চট্টগ্রাম, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০ , ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রামগড়ে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার; ঘাতক স্বামী আটক

প্রকাশ: ২৮ জুলাই, ২০২০ ৯:১৫ : অপরাহ্ণ

রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

জেলার রামগড়ে স্ত্রী রাশেদা আক্তার (২০) কে কুপিয়ে গলা কেটে নিসংশ ভাবে হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেছে ঘাতক স্বামী ওমর ফারুক (২৮)। মঙ্গলবার শেষ রাতে উপজেলার মধ্যম বলিপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির বাহিরে গৃহবধু রাশেদা আক্তার (২০) এর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে রামগড় থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রী ওয়াশরুম থেকে বের হওয়া মাত্র পিছন থেকে ধারালও দা দিয়ে কোপ দেয় এতে স্ত্রী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বুকে পা দিয়ে চেপে ধরে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতক স্বামী ফারুক। ঘটনাকে আড়াল করতে মুখোশধারী ডাকাতের হামলা ও অজ্ঞানের নাটক সাজায় স্বামী ফারুক। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে স্বামী ফারুককে পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে বিকেলে সুস্থ্য হলে থানা কাস্টুনিতে আনার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা অকপটে স্বীকার করে।

স্থানিয়রা জানান, মঙ্গলবার ভোর রাতে সোনাইপুল বাজারের ফল ব্যবসায়ী বলিপাড়ার ফারুুক ও তার পরিবারের সদস্যরা ডাকাত ডাকাত বলে আত্মচিৎকা করলে এগিয়ে গেলে ঘরের বাহিরে ফারুকের স্ত্রীর অর্ধ উলঙ্গ গলাকাটা রক্তাক্ত লাশ এবং বাড়ির সামনে অজ্ঞান অবস্থায় স্বামী ফারুককে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হলে লাশটি উদ্ধার করে এবং ফারুককে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। ৩ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। তাদের দম্পত্য ১৮ মাস বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

নিহতের পিতা কালাডেবার বাসিন্ধা আবু সৈয়দ জানান, মেয়ের ব্যবহৃত গহনা ও গরু বিক্রি অজুহাতে মেয়ের সাথে স্বামী ও তার পরিবারের দন্ধ চলছিলো। এসব বিষয়ে মেয়েকে মারধর করলে ৩ মাস পূর্বে স্থানিয়ভাবে একবার বিচারও হয়েছিলো। তিনি মেয়ে হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেন এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

রামগড় সার্কেলের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা, স্বামীর রক্তমাখা লুঙ্গি ইত্যাদি আলামত জব্দ করে। পারিবারিক সংশ্লিষ্টতার আলামত পেয়ে ফারুককে কৌশলগত কারণে পুলিশের প্রহরায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে দুপুরের দিকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদে সে অপকটে হত্যার কথা স্বীকার করে। তিনি বলেন, নিহত রাশেদা আক্তারের পিতা আবু সৈয়দ বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

Print Friendly and PDF

———