চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০ , ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ড. মোহাম্মদ সামছুদোহা

শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া যাবে না..

প্রকাশ: ১ মে, ২০২০ ৩:২৫ : অপরাহ্ণ

মারাত্মক সেশন জ্যামে আটকে থাকা কিছু ছাত্রের সাথে কথা বলে মনটা ভারী হয়ে গেল। কারো বাড়ি থেকে প্রেসার বাবা রিটায়ার্ড, কারো এই ভার টানার সামর্থ্য নেই আরও অন্য অনেকের হরেক রকম সমস্যা। তাছাড়া এই যুগে কেউ চার বছরের কোর্স পাঁচ-ছয় বছরে শেষ করে কিনা? উন্নত বিশ্বে একদিনও এদিক সেদিক হয় না। ছেলেমেয়েরা ঠিক ভর্তি হবার দিনই জানেন কোনদিন তাদের গ্রাজুয়েশন হবে। ঠিক সেই অনুযায়ী ওরা সব প্লান করে।

বাংলাদেশে প্রায় ৮-১০ লক্ষ ছেলেমেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। প্রাইভেট পাবলিক প্রায় সমানভাবে ভাগ করে নিয়েছে এদের। বিশ বছর আগেও সিনারিও এইরকম ছিল না। এই দুই মাসের লকডাউনে প্রাইভেটরা আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। এদের প্রায় বেশির ভাগই অনলাইনে কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। এক্ষেত্রে পাবলিক আরো এক যোজন পিছিয়ে গেল! কেন এইরকম হল? এখনো ইনফ্রাস্ট্রাকচার চিন্তা করলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অনেক এগিয়ে। রিসোর্সেও অনেক এগিয়ে। কারণ পাবলিকের ফ্যাকাল্টিরাই প্রাইভেটে ক্লাস নিয়ে উনাদের সাহায্য করেন। তাহলে কি কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে? এমন নাতো যে পুরানো মন মানুষিকতার কারণে? জানি না? যারা কাজ করছেন উনাদের ক্ষতিয়ে দেখতে হবে সমস্যা কোথায়? সমস্যা থাকলে উপড়ে ফেলতে হবে না হয় যুগের পর যুগ সমস্যা টানতে হবে।

করোনা এলো আর দাপট নিয়ে রাজত্ব করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। কি উন্নত কি অনুন্নত কাউকে ছাড়ছে না। আমি যেহেতু এই মুহূর্তে আমেরিকায় একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি আমি দেখতে পাচ্ছি কি রাতারাতি ওরা যতটুকু পারে অনলাইনে নিয়ে আসছে সমস্ত কাজ কর্ম। আমাদের লিখাপড়ার এক ঘণ্টাও ব্যাঘাত হয়নি। কারণ এদের এখানে অনলাইনের ইনফ্রাস্ট্রাকচার রেডি ছিল। জাস্ট প্রপার প্লানিং করে ঘোষণা দেয়ার সাথে সাথেই সব অনলাইনে। আজ প্রায় ৮ সপ্তাহ আমরা লকডাউনে কিন্তু লিখাপড়ার কার্যক্রম বন্ধ নাই। এই সপ্তাহ পরেই সেমিস্টার ফাইনাল।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন কিছু প্রতিষ্ঠান/বিভাগ অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন। সহি বললে, কিছু সংখ্যক নিচ্ছেন। একই বিভাগের অনেক শিক্ষক নির্বিকার। আবার অনেক বিভাগের শিক্ষকরা নাকে তেল দিয়ে বসে আছে এই বলে এইটা তার কাজ না। কিছু না করলেও চাকুরী যাবে না ভাব। অথবা অনলাইন ফরম্যাটে পারবেন না ভাবছেন। আসলেই কি? তাহলে প্রাইভেট কি করে পারছে? একই বয়সের মানুষগুলোই নিচ্ছেন।

অন্যদিকে অনেক ছাত্ররা এই খরচ চালাতে পারবেন না বলছেন। ছাত্ররা যারা এফোর্ড করতে পারছে না তাদের বলি, এক মাস বাড়ির বাইরে থাকলে আপনার কি তিন হাজার টাকা খরচ হত না? এখন দেড় থেকে তিন হাজারে কাজ চালানোর মত স্মার্ট ফোন পাওয়া যায়। এক শত টাকায় এক জিবি ইন্টারনেট পেয়ে যাবেন। তাহলে কেন গোগাই করছেন। তাছাড়া এই অনলাইন লেকচার রেকর্ড করা যায়, আপনি যখন ইন্টারনেট পাবেন দেখে নিতে পারেন। অনেক সহজ তাই না? এখন গুগল মিটিং এপ্লিকেশন ২৫০ জন নিয়ে কাজ করা যায়। ফ্রিতে দিচ্ছে। আর কি চাই? আমাদের চার পাঁচ বছরের বাচ্চারা কাজ করছে জুম না হয় গুগুল মিটিঙে। সেখানে উনারা পারবেন না তা কেমন করে হয়? একটু চাইলেই পারবেন। আর না হয় এই ছেলেমেয়ে গুলো পিছিয়ে যাবে।

সেতু করেন, ফ্রিগেট কিনেন, যুদ্ধ জাহাজ কিনেন ভাল কথা। হয়ত আমাদের এসবই দরকার আছে। সে তোড়কে যাবো না। কিন্তু দেশটি যে জায়গায় আগানো দরকার তা হল শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান আর কর্মসংস্থান। আগে এইসব শেষ করে মানুষ মঙ্গলে পাঠালে কে অখুশি হবে? প্রাইভেট পারলে পাবলিকও পারা উচিত। ইংলিশ মিডিয়াম পারলে বাংলা মিডিয়ামও পারা উচিত। না পারলে পারানোর জন্য লক্ষ কোটি টাকা নিশ্চই লাগবে না। এই টাকাতো এক বছরেই অনেক ভাবে নষ্ট কিংবা পাচার হয়ে যায়। একটু নজর দিন আমাদের অভাগা ছেলেমেয়েদের প্রতি। পৃথিবী বেঁচে থাকলে শিক্ষিত মানুষ দরকার। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য শিক্ষা দরকার। পৃথিবীর শিক্ষা থেমে নেই। আমাদেরটা কেন থেমে থাকবে?

লেখক: Dr. Mohammad Shamsuddoha, Western Illinois State University, Illinois, USA

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। সিটিজি টাইমস ডটকম-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই সময়ের কথা বিভাগে প্রকাশিত লেখার জন্য সিটিজি টাইমস ডটকম কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Print Friendly and PDF

———