চট্টগ্রাম, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ , ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনা: রেড জোন, কী আছে গাইডলাইনে

প্রকাশ: ১৫ জুন, ২০২০ ১০:২৩ : পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে রাজধানীসহ সারাদেশকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলির ১০ নম্বর (উত্তর কাট্টলী) ওয়ার্ডকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২১ দিনের জন্য অবরুদ্ধ হচ্ছে। রোববার নগর ভবনে সিটি করপোরেশনের সাথে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ১০ টি ওয়ার্ডকে করোনা সংক্রমণপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে রেড জোনের আওতায় আনা হয়েছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে এসব এলাকা পর্যায়ক্রমে লকডাউন করা হবে। এই এলাকার লোকদের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি বাইরে থেকেও রেড জোনে লোক প্রবেশ বন্ধ করা হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশে প্রতি এক লাখে যদি ৩০ জন বা এর বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত থাকে তবে সেটাকে রেড জোন বলা হচ্ছে। তিন জনের বেশি কিন্তু ৩০ জনের কম থাকলে সেই এলাকাকে ইয়েলো জোন এবং এক বা দুজন বা কেউ না থাকলে সেটাকে গ্রিন জোন বলা হচ্ছে।

এর আগে গত ১ জুন ভাইরাসটি প্রতিরোধে পুরো দেশকে তিন জোনে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। লকডাউন বাস্তবায়ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী মাঠে কাজ করবে। এছাড়া গ্রিন জোনে সতর্কতা এবং ইয়েলো জোনে সংক্রমণ যেন আর না বাড়ে সেজন্য পদক্ষেপ বিশেষ গাইডলাইন করা হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রেড জোন এলাকায় বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। তবে তিনটি জোনের জন্যই কিছু কিছু বিষয় সাধারণ রয়েছে। অর্থাৎ এই বিষয়গুলো যেকোনো স্থানেই মেনে চলতে হবে। বাধ্যতামূলকভাবে প্রত্যেকের মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বিষয়টি প্রযোজ্য হবে তিনটি জোনেই।

এছাড়া করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা, তার চিকিৎসা ও আইসোলেশনের ব্যবস্থা; কন্টাক্ট ট্রেসিং ও কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থাও থাকবে সব জোনেই। একইভাবে সব জোনেই বন্ধ থাকবে সবধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চালু থাকবে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় জরুরি পরিষেবা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও থাকবে মাঠে।

এছাড়াও সব এলাকাতেই মাঠকর্মী ও কমিউনিটি সাপোর্ট টিমের সাহায্যে নিয়ে গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন ও নজরদারি নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও প্রস্তাবনায় রাখা হচ্ছে। এর বাইরে শপিং মল বন্ধ রাখার প্রস্তাবনা নিয়েও আলাপ চলছে।

রেড জোনের জন্য গাইডলাইন

যেসব এলাকায় লাখে ৩০ জনের বেশি সংক্রমিত ব্যক্তি থাকবেন, সেসব এলাকাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করার প্রস্তাবনা এসেছে। এসব এলাকায় কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প উন্মুক্ত থাকতে পারে, তবে শহর অঞ্চলে এই ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো যাবে না। এই জোনের আওতায় কর্মজীবীরা বাড়ি থেকে কাজ করতে পারবেন, বাইরে যেতে পারবেন না।

কোনো ধরনের জনসমাগমও করা যাবে না। কেবল প্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিসেবার কাজেই বাইরে চলাচল করা যাবে। রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত গ্রামীণ এলাকায় মুদির দোকান ও ফার্মেসি খোলা রাখা গেলেও কোনো ধরনের রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান ও টং দোকান খোলা রাখা যাবে না।

গ্রামীণ এলাকায় খোলাবাজার চালানো গেলেও শহরে কোনোভাবেই বাজার খোলা রাখা যাবে না। এক্ষেত্রে হোম ডেলিভারির প্রস্তাবনা করা হয়েছে নগর এলাকার জন্য। মুদির দোকান, বাজার ও ফার্মেসির ক্ষেত্রেও হোম ডেলিভারি পদ্ধতির প্রস্তাবনা করা হয়েছে।

রেড জোন চিহ্নিত এলাকায় মসজিদ ও ধর্মীয় স্থানে কেবল খাদেম বা কর্মচারীরাই থাকতে পারবেন বলে প্রস্তাব এসেছে। এছাড়াও রেড জোন এলাকায় টপআপ ও এমএফএস সেবা খোলা রাখা গেলেও ব্যাংকিং খাতে কেবল এটিএম বুথ খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে।

যদি এই জোনে কোনো কৃষি বা ফার্মিং থাকে, তবে এসব জায়গায় যারা যুক্ত তাদের কাজের পরিষেবা বৃদ্ধি করা হতে পারে শিফট ভিত্তিতে। এছাড়া রোগী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে রেড জোনে স্থানীয়ভাবে ২৪ ঘণ্টা নমুনা সংগ্রহের জন্য পর্যাপ্ত বুথ স্থাপন করার প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। বিশেষত দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর জন্য এই পরিষেবা চালু রাখার প্রস্তাবনা থাকছে।

এছাড়াও কোভিড-১৯ শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির হোম কোয়ারেন্টাইন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রস্তাবনাও থাকছে। বিভিন্ন দরিদ্র অঞ্চলের জন্য পর্যাপ্তভাবে স্থানীয়ভাবে ও অতিরিক্ত আইসোলেশন কেন্দ্র থাকার প্রস্তাবনাও থাকছে।

করোনা সংক্রান্ত মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. হাবিবুর রহমান খান গণমাধ্যমে বলেন, আগামীকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় রেড জোনে লকডাউন কার্যকর হচ্ছে।

বিশেষ করে একটি এলাকা চিহ্নিত করে সেখানকার প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে কতজন মানুষ আক্রান্ত রয়েছে, সেই অনুযায়ী রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে সেটি পড়ছে। রেড জোন ঘোষণা এলাকা সম্পূর্ণ ব্লক থাকবে। সেই এলাকায় কেউ ঢুকবেও না, কেউ বেরও হবে না। তবে, সেসব এলাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব জিনিসের দরকার হবে তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। রাজাবাজার লকডাউনে বিভিন্ন নিত্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

Print Friendly and PDF

———