চট্টগ্রাম, সোমবার, ১ জুন ২০২০ , ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বাসায় থাকুন, সেইভ ডিসটেন্স মেনটেইন করুন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ৩ এপ্রিল, ২০২০ ১:৫১ : অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘আমি শুধু জনগণকে আহ্বান জানাবো যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করেছেন সেই ব্যবস্থাটি মেনে চলার জন্য। আপনারা বাসায় থাকার চেষ্টা করবেন এবং সেইভ ডিসটেন্স মেনটেইন করবেন।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা অযথা ঘুরাফেরা করবেন না। যখন বাজারে যাবেন তখনও ভালো দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করবেন। জটলা কখনও পাকাবেন না, কারণ জটলা পাকালেই সংক্রমণ বেড়ে যায়। আপনারা ঘরে বসে আল্লাহর নাম নেবেন। আপনারা যখন বাইরে যাবেন মাস্ক পরে বাইরে যাবেন। এটা আমাদের জন্য খুব ভালো হবে। এটাই বিশ্বজুড়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন।’

দেশে শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের ভালো খবর হলো যে, আমরা পজেটিভ নতুন ৫ জনকে পেয়েছি। মোট পজেটিভ ৬১ জন। আরও ভালো খবরটি হলো গত ২৪ ঘণ্টায় কেউ মারা যায়নি। মৃত ৬ জনই আছে। ২৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।’

শুক্রবার (২ এপ্রিল) দুপুরে প্রতিদিনের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ডা. জাহিদ মালেক বলেন, ‘আজকে আমি প্রথমেই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে, যিনি স্বার্বক্ষণিক তদারকি করে যাচ্ছেন। আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, সকল মন্ত্রণালয়, সকল সংস্থা এবং যারা একদম মাঠ পর্যায়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন তাদেরকে।’

করোনা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যথেষ্ট পিপিই (পারসোনাল প্রটেক্টিভ ইক্যুইপমেন্ট) রয়েছে। আমরা সকল হাসপাতালে পিপিই দিয়েছি এবং সবসময়ই পিপিই আমরা পেয়ে যাচ্ছি। আরেকটি বড় বিষয় হলো যে, পরীক্ষা করা। এখন আমাদের প্রায় ১৪-১৫টি জায়গায় পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা করাটা খুবই জরুরি। আমরা আশা করি, সকলেই পরীক্ষা করার জন্য আসবেন। পরীক্ষা করলে আপনি নিজেও নিরাপদে থাকবেন, জানতে পারবেন আপনার অবস্থাটা এবং সেই সাথে সাথে আপনার পরিবারকেও সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।’

জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা করাতে কোনও দোষ নাই। এতে সামাজিক কোনও বাধা নাই। কাজেই আপনারা এ জিনিসটি করবেন। এবং পরীক্ষার মাধ্যমেই আমরা করোনা ভাইরাসকে চিহ্নিত করে আস্তে আস্তে এটাকে নির্মূল করতে পারবো। যারা পরীক্ষা করায় জড়িত আছেন সর্বস্তরের ব্যক্তিরা তাদেরকে আহ্বান করবো, তারা যেন পরীক্ষাটি বেশি বেশি করে করেন। আমাদের কিটসের আপাতত কোনও সংকট নাই। কাজেই পরীক্ষা আমরা চালিয়ে যাবো। আমরা পরীক্ষার মাধ্যমেই জানতে পারি, আমাদের কতগুলো ব্যক্তি সামাজিকভাবে সংক্রমিত হয়েছে।’

দেশের এই দুঃসময়ে সারা দেশে সেবাদানকারী নার্স ও ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নার্স এবং ডাক্তার ভাইদের বলি, আপনারা অনেক কাজ করছেন। আপনারাই সৈনিক। আপনারাই এই সংক্রামক বৃদ্ধির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, আমাদের কিছু প্রাইভেট হাসপাতাল সেখানে কাজ কম হচ্ছে। ক্লিনিক এবং চেম্বারগুলো অনেকাংশে বন্ধ আছে। আমরা সামাজিক মাধ্যমে জানতে পারছি, আমরা নিজেরাও তা দেখতে পাচ্ছি। এই সময়ে আপনাদের পিছপা হওয়াটা মোটেই যুক্তিসঙ্গত নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ান, মানুষকে সেবা দেন। পরবর্তীকালে এ বিষয়ে যা যা ব্যবস্থা নেয়ার আমরা কিন্তু সেই ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবো না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। বড় বড় বেশ কয়েকটি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার জন্যই শুধু ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাদের হাঁচি-কাশি আসে কিংবা করোনা সন্দেহ হয় তারা ওইসব হাসপাতালে যাবেন, ইনশাল্লাহ চিকিৎসা পাবেন। সেসব হাসপাতালে চিকিৎসার সকল ব্যবস্থা আমরা করেছি। যেভানে অনেক ভেন্টিলেটরসহ প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো লাগানো আছে।’

‘আমাদের জেলা পর্যায়ে ডেডিকেটেড অ্যাম্বুলেন্সগুলো রেডি রয়েছে। যারা করোনা ভাইরাসের রোগীগুলোকে আনা-নেয়া করবে’- যোগ করেন মন্ত্রী।

আবারও গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে স্বাস্থমন্ত্রী বলেন, ‘মিডিয়ার ভাইয়েরা, আপনারা ভালো কাজ করছেন। আপনাদের প্রচারমাধ্যমেই আমরা জানতে পারছি, দেশের আনাচেকানাচে কিভাবে চিকিৎসা হচ্ছে এবং লোকজন কিভাবে ঘুরাফেরা করছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আবার, বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমরা দেখতে পাই, অনেক রকমের প্রচার-প্রচারণা, অনেক রকমের ভুয়া নিউজ দেয়া হচ্ছে। তাতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। আমরা মনে করি, যারা এই কাজগুলো করছেন তারা ঠিক করছেন না। তারা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং আমাদের কাজকে ব্যাহত করছেন। এ বিষয়টি আমরা মেনে নিতে পারি না। সরকার এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা অবশ্যই গ্রহণ করবেন। আপনাদের প্রতি আমাদের আহ্বান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনাগুলো দিচ্ছেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর যে নির্দেশনা দিচ্ছে সেগুলো মেনে চলবেন। এবং পজেটিভ নিউজ করবেন। যে নিউজের মাধ্যমে যে পরামর্শের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসকে প্রতিহত করা যাবে আপনারা সেই পরামর্শগুরো দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা খুব বেশি সময় আর নিতে চাই না। এখনই সময় এই ভাইরাস প্রতিরোধ করার। দেরি করা আর সাজে না। আমাদের বর্তমান অ্যাকশনের ওপরে ভবিষ্যত নির্ভর করবে। আমরা ভালো আছি এখনও। আমরা ভালো থাকতে চাই। সকলে মিলে আমরা যদি কাজ করি তাহলে অবশ্যই আমরা ভালো থাকবো। আমাদের আশেপাশের দেশগুলোও মোটামুটি ভালো আছে। কাজেই আমরা আশা করতে পারি, আমরাও ভালো থাকবো।’

এর পর দেশের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি, ব্যবস্থাপনা ও করণীয় সম্পর্কে প্রতিদিনের মতো বিস্তারিত তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ এবং জাতীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

Print Friendly and PDF

———