গেটের সম্পূর্ণ কোডিং সিকোয়েন্স যুক্তরাষ্ট্রের এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজে জমা দেয়া হয়েছে যা ইতিমধ্যেই এনসিবিআই কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রকাশিত হয়েছে।

গ্লোব বায়োটেকের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ বলেন, ‘এই টিকাটির সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিরীক্ষার লক্ষ্যে আমরা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এই সুরক্ষা ও কার্যকারিতা পরীক্ষায় সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি।’

করোনার সংক্রমণ ও শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিট, টিকা ও ওষুধ আবিষ্কার সংক্রান্ত গবেষণা শুরু করে।

এদিকে, ২৪ জুন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবশেষ খসড়া তালিকা অনুযায়ী এখন বিশ্বে করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারে ১৪৩টি উদ্যোগ চালু আছে। আর ২ জুন এমন উদ্যোগের সংখ্যা ছিল ১৩৩।

অর্থাৎ, তিন সপ্তাহের মধ্যে আরও ১০টি টিকার উদ্যোগ যুক্ত হয়েছে। এখন ১৪৩টি উদ্যোগের মধ্যে ১৬টির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা মানবদেহে পরীক্ষা চলছে। বাকি ১২৫টি টিকা প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপে আছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে রয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্বব্যাপী করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারে যে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ সে তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের নাম।

Print Friendly and PDF

———