চট্টগ্রাম, সোমবার, ১ জুন ২০২০ , ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মানিকছড়িতে বাড়ছে ভুট্টার আবাদ

গো-খাদ্যের জন্য তৈরী হচ্ছে পুষ্টিকর ‘সাইলেজ’

মো. মনির হোসেন, মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০ মে, ২০২০ ১:১২ : অপরাহ্ণ

মানিকছড়িতে বাড়ছে গ্রীস্মকালিন ফসল ভুট্টার আবাদ। সরকার কৃষকদেরকে ভুট্রা চাষে আগ্রহী করতে বীজ-সারসহ প্রণোদনা দেয়ার পাশা-পাশি ডেইরী ফার্মের গো-খাদ্য হিসাবে ভুট্টার গাছ, পাতা, কান্ড ও দানা থেকে পুষ্টিকর সাইলেজ তৈরী হওয়ায় বাড়ছে ভুট্টার আবাদ। যার ফলে শাক-সবজির পাশা-পাশি ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে প্রত্যান্ত লের কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষি সমৃদ্ধ উপজেলা মানিকছড়িতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির জমিতে কৃষকরা শাক সবজির পাশাপাশি ভুট্টা চাষে আগ্রহ থাকলেও বাজারজাত করণের সুযোগ-সুবিধা না থাকায় উৎপাদন কমতে থাকে। সম্প্রতি উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদেরকে ভুট্রা চাষে আগ্রহী করতে বীজ-সারসহ প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ গ্রহনের পাশা-পাশা গো-খাদ্য হিসাবে ভুট্টার গাছ, পাতা, কান্ড ও দানা থেকে পুষ্টিকর সাইলেজ তৈরী হওয়ায় বাড়ছে ভুট্টার আবাদ। গত মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২২হেক্টর জমিতে শতাধিক প্রান্তিক কৃষক ভুট্টাচাষ করেছেন। বর্তমানে উপজেলায় ছোট-বড় ৩৯টি ডেইরি খামার রয়েছে। এসব ডেইরি ফার্মে পুষ্টিকর গো-খাদ্য হিসেবে সাইলেজ তৈরীতে ব্যবহার হচ্ছে ভুট্টার গাছ, পাতা, কান্ড ও দানা। ডেইরি ফার্মে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ভুট্টা গাছ ৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকছড়ি উপজেলা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডেইরি খামার মালিক সমিতি’র সভাপতি এ. কে. এগ্রো ডেইরী খামারের মালিক হাজী মো. ইকবাল হোসেন জানান, আমি নিজে এবার ২২হেক্টর জমিতে (মানিকছড়ি-১৩, ফটিকছড়ি-৯) ভুট্টা চাষ করেছি। উৎপাদিত ভুট্টার গাছ, পাতা, কান্ড ও দানা থেকে গো-খাদ্যের উপকরণ হিসেবে সাইলেজ তৈরি করছি। এই ২২ হেক্টর জমির ভুট্টা থেকে সাইলেজ তৈরি হচ্ছে ৪শ ৪০ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য ৩০লক্ষ টাকা। উৎপাদনে মোট ব্যয় হয়েছে ২২ লক্ষ টাকা। যার ফলে সাইলেজ তৈরিতে ভুট্টা চাষী লাভবান হচ্ছে। লাগানোর ৭০-৮০ দিনে মধ্যে গাছে ফল আসলে ভুট্টা গাছটি কেটে নিতে হয় এবং আধুনিক মেশিনের মাধ্যেমে সাইলেজ তৈরি করা হয়। সরকার যদি ভুট্টা চাষে ভতুর্কিতে আধুনিক মেশিন কিনতে সহায়তা দেয় তাহলে পাহাড়ে ভুট্টা চাষে বিপ্লব ঘটবে। শুধু আমার খামারে বছরে চাহিদা ৭শ মেট্রিক টন। উপজেলার সকল খামারে এ প্রযুক্তি (সাইলেজ) ব্যবহার করলে ভুট্টা সমতল থেকে আমদানির প্রয়োজন দেখা দিবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ভুট্টা চাষে সরকার কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে বীজ, সারসহ সেবা দিচ্ছে। এ বছর উপজেলায় ব্যক্তি মালিকানাধীন ২২হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। যেহেতু ডেইরি খামারগুলোতে ভুট্টার যাবতীয় অংশ ব্যবহার করে সাইলেজ তৈরি শুরু হয়েছে আশা করি কৃুষকদের আর দুঃশ্চিন্তা থাকবে না।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্ত ডা. সুচয়ণ চৌধুরী বলেন, পশু খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় নিশ্চিত করণে গো-খাদ্য হিসেবে ভুট্টা গাছ থেকে পুষ্টিকর সাইলেজ তৈরি হচ্ছে এতে করে এক দিকে ভুট্টা চাষ বাড়বে অন্যদিকে গো-খাদ্যের সংকট দূর হবে। সাইলেজ তৈরি সহজ করতে ও আধুনিক মেশিন ক্রয়ে সরকার ভর্তুকি দিলে কৃষকদের পাশা-পাশি খামারীরা উপকৃত হবে।

Print Friendly and PDF

———