চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০ , ২৬ আষাঢ়, ১৪২৭

জুন থেকে শ্রমিক ছাঁটাই: রুবানা হক

প্রকাশ: ৪ জুন, ২০২০ ৭:৩০ : অপরাহ্ণ

করোনাভাইরাসের কারণে রপ্তানি কমে যাওয়া ও কারখানাগুলোর সক্ষমতা কমে যাওয়ার তথ্য জানিয়ে জুন থেকে শ্রমিক ছাঁটাই ছাড়া উপায় থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক। বৃহস্পতিবার বিজিএমইএর উদ্যোগে স্থাপিত করোনা পরীক্ষার ল্যাব উদ্বোধনে তিনি এ কথা বলেন।

করোনায় পোশাক খাতে ৫ বিলিয়ন ডলারের ধাক্কা লেগেছে বলেও জানান তিনি।

গাজীপুরের চন্দ্রায় ডা. ফরিদা হক মেমোরিয়াল ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতালে স্থাপিত এই ল্যাব বিশ্বের অন্যতম সর্বাধুনিক। এতে প্রতি শিফটে ১৮০টি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। আর এতে কাজ করবেন ১৬ জন স্টাফ। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন ৪০০ নমুনা পরীক্ষা করা হবে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী শিফট ও মেশিন সংখ্যা বাড়ানো হবে। এই ল্যাব কভিড-১৯ টেস্টের ফল ‘১০০ ভাগ’ সঠিক বলেও জানানো হয়।

রুবানা হক বলেন, করোনার কারণে কানরখানাগুলোর সক্ষমতা ৫৫ শতাংশে নেমেছে। তাই নিয়ে উৎপাদন চালাতে হলে কারখানাগুলোর পক্ষে শ্রমিক ছাঁটাই ছাড়া উপায় থাকবে না। আর সেই কারণেই জুন থেকে কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হবে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা, কিন্তু করার কিছু নেই। অবশ্য হঠাৎ পরিস্থিতির উন্নতি হলে এই শ্রমিকরাই অগ্রাধিকার পাবেন।

তবে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের জন্য কোনো তহবিল গঠন করা যায় কিনা সে ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে রুবানা হক জানান।

তিনি বলেন, এপ্রিল ও মে মাসে যেসব কারখানা শ্রমিক ছাঁটাই করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিজিএমইএ। তার বাইরে না। কারণ, ছাঁটাই অথবা কাজ দেওয়া এ দুটিই করতে হয় উদ্যোক্তাদের। শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছ থেকে বড় একটা সহায়তা পেয়েছিলেন মালিকেরা। সেটি জুন মাসে শেষ হবে। তবে ৫৫ শতাংশ সক্ষমতায় কারখানা চালিয়ে শতভাগ কর্মী রাখা উদ্যোক্তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘করোনা পরীক্ষা না করালে অনেকে আক্রান্ত হবেন। তাতে শিল্প চালানো মুশকিল হয়ে যাবে। তাই প্রয়োজন হলে আরও ল্যাব স্থাপন করুন। আক্রান্ত রোগীকে রাখার জন্য কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন ইউনিট করুন।’

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, অনেক দেশ চীন থেকে ব্যবসা সরিয়ে নিচ্ছে। তাদের বাংলাদেশে আনার জন্য সরকার কাজ করছে। দেশে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক জোনের মধ্যে ১১টি প্রস্তত। একমাত্র বাংলদেশই বিভিন্ন দেশের জন্য আলাদা অর্থনৈতিক জোন করছে। জোনগুলো সরকারি ও বেসরকারি মালিকানায় আছে। তিনি বেলেন, করোনাভাইরাস না থাকলে বিশ্ব ব্যাংকের ব্যবসায় পরিবেশ সূচকেও আমরা কিছুটা এগোতাম।

অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্স ও অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও সাংসদ, বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরী, ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি এ কে আজাদ খান প্রমুখ।

Print Friendly and PDF

———