চট্টগ্রাম, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২০ , ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জেলেদের মুখে হাসি

কর্ণফুলীর তীরে রূপালী ইলিশের ছড়াছড়ি!

প্রকাশ: ২৫ জুলাই, ২০২০ ৫:৫৪ : অপরাহ্ণ

আখতার হোসাইন, সিনিয়র রিপোর্টার

দীর্ঘ ৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞার পর সাগরে মাছ ধরা শুরু করেছে জেলেরা। জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ। ছোট, মাঝারি ও বড় সাইজের প্রচুর ইলিশ পেয়ে খুশি জেলে, ফিশিং ট্রলার মালিক ও মৎস্য আড়তদাররা।

গভীর সমুদ্র থেকে ফেরত আসা ইলিশ বোঝাই ট্রলার নিয়ে এখন ব্যস্ত হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম নগরীর সবচেয়ে বড় মাছের আড়ত ফিসারঘাট। নিরবতা কাটিয়ে সরব হয়ে উঠেছে ফিসারীঘাট ও জেলেপাড়ায়।

দিন শেষ হতেই গভীর সমূদ্র থেকে ইলিশ বোঝাই ফিশিং ট্রলার গুলো সারি সারি করে এসে সিরিয়াল দেয় চট্টগ্রাম নগরীর ফিসারীঘাটে।

ভোর না হতেই কর্মব্যস্ত হয়ে পড়ে জেলে, শ্রমিক, ফিশিং ট্রালারের মালিক ও আড়তদাররা। এছাড়াও কাট্টলী ঘাটেও মিলছে প্রচুর ইলিশ। কিন্তু খুচরা বাজারে চড়াও দামে বিক্রি হচ্ছে এসব মাছ।

চট্টগ্রাম নগরীর ফিসারিঘাট, কাট্টলী ঘাট, আনন্দবাজারসহ কয়েকটি ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে জানা গেছে, জেলেরা সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ শিকার করে আনছেন। কিন্তু তারা এই ইলিশের উপযুক্ত দাম না পাচ্ছেন না।

অন্যদিকে খুচরা বাজারে সাধারণ ক্রেতাকে বেশি দামে ইলিশ কিনতে হচ্ছে। জেলেদের কাছ থেকে ইলিশ কিনে নেয়ার পর মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী চক্র বড় অঙ্কের মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে।

নগরীর ফিসারীঘাট, কাট্টলি এলাকার সমুদ্র তীর এবং আনন্দবাজার এলাকায় জেলেদের কাছ থেকে প্রতি মণ ইলিশ কেনা হচ্ছে ২০ হাজার টাকা দামে। ৬শ থেকে ৬২৫ টাকা কেজি দরে পাইকারি কিনে এনে এসব ইলিশ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। প্রতি কেজি ১১শ’ থেকে ১২শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এসব ইলিশ।

জেলে মোবারক হোসেন জানান, ৬৫ দিন অবরোধের পর আবার মাছ ধরতে পেরে আমরা খুশি। প্রচুর ইলিশ ধরা পরতে শুরু করেছে। এখন জেলেরা তাদের পরিবার নিয়ে ভালো থাকতে পারবে। অবরোধের কারণে পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে সময় কাটিয়েছেন জেলেরা।

মৎস্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, অবরোধ শেষে জেলেরা আবার সাগরে মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, মূলত দুটি কারণে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

প্রজনন সুবিধায় যাতে মাছ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারে। আর অপরটি হলো- ছোট মাছকে বড় হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। এবার আমাদের অবরোধ ফলপ্রসূ হয়েছে। আগামীতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Print Friendly and PDF

———