চট্টগ্রাম, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০ , ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চীনসহ চার দেশের বৈঠক, দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন আঞ্চলিক জোটের ইঙ্গিত

এক্সপ্রেস ট্রিবিউন প্রকাশ: ২৮ জুলাই, ২০২০ ১২:৪১ : অপরাহ্ণ

চীন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সোমবার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেছিলেন। তারা সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দেন। এই পদক্ষেপকে নতুন একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ি সম্মেলনের উদ্যোক্তা ছিলেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশির আগে ধারণকৃত বিবৃতি সভায় শোনানো হয়। তার পূর্বনির্ধারিত আরেকটি কর্মসূচি থাকায় তিনি এতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। পাকিস্তানের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী খসরু বাখতিয়ার।

কর্মকর্তারা বলছেন, চার দেশের মন্ত্রীরা তারা করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার আগে ধারণ করা বিবৃতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ কোভিড-১৯ বৈঠক আয়োজনের জন্য চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই ভার্চুয়াল সম্মেলন কোভিড-১৯ মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য যৌথ কৌশল প্রণয়নে সহায়ক হবে।

চীন কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে যাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণের প্রেক্ষাপটে একে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় মনে করা হচ্ছে। মজার ব্যাপার হলো, এসব আঞ্চলিক উদ্যোগ থেকে ভারত বিরত রয়েছে। আর এতে নতুন জোটের বিষয়টির সম্ভাবনা বেড়েছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ভারতের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে শীতল হয়ে পড়েছে। ভারতের ঘোষিত প্রতিদ্বন্দ্বী হলো পাকিস্তান। কিন্তু নেপাল, বাংলাদেশ ও ইরানের সাথে সম্পর্কেও ভারত বড় ধরনের আঘাত পেয়েছে। এই পরিবর্তনের পেছনে অভিন্ন ফ্যাক্টর হলো চীন।

অল্প কিছু দিন আগেও নেপালকে মনে করা হতো ভারতেরই একটি সম্প্রসারিত অংশ। কিন্তু এখন সীমান্ত নিয়ে নয়া দিল্লির সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে নেপালের। বর্তমান নেপাল সরকার সীমান্ত প্রশ্নের ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

নেপালি পার্লামেন্ট সম্প্রতি একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু এলাকার ওপর তার দাবির কথা জানিয়েছে। নয়া দিল্লি অভিযোগ করেছে, নেপালের বৈরিতার পেছনে চীনের হাত রয়েছে।

একইভাবে ভারতের কাছ থেকে সরে যাচ্ছে বাংলাদেশও। এই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক এতই খারাপ যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্তত চারবার ভারতীয় হাই কমিশনারের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বাংলাদেশে ভারতীয় তহবিলপুষ্ট প্রকল্পগুলোর গতি মন্থর হয়ে এসেছে, আর চীনা প্রকল্পগুলোর গতি বাড়ছে। আর এর ফলে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানের সুযোগ বেড়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কয়েক বছরের মধ্যে বিরল ঘটনা হিসেবে শেখ হাসিনার সাথে ফোনে কথা বলেছেন।

পর্যবেক্ষকেরা বিশ্বাস করেন, চীনের প্রভাবে বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়েছে। পাকিস্তান এখন নেপালের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ নিয়েছে, বিশেষ করে ভারতীয় প্রভাব বলয় থেকে দেশটি বের হওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করায়।

সোমবারের ভার্চুয়াল বৈঠকটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কোভিড-১৯-এর প্রেক্ষাপটে দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় সহায়তা করার পরিকল্পনা করছে চীন। এর বিনিময়ে এর মাধ্যমে আঞ্চলিক গতিশীলতা পুনর্গঠনে সহায়তা পাবে চীন। আর তা ভারত ও তার পাশ্চাত্যের মিত্রদের জন্য অস্বস্তির কারণ হবে।

Print Friendly and PDF

———