চট্টগ্রাম, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ , ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মানিকছড়িতে কোরবানীর গরু বাজারজাত নিয়ে দুঃচিন্তায় খামারীরা

প্রকাশ: ২ জুলাই, ২০২০ ১২:৩৪ : অপরাহ্ণ

মো. মনির হোসেন, মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

বৈশ্বিক মহামারী ‘করোনা’ প্রাদুর্ভাবে থমকে দাঁড়িয়েছে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। দীর্ঘ সময় আয়-রোজগার বি ত মানুষজনের মাঝে ঈদ-আনন্দের আমেজ নেই। ফলে আসন্ন কোরবানকে ঘিরে মানিকছড়ি উপজেলার ছোট, মাঝারি ও বড় অর্ধশত গো-খামার ও কৃষকের ঘরে মোটাতাজা করা কয়েক হাজার দেশী-বিদেশী জাতের গরু নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছেন খামারীরা। তাই লাইভ ওয়েট পদ্ধতিতে কেজি প্রতি সাড়ে ৩শত টাকায় গরু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে খামার মালিকরা।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, মানিকছড়ি উপজেলায় ছোট-বড় রয়েছে ৩৯টি গো-খামারে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কোরবানে বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে সহস্রাধিক দেশী-বিদেশী গরু মোটাতাজা করা হয়। এছাড়া উপজেলার গ্রামে-গঞ্জের হাজারো কৃষক নিজ গৃহে কয়েক হাজার দেশী বলদ ও ষাড় মোটাতাজা করেছেন। ইতোমধ্যে স্থানীয় হাট-বাজারে কৃষকরা ছোট-মাঝারী গরু উঠালেও ক্রেতাশুন্য থাকায় খামারে মোটাতাজা করা গরু নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছেন খামারীরা।

‘করোনা’ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি ভেঙ্গে কোরবানির বাজার জমে উঠার সম্ভাবনা যেমন ক্ষীণ হওয়ায় মানিকছড়ি’র গো-খামারীরা মোটাতাজা করা গরু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। পাহাড়ে প্রাকৃতিক সবুজ ঘাসে লালিত-পালিত দেশী-বিদেশী গরু কোরবানে চাহিদা থাকায় এ গো-খাতে লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন সাধারণ কৃষক ও গো-খামারীরা। খাবারের তালিকায় প্রাকৃতিক সবুজ ঘাস, ভূষি, খৈল এবং খেড় থাকায় অল্প সময়ে গরু মোটাতাজা হয়। ফলে এসব গরু কোরবানে বেশ চড়া দামে বিক্রি করে লাভবান হয় ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে দেশী গরু বিক্রির উদ্দেশ্যে উঠানো হলেও ক্রেতাশূন্য বাজার দেখে বড় গরু নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছে গো-খামারীরা। গরু ব্যবসায়ী আনু মিয়া বলেন, প্রতি বছর কোরবানির বাজারে দেশী গরুর বেশ চাহিদা থাকে। যার ফলে এখানকার ঘরে ঘরে কম-বেশি দেশী বলদ, ষাড় লালন-পালন করা হয়। আবার অনেকেই ২০/৫০ লক্ষ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গরু বর্গা দিয়ে রাখেন। এ বছর ‘করোনা’র কারনে কোরবানের বাজার নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত।

উপজেলার ‘এ. কে এগ্রো ডেইরী’ ফার্মের মালিক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডেইরী ফার্ম মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, এ বছরে উপজেলার ছোট-বড় ৩৯টি খামারের পাশাপাশি কৃষকের ঘরে পালিত গরু বাজারজাত করা নিয়ে আমরা দুঃচিন্তায় আছি। ছোট ও মাঝারী গরু অনায়াসে বাজারে উঠানো গেলেও খামারের ৫শ থেকে ৮শ কেজি ওজনের গরু নেয়া খুবই কষ্টকর। যার ফলে লাইফ ওয়েট পদ্ধতিতে আমরা বড় গরু গুলোকে কেজি প্রতি সাড়ে ৩শত টাকা দরে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

উপজেলা প্রাণী সম্পাদ কর্মকর্তা ডা. সুচয়ন চৌধুরী বলেন, আমাদের (চিকিৎসক) পরামর্শ নিয়ে উপজেলার ৩৯টি তালিকাভুক্ত ছোট-বড় খামারের পাশাপাশি অসংখ্য কৃষক আধুনিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন। তবে এ বছর ‘করোনা’র কারনে কোরবানের গরু বাজারজাত করা নিয়ে সবাই খুবই দুঃচিন্তায় আছেন।

Print Friendly and PDF

———