চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০ , ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনা ভাইরাস যে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিচ্ছে…

ফজলুর রহমান প্রকাশ: ২০ এপ্রিল, ২০২০ ১০:৫১ : পূর্বাহ্ণ

কবি বলে গেছেন, ‘আকাশ আমায় শিক্ষা দিল, উদার হতে ভাই রে।’ আসলে প্রকৃতির একটি পাঠশালা আছে। যে পাঠশালা সর্বক্ষণ চালু থাকে। সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। যেখান থেকে থেকে যে কেউ যেভাবে যেকোন সময় শিক্ষা নিতে পারেন। কবি এই পাঠশালাকে তুলে ধরেছেন এভাবে ‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র।’

আমাদেরকে এই সময় করোনা ভাইরাসের মহামারী দিয়ে যাচ্ছে তেমন কিছু শিক্ষা। যা গ্রহণ করে মানবজাতি আগামীতে ব্যবহার করতে পারে। তেমন গুরুত্বপূর্ণ ২০টি শিক্ষা নিচে তুলে ধরা হলোঃ

১। সুস্থতাই বড় সম্পদঃ অসুস্থ হলেই ঠের পাওয়া যায় -সুস্থতা কত বড় নেয়ামত। ধন নয়, মান নয় সুস্থ থাকাটাই আসলে সবচেয়ে বড় কিছু। দাঁত থাকতে যেমন দাঁতের মর্যাদা জানা যায় না তেমন বিষয় এখানেও। করোনাভাইরাস নতুনভাবে এই চিন্তার উদ্রেক করে যে অসুস্থ হওয়ার আগে সুস্থতার সময়কে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। একজন করোনাক্রান্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারের সাথে অন্য একজন সুস্থ ব্যক্তি এবং গার পরিবারের সাথে মিলিয়ে দেখলেই চোখের সামনে সব দেখা যায়। তাই সুস্থতা নামক মহামূল্যবান সম্পদকে জোরালোভাবে সকলের সামনে তুলে ধরছে করোনা ভাইরাস।

২। বাইরে পা রাখাটাও বড় বিষয়ঃ কবি লিখে গেছেন, ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে দুই পা ফেলিয়া।’ নিকট সৌন্দর্য ফেলে দূরের পানে ছুটে যাওয়াকে তুলে ধরা হয়েছে এখানে। আর এখন নিকট সৌন্দর্যও হাতছাড়া। ইতালির এক ডাক্তার লিখেছেন, ‘মানুষ যদি করোনার ভয়াবহতা বুঝতো তাহলে জানালা খুলেও বাইরে দেখতো না।’ এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ঘর থেকে বাইরে দুই পা ফেলার সাহসও যেন নেই। এখন সকলে বুঝতে পারছে ঘরের বাইরে পা রাখতে পারাটাও কত বড় এক সৌভাগ্য। করোনা এমন সব সত্য নতুন করে সামনে এনে চিনিয়ে যাচ্ছে সকলকে।

৩। জীবন তুচ্ছঃ করোনাভাইরাস আমাদের শিখিয়েছে জীবনের ক্ষুদ্রতা ও ক্ষয়িষ্ণুতা। করোনাভাইরাস আমাদের সামনে এই জীবন্ত সত্য তুলে ধরেছে যে, মৃত্যু মানবজীবনের অনিবার্য নিয়তি ও পরিণতি। জীবমাত্র মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে। যে যেকোনো সময় মৃত্যু হতে পারে। তাই মৃত্যুর জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকা উচিত। অযাচিত মায়া, মোহ, দম্ভ, অহংবোধ ত্যাগ করে চলা দরকার। নিজের সব কাজ স্বচ্ছ ও পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। যাতে দুয়ারে দাঁড়ানো মৃত্যুর পর আফসোস করতে না হয়।

৪। কোন শক্তি অসীম নয়ঃ করোনাভাইরাস আমাদের শিখিয়েছে, মানুষ শিল্পে, শিক্ষায়, শক্তিতে, সমরাস্ত্রে, বিজ্ঞানে ও প্রযুক্তিতে যতই উন্নতি লাভ করুক না কেন কেউ আসলে অসীম নয়। বরং এক পিঠে দাপট তো অন্য পিঠে অসহায়ত্ব। সারাবিশ্বে এখন অসহায় আত্মসমর্পণ দৃশ্যমান। ‘কি করিবে আজ ভেবে না পায়’ অবস্থা। একটি ক্ষুদ্র ভাইরাসের থাবায় বিপদাপন্ন বিশ্ব। কোথাও কোন সুসংবাদ নেই। অসীম ক্ষমতা দেখানো বীরবাহুর পতন দেখে বুঝে নিতে হচ্ছে কেউ আসলে অসীম নয়। সবকিছুরই সীমানা থাকে। অসীম কেবল স্রষ্টা। স্রষ্টার বাহাদুরি সৃষ্টির গতরে মানায় না।

৫। প্রকৃতিকে বিরক্ত করা যাবে নাঃ মানুষ যখন ঘরবন্দী প্রকৃতি তখন আনন্দ উল্লাসে। সাগর তীরের জনসমাগম বন্ধ হওয়ায় মাছ-ডলফিনরা মেতেছে জলকেলিতে। শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ কমে যাওয়ায় পাখ-পাখালির বিপুল আনন্দ চোখে পড়ছে। নদী ফিরে পাচ্ছে আপন রং। বৃক্ষগুলোও হয়েছে আরো সতেজ। ভরপুর অক্সিজেন। বনের পশুরা নেমে এসেছে মনুষ্যহীন রাজপথে। সবমিলে জৈববৈচিত্র ভরা পরিবেশ। শেষ কবে এমন পরিবেশ দেখেছে মানুষ তা ভুলে গেছে। এরফলে বুঝা সহজ যে, প্রকৃতিকে বিরক্ত না করলে মানবজাতি আরো সুন্দর পরিবেশে বসবাস করতে পারে।

৬। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাঃ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় করে দেখা হচ্ছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকে। সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়া, স্যানিটাইজারে জীবাণু নিধন, ব্লিচিং পাউডারসহ নানা জীবাণু নাশক ব্যবহার করে রোগমুক্ত থাকার নানা প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। শরীর পাক, কাপড় সাফ জাতীয় কাজ করে সংক্রমণ থেকে দূরে থাকার দীক্ষা দেখা যাচ্ছে। অযথা নাকে মুখে চোখে হাত দেয়া, যেখানে সেখানে কফ, থুথু ফেলার মতো বদভ্যাস ত্যাগ করে চলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া গ্লাভস-ক্যাপ-মাস্ক ব্যবহার, খাদ্য উপাদান জীবাণুমুক্ত করা, পরিধেয় জীবাণুমুক্ত রাখা জাতীয় সচেতনতাও চোখে পড়েছে। রপ্ত করা এসব সুঅভ্যাস দৈনন্দিন জীবনে কাজে আসতে পারে।

৭। কেউ কারো নয়ঃ মাকে রাস্তায় ফেলে যাচ্ছে সন্তান। বাবাকে রেখে আসছে জঙ্গলে। ভাইয়ের লাশ ফেলে ভাই হাওয়া। বোনকে দেখতে নারাজ বোন। বন্ধুত্ব অস্বীকার করছে বন্ধু। কাছের জন অচেনা হচ্ছে। যে যাকে পারছে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। সামাজিক জীব মানুষ অসামাজিক রূপ ধারণ করে নিজ বৃত্তে বন্দী। সীমান্ত বন্ধ করে চলে একের পর এক রাষ্ট্র। সাহায্য সহযোগিতার হাত সংকোচন করে নিজে বাঁচতে ব্যস্ত বেশিরভাগ। আসলে করোনাভাইরাস আমাদের নির্মম বাস্তবতা শিখিয়েছে। এই ভাইরাস দূরে যাওয়া ও দূরে থাকার সর্বাত্মক নির্দেশনা দেয়। এখান থেকেই ধরে নেয়া যায় চূড়ান্ত পরীক্ষায় কেউ কারো নয়।

৮। সঞ্চয়ই শক্তিঃ সঞ্চয় মানে দুঃসময়ের অবলম্বন। আগে গোলা ভরা ধান ছিল, পুকুর ভরা মাছ ছিল, ফসল ভরা ক্ষেত ছিল। সিন্দুক ভরা টাকা ছিল। এসবের কারণে দুঃসময় ঠের পাওয়া যেত না। এখন সেই পথ নেই, প্যাচালীও নেই। এখন মানুষ ব্যাংকমুখী। টাকা দিয়ে কেনা সামগ্রীতে চলছে জীবন। এরমাঝে যারা সঞ্চয় করেছেন তাদের আত্মবিশ্বাস আছে৷ আর অন্যদের হতদশা। তাই সঞ্চয়ী প্রবণতার পাঠ দিয়ে গেল করোনা।

৯. শিষ্টাচারঃ বর্তমানে স্মার্ট শিষ্টাচার বলে একটা কথা প্রচলিত হয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকা ও আধুনিক শিক্ষিত লোকেরা হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার বলতে ‘স্যরি’, এক্সকিউজ মি’ ইত্যাদির সঙ্গে পরিচিত ছিল। তবে এসব কেবল উপরি প্রকাশ মাত্র। এতে স্বাস্থ্যগত দিক উপেক্ষিত। হ্যান্ডশেক, কোলাকুলিতেও নেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা। এবার তাই সবখানে ঝাঁকুনি দিলো করোনা। জানান দিলো- শিষ্টাচারের চেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো বেশি জরুরি।

১০। আত্মশুদ্ধিঃ প্রখ্যাত হার্ট স্পেশালিষ্ট ডাঃ দেবী শেঠী এর বিখ্যাত একটি উক্তি আছে। তিনি বলেছেন, ‘রাতে ঘুমানোর সময় ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিন, সকালে জেগে উঠেও ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিন, সুস্থ থাকবেন।’ তিনি আসলে আধ্যাত্মিক বিষয়কে ভুলে না যাওয়ার জন্য তা বলেছেন। স্রষ্টার প্রতি সমর্পনে যে মানসিক শক্তি আসে তা আরো অনেক চিকিৎসা বিজ্ঞানীও বলেছেন। সেই স্রষ্টার প্রতি আরো নিবিষ্ট মনে ঘরে ঘরে ইবাদত/ প্রার্থনার সুযোগ এসেছে এবার। পাশাপাশি পারিবারিক পরিবেশ যে মূল্যবোধ শেখার কথা সেই সুবিধাও হাজির। স্রেফ একটি মাস্কের কথা ধরা যাক। মাস্ক থেকে এটা শিখতে পারে যে যেখানে-সেখানে মুখের ব্যবহার করা যাবে না, মুখের লাগামহীন ব্যবহার নিষিদ্ধ। এভাবে নিজেকে এবং অন্যদেরকে আরো শুদ্ধ করে তোলার সুবর্ণ সুযোগ এই করোনাকাল।

১১। রোগব্যাধির সচেতনতাঃ কেবল এই ভাইরাস নয়, সাবেকি আমলের প্লেগ, কুষ্ঠ, বসন্ত থেকে শুরু করে হাল আমলের ইবোলা, সার্স রোগের লক্ষণ, কারণ, প্রতিকার ও ফলাফল সম্পর্কেও ঘরে ঘরে এখন বিশেষজ্ঞ তৈরি হয়ে গেছে। এসব রোগ পন্ডিতরা আগামী দিনে এসব বিষয়ে সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

১২। জীবনাচরণে পরিবর্তনঃ সুস্থ দেহ, সুন্দর মন মিলে একজন যথাযথ মানুষ। সুস্থ ও নিরাপদ জীবনের একটি রুটিন জানা হয়ে গেছে। কখন খেতে হবে, কখন শুতে গেলে ভালো, কোনটি করতে হবে, কোনটা বাদ দিতে হবে প্রভৃতি বিষয়ে কমবেশি সকলের ধারণা জন্মেছে। বিশেষ করে, ধূমপান ত্যাগ, অধিক রাত না জাগা, সময়মতো খাবার গ্রহণ, সুস্থ ধারার বিনোদন, সৃষ্টিশীল কাজে সময় ব্যয় ব্যায়ামসহ নানা বিষয়ে সচেতনতা এসেছে। অনেকে পুষ্টিবিদ এবং লাইফস্টাইল স্পেশালিষ্টদের মতামত অনুসারে পথ চলার অভ্যাসও করে ফেলেছেন। এসব আগামীতে কাজে লাগানো যেতে পারে।

১৩। খাদ্যাভ্যাস বদলানোঃ বাইরের খাবার খাওয়া, হোম ডেলিভারিতে খাবার আনা, ফাস্টফুড সংস্কৃতিতে বড় থাপ্পড় দিয়েছে করোনা। এসব প্রসেসে খাবার গ্রহণে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা গেছে। তাই অনেকে এটা বন্ধ করে ঘরের খাবারে দিন পার করছেন। বাইরের খাবার ছাড়াও যে জীবন চলে সেটা দেখিয়ে দিয়েছে করোনা। এছাড়া খাবারে ভেষজ, ভিটামিন, অর্গানিক উপাদানগুলো সোনালী অতীতের মতো পাতে ফিরে এসেছে। কালো জিরে, মধু, ভিটামিন সি, লেবু পানি, হলুদ চা, দুধ, ডিম, কলা জাতীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো খাবারগুলো মানুষ ব্যাপকহারে গ্রহণ করেছে। ঘরে-বাইরে নানা ইভেন্ট বন্ধ থাকায় অস্বাস্থ্যকর অনেক খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকার অভ্যাস রপ্ত করা গেছে।

১৪। পরিবারকে সময় দেয়াঃ বিশ্ব তীব্র প্রতিযোগিতাময়। সবখানে দৌড় চলছে সমানে। অফিস, ব্যবসা, প্রফেশনের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছিল পরিবার। সময়হীনতায় ভুগে পরিবার যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রতিষ্ঠান সেটাই ভুলতে শুরু করে মানুষ। করোনা আবার মানুষকে ফেরত আনে পরিবারে। পারিবারিক সৌন্দর্য ও দায়িত্ব পালন নতুন করে সামনে আসে। দীর্ঘ লকডাউনে থাকা মানুষ পরিবারকে আবারো যাপিত জীবনের মূল্যবান অংশ হিসেবে ভাবতে শুরু করে।

১৫। মানসিক দৃঢ়তা তৈরিঃ মনোজগতে বড় ধাক্কা এনে দিয়েছে করোনা ভাইরাস। অস্থিরতা, দুঃসংবাদ ভরে আছে চারপাশ। এমন সময়ে আক্রান্ত হলে আরো বিপদ। আপনজন ফেলে কবরের নিরবতায় চলে যেতে হবে। কারোর সাথে দেখা নাই। ডাক্তার নার্সের দেখা মিলে হয়তো মাঝে মধ্যে। তবে যন্ত্রপাতি ভরা নির্জনতায় থাকতে থাকতে মানসিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ এভাবেই বরণ করে নিচ্ছে মরণকে। চিকিৎসকগণ বলছেন, করোনা জয়ে চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাও দরকার। শরীরের পাশাপাশি মনও প্রতিরোধ গড়ে তুললে করোনা ভাইরাস তেমন সুবিধা করতে পারে না। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির নতুন এই দিকটি রোগতত্ত্বের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

১৬। গ্লোবালাইজেশনঃ শব্দের গতির চেয়ে বেশি দ্রুত চলছে বিমান। এমনকি আলোর গতির চেয়েও বেশি দৌড়াতে সচেষ্ট বিশ্ব। পাশ্চাত্যে ব্রেকফাস্ট সেরে মধ্যপ্রাচ্যে লাঞ্চ করে প্রাচ্যে এসে ডিনারে বসতে পারছে মানুষ। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও তথ্য প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি বিশ্বকে এনে দিয়েছে হাতের মুঠোয়। এজন্য বিশ্বকে বলা হচ্ছে বিশ্বগ্রাম। সারাবিশ্ব যেন একটি গ্রাম। গ্লোবাল ভিলেজ নামে। করোনা ভাইরাসের মহামারী বিশ্বকে আরো বেশি কাছে এনেছে। আরো বেশি চেনাজানা করেছে। কোথায় কি হচ্ছে, কিভাবে বাঁচছে, কেমন করে মরছে, কারণ কি ফলাফল কি সব একেবারে সামনে হাজির করছে। এমনকি করোনার এভাবে পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়াটাও বিশ্বায়নের কুফল।

অবস্থা এমন হয়েছে যে, জাপানের ল্যাবে তৈরি ঔষধের রেসিপি সংগ্রহ করে বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো কাজ শুরু করে দিয়েছে। একই রকম বিনিময় ও যোগাযোগ অন্যান্য ক্ষেত্রেও মিলছে পাড়া-প্রতিবেশীর মতো করে। বিশ্বায়নের উৎকৃষ্ট দৃশ্য মঞ্চস্থ হচ্ছে এখন। এটাকে আমলে নিয়েও এগিয়ে যেতে হবে।

১৭। ডিজিটালাইজেশনঃ বিশ্ব এখন চুড়ান্ত মাত্রায় ডিজিটালাইজেশনে। করোনায় লকডাউন ঘোষণার পর ডিজিটালি অফিসসহ নানা কার্যক্রম চলছে। হোয়াইট হাউস থেকে গণভবন- সবখানে ডিজিটাল উপস্থিতি দৃশ্যমান। সর্বত্র ডিজিটাল কনসেপ্ট অবলম্বন করে বিকল্পভাবে সক্রিয় আছে পৃথিবী। যে কোন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও সরবরাহের সবচেয়ে কার্যকর উপায় এই ডিজিটালাইজেশন। ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই বিকল্প উপায় কাজে লাগানো যেতে পারে।

১৮। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারঃ ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ভূমিকা অস্বীকার করে চলার সময় আর নেই। যে কোন তথ্য উপাত্ত নিমিষেই চলে আসছে লকডাউনে পড়া মানুষের হাতে। হয়তো গুজব/অতিরঞ্জিত/ পক্ষপাতদুষ্ট বিষয়ও ভাসছে এখানে। তারপরও প্রকৃত খবরই দিনশেষে গুজব তাড়িয়ে দেয়। তাই সব ছাপিয়ে তথ্য ও মতামতের জন্য ঘরবন্দী মানুষ বেশি চোখ রাখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফলে ভবিষ্যতে এই মাধ্যমের বহুল ব্যবহারের বিষয়টি মাথায় রেখেই করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।

১৯। ইলেট্রনিক মিডিয়ার জয়জয়কারঃ মিডিয়ার মুদ্রিত সংস্করণে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে এমন একটি কথা চাউর হয়। পরে এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয় এটা ভিত্তিহীন কথা। তবে উক্ত সংস্থার রেফারেন্সও পোক্ত ধারণা দূর করেনি। বরং কয়েকজন চিকিৎসক এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়ায় আতঙ্ক কাটেনি তেমন। এই সুযোগে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জয়জয়কার ছিল৷ মানুষ ইলেকট্রনিক ও অনলাইন ভিত্তিক মিডিয়ার নিউজ আর ফিচার নির্ভরতা তুঙ্গে ওঠে। তবে প্রিন্ট মিডিয়াও মারা পড়েনি। বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ার অনলাইন ভার্সনেও হুমড়ি খেয়ে পড়ে মানুষ। পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে মুদ্রণ সাংবাদিকতার পাশাপাশি অনলাইন ধারাকে গুরুত্ব দেয়ার তাগিদ মিলে এতে।

২০। সক্ষমতা পরীক্ষাঃ বিজ্ঞান ও প্রগতির জয়জয়কারের যুগ বলা হচ্ছে এটাকে। মানুষের বুদ্ধির সাথে যোগ দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এতো প্রকৌশল, প্রযুক্তি, বিপুল তথ্য প্রাপ্তি অন্য কোনকালে ছিলো না। এ সময় যে কোন কিছু জয় খুব সহজসাধ্য। সেখানে করোনা ভাইরাস নামের অতি ক্ষুদ্র এক অদৃশ্য শক্তিতে পুরো একটি গ্রহ নাস্তানাবুদ। পৃথিবীজোড়া সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ নাজেহাল। বাঘা বাঘা বিজ্ঞানী, অসাধারণ সব গবেষণা ল্যাব এর সমাধান পাচ্ছে না। তাই এই সময়ে এসেও মানুষ কতটুকু সক্ষমতা অর্জন করছে সে প্রশ্ন তুলে যেন ব্যঙ্গ হাসছে করোনা ভাইরাস। সার্থকভাবে টিকে থাকতে যে আরো অনেক কিছু করার আছে সে শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে করোনা ভাইরাস।

লেখকঃ ফজলুর রহমান, সহকারী রেজিস্ট্রার, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(চুয়েট)।

Print Friendly and PDF

———