চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০ , ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিগ্রই ফিরছে নিজ বাড়িতে

ফেনী নদীতে একমাস অবস্থান করা সেই ভারসাম্যহীন নারীর করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ

প্রকাশ: ৩ মে, ২০২০ ৮:০৪ : অপরাহ্ণ

রামগড় প্রতিনিধি

৪৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন, রামগড় জোনের বিজিবি সদস্যদের আন্তরিকতা, মানবিকতা ও অক্লান্ত পরিশ্রম এবং বাংলাদেশরেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগীতায় অবশেষে নিজ পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরে যাচ্ছে রামগড়-সাবরুম সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানরত সেই মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। গত ২রা এপ্রিল থেকে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার ফেনী নদীর মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় গত একমাস অবস্থান করা মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত হয়। তার নাম শাহানাজ পারভিন (৩৫)। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার দইখাওয়ারচর গ্রামের হাতেম আলী শেখ ও ওমেলা খাতুনের মেয়ে। ভারসাম্যহীন অবস্থায় প্রায় দুই বছর আগে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন তিনি।

৪৩ বিজিবি, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব রেডক্রস (আইসিআরসি) ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (বিডিআরসিএস) যৌথ প্রচেষ্ঠায় তাকে স্বজনদের নিকট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিশ্বব্যাপি চলমান মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ আশংকায় সহিলাটির করোনা ভাইরাস নমুনা সংগ্রহ ও পরিক্ষা হস্তান্তরে সময় বাড়ে ৩ এপ্রিল তার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ শনাক্ত হয়। ফলে বিজিবি ও রিডক্রিসেন্টের যৌথ পক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত মহিলাটিকে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ২ এপ্রিল সকালে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী বিএসএফ মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা রুখে দেয় বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরপর থেকে ওই নারী বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত ফেনী নদীর মাঝখানে তথা নোম্যানস-ল্যান্ডের খোলা আকাশের নিচে থাকেন। এই নারী নিজ মুখে তার বাড়ি একবার ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবরুম থানার দোলবাড়ি এলাকায়, আরেকবার হরিণা এলাকায় বলে জানায়। আবার পরবর্তীতে তিনি তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার রইখারচরে বলে দাবি করে। তার বক্তব্যের ভিত্তিতে বিজিবি-বিএসএফ ঠিকানাগুলো শনাক্ত করার জন্য কাজ শুরু করে। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রচার হলে আইসিআরসি ও বিডিআরসিএসের নজরে আসে। বিজিবি-আইসিআরসি ও বিডিআরসিএস যৌথভাবে কাজ করে নারীর নাম পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা শাহানাজ পারভিনের (মানসিক ভারসাম্যহীন নারী) বড় ভাই ওমর আলী, ছোট ভাই সাহেব আলী ও সাহেবের আলগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিক আলী মণ্ডল, উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলে তাকে শনাক্ত করেন। পরিবার জানায়, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি নিখোঁজ আছেন। নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে নোম্যানস-ল্যান্ড থেকে সরিয়ে বাংলাদেশ অংশে আনা হয় এবং তা ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীকে জানানো হয়।

শাহানাজ পারভিনের বড় ভাই ওমর আলী জানান, দীর্ঘদিন থেকে নিখোঁজ ছিলেন তার বোন। হঠাৎ করে বিজিবি-আইসিআরসি ও রেড ক্রিসেন্টের লোকজন সঙ্গে যোগায়োগ করে ছবি-ভিডিও দেখালে আমরা নিশ্চিত হই। বর্তমান সময়ে করোনা ভারাসের কারণে খাগড়াছড়ি রামগড় গিয়ে বোনকে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। তবে রেড ক্রিসেন্টের লোকজন বোনকে বাড়িতে দিয়ে যাবে। তাদের প্রত্যেককে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

৪৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন, রামগড় জোন এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. তারিকুল হাকিম বলেন, ‘পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা তাকে নো ম্যানস-ল্যান্ড থেকে সরিয়ে এনে ভালোভাবে রেখেছি। তবে গত দুই বছর ওই নারী দেশে ছিলেন নাকি ভারতে ছিলেন তা তিনি বলতে পারেননি। তবে বিএসএফ ও ভারতীয় লোকজন তাকে বাংলাদেশি বলেই পুশইনের চেষ্টা করেছিল।’

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের ভাইচ চেয়ারম্যান এডভোকেট জসিম উদ্দিন মজুমদার জানান, বিজিবির আন্তরিকতায় গত দুই বছর ধরে নিখোঁজ থাকা একজন নারীকে আমরা আইসিআরসির রেস্টোরিং ফ্যামিলি লিংকস (আরএফএল) এর মাধ্যমে তার পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করছি। চলমান করোনা ভাইরাস পরিক্ষায় তার রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়াতে হস্তান্তরে আর কোন বাঁধা নেই। আগামী ২/১ দিনের মধ্যে মহিলাটিকে বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্টে সোসাইটির সহযোগীতায় সোসাইটির অ্যাম্বুলেন্সে করে নারীটিকে তার বাবার বাড়িতে পাঠানো হবে।

Print Friendly and PDF

———