চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০ , ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ইউএনএইচসিআরকে হস্তান্তর

দুই মাস সাগরে ভেসে টেকনাফের উপকূলে ভিড়েছে ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা

আমান উল্লাহ কবির, টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল, ২০২০ ৭:১১ : অপরাহ্ণ

ককসবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার সাগর কুলবর্তী বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের জাহাজপুরা সৈকত থেকে মালয়েশিয়াগামী ৩৯৬ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত ১০ টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

নানা প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াই টার দিকে এসব রোহিঙ্গাদের ইউএনএইচসিআর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া প্রত্যেক রোহিঙ্গাদের উখিয়া-টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবির থেকে সাগরপথে অবৈধভাবে মানব পাচারকারি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করেছিলো। পরে মালয়েশিয়া যেতে না পেরে এই এলাকার সৈকতে এসে ভিড়ে। খবর পেয়ে কোষ্টগার্ড দ্রুত ঘটনাস্হলে পৌছে তাদের উদ্ধার করে। কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের সহকারি পরিচালক হামিদুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা ভর্তি একটি বড় জাহাজ টেকনাফ জাহাজপুরা ঘাটে এসে সৈকতে উঠার সময় মোট ৩৯৬ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বেশ কিছু দিন আগে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাত্রা করছিলো। কিন্তু মালয়েশিয়ায় ভিড়তে না পেরে আবার বাংলাদেশে ফেরত চলে আসে। উদ্ধার করা রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে ৩২জন নারী পুরুষ শিশু এই দুই মাসে ট্রলারে মারা গেছে।

উদ্ধার হওয়া উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, গত দুই মাস আগে বেশি আগে ৪ শতাধিক জন রোহিঙ্গা বোঝাই একটি ট্রলার সাগরপথে মালয়েশিয়ার উদ্দ্যেশে রওনা দেয়। সেখানে পৌঁছলেও দেশটিতে কড়াকড়ির কারণে ভিড়তে পারেনি।এতদিন সাগরে ভাসমান অবস্থায় ছিলাম। অনেক চেষ্টার পরও ট্রলারটি মালয়েশিয়ার উপকূলে ভিড়তে পারেনি। দীর্ঘদিন সাগরে অবস্থানের সময় অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন মারা গেছে। পরে ট্রলারটি বাংলাদেশে ফেরত আসতে বাধ্য হয়েছে। ” বলেন উদ্ধার হওয়া এ রোহিঙ্গা। তারা উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মালয়েশিয়া ফেরত ৪’শত মত রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা মালয়েশিয়া যেতে না পেরে ফের ফেরত এসেছে বাংলাদেশে। ট্রলার থেকে নামিয়ে সাগর সৈকতের এক জায়গায় তাদের জড়ো করা হয়েছে। পরে উর্ধতন কতৃর্পক্ষের নির্দেশনা মতে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে বেশির ভাগ নারী ও শিশু ছিল।

বুধবার রাত থেকে নানা প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধার হওয়া এসব রোহিঙ্গাদের ইউএনএইচসিআর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ড। তবে এব্যাপারে ইউএনএইচসিআর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লে. বিএন এম হায়াৎ ইবনে সিদ্দিক জানান, ১৫০ পুরুষ, ১৮২ জন নারী ও ৬৪ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের ইউএনএইচসিআরকে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে জানান প্রায় দুই মাস সাগরে ভাসছিল। তিনি আরো জানান, উদ্ধারকৃত রোহিঙ্গা মায়ানমার নাগরিকরা বিভিন্ন ক্যাম্প হতে মালয়েশিয়া যাবার উদ্দেশ্যে সমুদ্রে পারি জমায় কিন্তু মালয়েশিয়া সমুদ্র সীমানায় মালয়েশিয়ান কোস্ট গার্ড কর্তৃক তাদেরকে আটক করে কিছু খাবার, পানি ও জ্বালানী প্রদান পূর্বক ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে তারা সেখান থেকে চলে এসে মায়ানমারে প্রবেশের চেষ্টা করলে মায়ানমার নৌবাহিনী তাদের আটক করে এবং বাংলাদেশের দিকে পাঠিয়ে দেয় বলে জানায় উদ্ধারকৃত একজন রোহিঙ্গা নাগরিক।

Print Friendly and PDF

———