চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০ , ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পজেটিভ থেকে নেগেটিভ: আপাতত রাঙামাটি করোনামুক্ত জেলা

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি থেকে প্রকাশ: ১১ মে, ২০২০ ৮:৩৯ : অপরাহ্ণ

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে প্রথম পর্যায়ে পজেটিভ সনাক্ত হওয়া চার করোনা রোগীর রিপোর্ট দ্বিতীয় পর্যায়ে নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে, এখন পর্যন্ত রাঙামাটিতে আর কোনো পজেটিভ রোগী না থাকায় আপাতত রাঙামাটি করোনামুক্ত জেলা বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ।

রাঙামাটির স্বাস্থ্য বিভাগের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডাঃ মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল পর্যন্ত রাঙামাটি থেকে সর্বমোট ৪৬১টি নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে যার মধ্যে ২১টি এসেছে আজ। এই নিয়ে সর্বমোট ৩০১টি নমুনার ফলাফল হাতে এসেছে যার মধ্যে ৪টি ছাড়া বাকি সবগুলোই নেগেটিভ। তবে উক্ত চারটির মধ্যে ১০ মে দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায় ৩৮ বছর বয়সী রাঙামাটি সদর হাসপাতালের একজন নার্স ও ৫০ বছর বয়সী মোল্লাপাড়ার ব্যক্তিটির রিপোর্ট নেগেটিভ আসে আবার ১১ মে দেবাশিষ নগরের ১৯ বছরের যুবক ও রিজার্ভ বাজারের ৯ মাস বছর বয়সী শিশুটির রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

এরআগে, এক মাস ২৮ দিন, ঘন্টার হিসেবে ১৩৯২ ঘন্টা সারাদেশের মধ্যে একমাত্র করোনামুক্ত জেলার মুকুট ধরে রেখেছিল পাহাড়ি জেলা রাঙামাটি। ৬ মে হঠাৎ ৪ জনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে সেই মুকুট হারায় জেলাটি। ৪ জনের করোনা পজেটিভ আসার খবরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র জেলায় কিন্তু তাই বলে মনোবল হারায়নি অত্রাঞ্চলের দৃড়চেতা মানুষগুলা।

শুরু থেকেই অভিভাবকের মত জেলাটিকে আগলে রাখা জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ ৭ মে এক জরুরী সভায় আশাবাদ ব্যাক্ত করেছিলেন দ্বিতীয় দফায় এই ৪জনের রিপোর্ট নেগেটিভ আসার সম্ভাবনা বেশি। অবশেষে তার আশাই সত্যি হল। ১০ ও ১১ই মে ধাপে ধাপে আসা দ্বিতীয় দফা পরীক্ষার রিপোর্টে ৪ জনেরই করোনা নেগেটিভ আসলো।

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, আমি ৪ জন রোগীর স্বাস্থ্যের অবস্থা দেখে প্রথমদিন থেকেই আশা ধরে রেখেছিলাম এই ৪ জনের কোনভাবেই করোনা থাকতে পারে না। কারণ করোনা রোগের যেসব লক্ষণ থাকে তা এই ৪ জনের মধ্যে ছিটেফোঁটাও ছিল না। দ্বিতীয় দফার রিপোর্টে আমরা এখন অনেকটাই নিশ্চিত যে তাদের করোনা নেই। তাই আমরা আপাতত রাঙ্গামাটিকে করোনামুক্ত বলতে পারি। তিনি জেলাবাসীকে সতর্ক থাকার আহবান করে আরো জানান, এই ৪ জনের নেগেটিভ আসার অর্থ এই না যে বিপদ পুরোপুরি কেটে গেছে। আমাদের আগের চেয়ে এখন আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের ম্যাজিষ্ট্রেটগণ এখনো মাঠে আছেন এবং শেষ পর্যন্ত থাকবেন। এই মুহুর্তে জেলাবাসীর সতর্কতায় আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

এদিকে, রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিসের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডাঃ মোস্তফা কামাল জানান, আমরা এখনো পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। এখনো বাকি থাকা তৃতীয় দফার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আমাদের বেশকিছু ফর্মালিটিজ আছে। ওই ক্যাটাগরি গুলো পূরণ করার পরেই আমরা রাঙামাটিকে করোনামুক্ত ঘোষণা করতে পারবো।

Print Friendly and PDF

———