চট্টগ্রাম, রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০ , ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী বায়তুশ শরফের পীর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন

প্রকাশ: ২৩ মে, ২০২০ ১১:২৯ : অপরাহ্ণ

oএশিয়া মহাদেশের বিখ্যাত আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠান বায়তুশ শরফের পীর হিসেবে দায়ত্বি গ্রহণ করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও গবেষক আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী।

বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ ও মজলিসুল ওলামা বাংলাদেশের এক যৌথ সভা আজ ২৩শে মে ২০২০ইং তারিখ বায়তুশ শরফ কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদে আছর অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে আনজুমনে ইত্তেহাদের সম্পাদক (সংগঠন ও সমাজ কল্যাণ) আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া এবং মজলিসুল ওলামা বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা মামুনুর রশীদ নূরী যৌথভাবে আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী ছাহেবকে বায়তুশ শরফের পীর হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

মজলিসুল ওলামা বাংলাদেশের জৈষ্ট্য সদস্য বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াছের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মাওলানা মামুনুর রশীদ নূরী সাহেবের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন নদভী। মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আহসান উল্লাহ (আহসান সাইয়্যেদ)। উপস্থিত ছিলেন মরহুম শাহ মাওলানা কুতুব উদ্দিন (রহ:) এর সুযোগ্য সন্তান মাওলানা ছালাহ উদ্দিন বেলাল, আল্লামা কাজী জাফর আহমদ, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ডাইরেক্টর আলহাজ্ব মর্তুজা ছিদ্দিকী, বায়তুশ শরফ মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মুসা, মাওলানা কাজী শিহাব উদ্দীন, মাওলানা সিরাজুল হক নদভী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা নাঈমুল্লাহ, মুহাদ্দিস মাওলানা ফজলুল রহমান, মাওলানা আবদুল কাইয়ুম, আলহাজ্ব মুহাম্মদ ইয়াছিন, মাওলানা শাহ আলম, মাওলানা মুহিব্বুর রহমান, হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমান এছাড়াও আনজুমানে ইত্তেহাদ, মজলিসুল ওলামা ও আনজুমনে নওজোয়ানের সহস্রাধিক দায়িত্বশীল উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রফেসর আবু রেজা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন নদভী সারগর্ব বক্তব্য রাখেন। প্রফেসর ড. আহসান সাইয়্যেদও তার মুল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া উপস্থিত শীর্ষ আলেম ওলামা তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। পরে সকলের সর্বসম্মতিক্রমে বায়তুশ শরফের খাদেম হিসেবে বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার শাহসুফী আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রহ:) এর সুযোগ্য ছাহেবজাদা বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভীকে পীর হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। সভা শেষে নবনির্বাচিত পীর আল্লামা আবদুল হাই নদভী উপস্থিত সকলকে তাওবা, বাইয়াত এবং মোনাজাত পরিচালনা করেন।

মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভীর সংক্ষিপ্ত জীবনী:
মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী ১৯৬৪ সালে লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের মিয়াজী পাড়া গ্রামে বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার হাদিয়ে জামান শাহ সূফী আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (রহ.) ও মুহতারামা মনছুরা বেগমের ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ৮ভাই বোনের মধ্যে চতুর্থ এবং পুত্রদের মধ্যে ১ম। বর্তমানে তিনি বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স, জিলানী মার্কেট, ধনিয়ালাপাড়ায় বসবাস করে আসছে।

শিক্ষা জীবন:
ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মের সুবাদে তিনি কোরআন ও ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞান পরিবারেই শিক্ষা লাভ করেন। এরপর সেনেরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি কুমিরাঘোনা আখতারুল উলুম মাদরাসা অধ্যয়ন করেন এবং বড়হাতিয়া এশাতুল উলুম মাদরাসা থেকে দাখিল কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়। ১৯৮৩ সালে ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদরাসায় আলিম শ্রেনীতে ভর্তি হয়ে আলিম, ফাজিল ও কামিল পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়। ১৯৯০সালে কামিল পাস করার পর তিনি উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য ভারতের আশ শরিয়াতুল ইসলামীয়া এন্ড উসূলুদ দ্বীন, নদওয়াতুল উলামা ইউনিভার্সিটি, লখনৌতে ভর্তি হয়। ভারতের লখনৌ ইউনিভার্সিটি হতে বি.এ (অনার্স) এবং ভারতের আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি থেকে এম ফিল (গবেষণা হাদিস তত্ত) অর্জন করেন।

বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ আল্লামা সৈয়দ আবুল হাসান আলী হাসানী নদভী (রাহ.) কর্তৃক ছহীহ বোখরী শরীফের সনদ প্রাপ্ত হয়। তিনি বাংলা, ইংরেজী, আরবী, উর্দূ, ফার্সী, হিন্দী ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। ইসলামের প্রচার প্রসার এবং দেশ বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার সিম্পোজিয়ামে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি থাইল্যান্ড, ভারত, সৌদি আরব, জর্দান, ইরাক, ফিলিস্তিন ও মায়ানমারসহ বহু দেশে গমন করেন।

এ্যাওয়ার্ড অর্জন:
শিক্ষা ও গবেষনায় বিশেষ অবদান রাখায় “মাওলানা মরিুজ্জামান ইসলামাবাদী গবেষনা পরিষদ” কর্তৃক স্বর্ণ পদকে ভূষিত করা হয়, শিশু উন্নয়ন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখায় শিশু উন্নয়ন ও মানবাধিকার ফোরাম কর্তৃক এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত হয়,“সাহিত্যিক আবুল ফজল ফাউন্ডেশন” কর্তৃক শিক্ষা ও সাংস্কৃতির উপর বিশেষ অবদান রাখায় এ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। “মদিনা ইসলামী মিশন বাংলাদেশ” কর্তৃক আদর্শ লেখক হিসেবে যথাযথ ভূমিকা রাখায় এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন, “জাগৃতি লেখক ফোরাম” কর্তৃক গুণীজন হিসেবে এ্যাওয়ার্ড ও সম্মননা প্রদান করা হয়, কুতুবদিয়া দারুল হিকমা কর্তৃক সম্মাননা এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

প্রকাশিত গ্রন্থ: মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী বহুগ্রন্থ লিখেছেন। তাঁর রচিত গ্রস্থ দেশ-বিদেশে সুখ্যাতি অর্জন করেন। এ পর্যন্ত প্রায় ১৫০টি বই প্রকাশিত হয়।

অধ্যাপনা: আল্লামা আবদুল হাই নদভী ১৯৯৩ সাল থেকে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। তিনি বর্তমানে সিনিয়র শিক্ষাক হিসেবে অধ্যাপনায় আছেন।

আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি: এর পরিচালক, ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড এর শরিয়াহ সুপারভাইজারিং কমিটির সেক্রেটারী, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড এর শরিয়াহ সুপারভাইজারিং কমিটি সদস্য, মার্কেন্টাইল ইসলামি ইনস্যুরেন্স লিমিটেড এর শরিয়াহ সুপারভাইজারিং কমিটি সদস্য ছাড়াও বহু ধর্মীয়, সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত আছেন। বায়তুশ শরফ থেকে প্রকাশিত মাসিক দ্বীন দুনিয়া ও শিশু কিশোর দ্বীন দুনিয়ার সহ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও তিনি আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার ফাউন্ডেশন ও আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার পাবলিক লাইব্রেরীর চেয়ারম্যান, বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশের সদস্য, প্রধান উপদেষ্টা শাহ আবদুল জব্বার সমাজ কল্যাণ পরিষদ,কেন্দ্রীয় সদস্য, আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বাংলাদেশ, সহ সভাপতি শাহ্ জব্বারিয়া হাসপাতাল, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম, সভাপতি তা’লীমুল কোরআন মাদ্রাসা, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম। চেয়ারম্যান, আল মদীনা ফাউন্ডেশন, প্রতিষ্ঠাতা শাহ আবদুল জব্বার আশ শরফ একাডেমী (প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান) আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি জড়িত।

Print Friendly and PDF

———