চট্টগ্রাম, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ , ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১০ হাজার ডলার পাওনা শোধের তাগিদেই খুন হন ফাহিম

প্রকাশ: ১৮ জুলাই, ২০২০ ১২:২১ : অপরাহ্ণ

রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাওয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ’র খুনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টাইরেস ডেভোন হাসপিল নামের ২১ বছর বয়েসী এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ তাকে হত্যা করে। ফাহিমের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে একসময় খুনি কর্মরত ছিল। ওইসময় ১০ হাজার ডলার চুরি করে সে ধরা পড়ে যায়। ওই অর্থ পারিশোধের অঙ্গীকার করায় ফাহিম তাকে পুলিশে দেওয়া থেকে বিরত থাকে। সম্প্রতি ওই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ফাহিম সালেহ তাগিদ দেওয়াতেই তাকে হত্যা করে সাবেক সহকারী টাইরেস হাসপিল।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) ফাহিমের খুনি টাইরেস ডেভোন হাসপিলকে গ্রেপ্তার করেছে বলে ঘোষণা দেয়। পুলিশের কাছে খুন করার কথা সে স্বীকার করে এবং খুনের কারণও জানায়। ফাহিম সালেহ’র সাবেক এই ব্যক্তিগত সহকারীর বিরূদ্ধে সেকেন্ড ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, কিছু কাল আগে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় সে ফাহিম সালেহ’র ১০ হাজার ডলার চুরি করে। এক পর্যায়ে সে ধরা পড়ে যায়। ফাহিম তাকে পুলিশে দিতে চাইলেও খুনি টাইরেস ডেভোন ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু চুরি করা টাকা আগেই খরচ করে ফেলায় টাকা ফেরত দেওয়া তার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরে ফাহিম সালেহ তাকে সেই অর্থ ফেরত দেয়ার জন্য কয়েকটি কিস্তি নির্ধারণ করে একটি সময়সীমা বেঁধে দেয়। কিন্তু টাইরেস টাকা ফেরত দেয়ার পথে না গিয়ে তার সাবেক বসকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।

টাইরেস নিজেই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে, নাকি এ জন্য কোনো পেশাদার খুনী ভাড়া করেছিল সে ব্যাপারে এনওয়াইপিডি এখনই নিশ্চিত কিছু বলতে রাজি নয়। তারা সব প্রমাণ হাতে পেলেই বিষয়টি জানাতে চায়।

ফাহিম সালেহ খুন হওয়ার পর সিসি টিভি ফুটেজ নিয়ে পুলিশ যে ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন খুনি বলে ধরে নিয়েছিল গ্রেপ্তার সহকারিই সেই ব্যক্তি কিনা এটি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। কালো পোশাক ও কালো মাস্ক পড়ে ওই ব্যক্তি ফাহিমকে অনুসরণ করে তার ফ্ল্যাটে গিয়েছিল।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফাহিম সালেহ ইনফরমেশন সিস্টেম নিয়ে পড়াশোনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়ে। গত সোমবার মাত্র ৩৩ব ছর বয়সে যে অ্যাপার্টমেন্টে খুন হন তিনি, তার দাম বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ২২ কোটি টাকা। নিজের কেনা অ্যাপার্টমেন্টে খুন হওয়া ফাহিম সালেহ বড় হয়েছেন নিউইয়র্কেই। ২০১৪ সালে কয়েক মাসের জন্য দেশে ফিরে তিন রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাও প্রতিষ্ঠায় যুক্ত হয়েছিলের।

নিউ ইয়র্কের গণমাধ্যম তাকে চিহ্নিত করেছে ‘টেক মিলিওনিয়ার’ হিসেবে।

ফাহিম সালেহ সম্পর্কে ‘পাঠাও’ অ্যাপের আরেক উদ্যোক্তা হুসেইন ইলিয়াস বলেন, খুব কম মানুষই তার মতো এতো তাড়াতাড়ি কিংবা এতো অল্প বয়সে সফল হয়েছে। ফাহিমের সাফল্যের কারণ হলো, সে ছিল স্বপ্নবাজ। একই সঙ্গে উদ্যমী ও পরিশ্রমী।

Print Friendly and PDF

———