চট্টগ্রাম, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বিএনপি মহাসচিব ফখরুলের মতে করোনা প্রতিরোধে সরকারের কোনও রোডম্যাপ নেই

প্রকাশ: ২৮ জুন, ২০২০ ২:১৬ : অপরাহ্ণ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সারা দেশে করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করলেও ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের ‘কোনও রোডম্যাপ নেই’ ।

রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে ইন্টারনেটের মাধ্যমে উত্তরার বাসা থেকে জাতীয়তাবাদী হোমিও প্যাথিক চিকিৎসক দলের আয়োজিত ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতর আজকে যে একটা গাইড লাইন দেবেন, সেই গাইড লাইনও তারা দিতে পারে নাই। গোটা বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মোকাবিলা করার জন্য যে একটা ম্যাপ, রোড ম্যাপ, একটা পরিকল্পনা, একটা প্রতিরোধ পরিকল্পনা তার সবটাই অনুপস্থিত এখানে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, কয়েকদিন আগে চীনা বিশেষজ্ঞরা এসেছিলেন। তারা এসে ঠিক একই কথা বলেছেন যে, বাংলাদেশে সবকিছু এলোমেলো। এখানে কোথায় রোগ আছে সেটাই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ তারা (সরকার) চিহ্নিত করতে পারছেন না এবং সেটাকে চিহ্নিত করবার জন্য কোনও ব্যবস্থা তাদের নেই।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকারের যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তাতে গোটা হেলথ সিস্টেম একেবারে ভেঙে পড়েছে, একেবারেই লেজে গোবরে অবস্থা হয়ে গেছে। সরকার স্বাস্থ্যখাতে চরম অবহেলা করার জন্য, তাদের উদাসিনতার জন্যে কোবিড-১৯ মোকাবিলায় সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়ার কারণে, ভ্রান্তনীতির কারণে আজকে দেশে সবচেয়ে করুণ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে কারও কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকারের তরফ থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতর আছেন। তারা একেক সময়ে একেক রকম কথা বলছেন। আমাদের স্থানীয় সরকারের ঢাকা সিটির নর্থের মেয়র গতকাল বলেছেন যে, ‘আর কালবিলম্ব না করে এখন রেড জোনভিত্তিক ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন’। আপনি দেখুন কতটা অসামঞ্জস্যহীনতা হলে, কতটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হলে এ অবস্থা হয়। অনেক আগেই বলা হয়েছে যে দেশে রেড জোন, ইয়েলো জোন, গ্রিন জোন করা হবে। ঢাকা শহরে রেড জোন করে কত অঞ্চল ভাগ করে একদম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে লকডাউন করবেন। একমাত্র পশ্চিম রাজাবাজার ছাড়া কোথাও হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আমার মনে হয়, সরকার জানেও না তারা কী করবেন, কী করতে চাচ্ছে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আমাদের দুর্ভাগ্যের কথা যে, আমাদের সরকার প্রথম থেকেই এই ভয়াবহ বৈশ্বিক মহামারিকে উপেক্ষা করেছে, অবহেলা করেছে। এটার পেছনে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিলো। পরবর্তিকালে যখন এটা একটা মহামারি আকারে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া শুরু করেছে তখন তারা বাংলাদেশে এটা নিয়ে কিছুটা কথা বলতে শুরু করেছে, কাজ করতে শুরু করেছে।’

করোনা মোকাবিলায় সরকারের দেয়া প্যাকেজ প্রণোদনার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সেটা মূলত ছিলো ব্যাংক ঋণ। এই মুহূর্তে সরকারের বড় যে বিষয়টা গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিলো সেটা হলো মানবিক দিকটা। এখানে যে মানুষগুলো আজকে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে, লকডাউনের কারণে, সাধারণ ছুটির কারণে যারা কর্মহীন হয়ে পড়ছে অথবা যারা আজকে কাজ পাচ্ছে না তাদের ন্যূনতম বেঁচে থাকার জন্য যা প্রয়োজন, সেই প্রয়োজনের টাকাও সরকার তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘আপনার দেখেছেন, মাত্র আড়াই হাজার টাকা করে প্রধানমন্ত্রীর একটা অনুদান ৫০ লক্ষ মানুষকে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেটাও পুরোপুরি দলীয়করণ করার ফলে যারা পাওয়া উচিত ছিলো তারা পায়নি। সেটাও মাত্র এককালীন।’

বিএনপির পক্ষ থেকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী প্যাকেজ প্রস্তাবনার কথা উল্লেখ করে তাতে সরকার কোনো সাড়া না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্ধের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্ধ সবচাইতে কম। কী দুর্ভাগ্য এই জাতির। আজকে রাস্তায় মানুষ মারা যাচ্ছে। টেস্ট করতে পারছে না, কোনো টেস্ট হচ্ছে না। এরপরেও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাহেবের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের যে কিট উদ্ভাবন করলেন সেই কিটকে তারা (সরকার) নাকচ করে দিয়েছেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখছি যে, সিন্ডিকেট কাজ করছে এগুলো (গণস্বাস্থ্যের কিট) কেনার জন্যে। এই চরম দুঃসময়ে আজকে দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। দুর্ভাগ্য এই জাতির, এমন একটি সরকার দেশ শাসন করছে যারা নির্বাচিত সরকার নয়, যাদের কোনও জবাবদিহিতা নেই।’

ফখরুল বলেন, ‘‘বাংলাদেশের মানুষ খুব অসহায় হয়ে পড়েছে। তারা কোনও দিক-নির্দেশনা খুঁজে পাচ্ছে না। সরকারের দুর্নীতির কারণে সমস্ত দেশে কোবিড-১৯ ছড়িয়ে পড়েছে এবং এখন গ্রামে গ্রামে এই করোনা ভাইরাসের রোগী দেখা যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে যেটা- সরকার বলছে যে, এই রোগের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। অথচ সেই অক্সিজেন অপ্রভুলতা, অক্সিজেন কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন নেই।’

হাসপাতালগুলোতে কোবিড রোগের চিকিৎসার জন্য শয্যা খালি থাকাকে ‘এলার্মিং’ অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি মানুষের যে কতটা অনীহা সেটা প্রমাণিত হয়। হাসপাতালগুলোতে যেসব শয্যা চিহ্নিত করা হয়েছিলো কোবিড রোগীদের জন্য সেই বেডগুলো খালি পড়ে থাকছে। কারণ মানুষ হাসপাতালে যেতে চাচ্ছে না। হাসপাতালের যে ব্যবস্থা সেই ব্যবস্থায় কেউ আস্থা রাখতে পারছে না।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘বেশিরভাগ মানুষ ঘরের মধ্যে চিকিৎসা নিচ্ছেন, ঘরে থেকেই অনেকে প্রাণ দিচ্ছেন। সেই অবস্থায় আজকে দুঃস্থ মানবতার স্বার্থে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, গোষ্ঠীসহ সকলকে জনগণের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী হোমিও প্যাথিক চিকিৎসক দলকে করোনা মোকাবিলায় এগিয়ে আসার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘হোমিও প্যাথিক নিসন্দেহে একটি কার্যকরী চিকিৎসা ব্যবস্থা। ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথ দীর্ঘদিন ধরে বেঁচে আছেন, তিনি নিজেও হোমিও প্যাথিক চিকিৎসা নেন। বাংলাদেশে উনি যখন বহুদিন আগে এসেছিলেন তখন তাঁর সঙ্গে হোমিও প্যাথিক ওষুদের বাক্সটি ছিলো।’

‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম মীরপুরে হোমিও প্যাথিক কলেজ স্থাপন করেছিলেন। তিনি দিনাজপুরে হোমিও প্যাথিক শিক্ষার প্রসারে জায়গা বরাদ্দ দিয়েছিলেন’- যোগ করেন তিনি।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী হোমিও প্যাথিক চিকি’সক দলের উদ্যোগে করোনা ভাইরাস সংক্রামণ প্রতিরোধে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের কর্মসূচি হয়। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধমূলক ‘আর্সিনিক এলবাম-৩০’ ও ‘ব্রায়ানিয়া এলবাম-৩০’ কয়েক‘শ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন।

চিকিৎসক দলের সভাপতি ডা. আরিফুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ডা. শফিকুল আলম নাদিমের পরিচালনায় সহ-সভাপতি মশিউজ্জামান পান্নু, মজিবুল্লাহ মুজিব, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম জাকির হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী নিজাম উদ্দিন প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly and PDF

———