চট্টগ্রাম, সোমবার, ১ জুন ২০২০ , ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দামপাড়ায় লকডাউনে থাকা পরিবার পালিয়ে এখন বোয়ালখালীতে!

প্রকাশ: ৭ এপ্রিল, ২০২০ ৯:৩১ : পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের  বোয়ালখালীতে দুই পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টিন এ থাকার নির্দেশনা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

কারন হিসেবে বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ বলছে,  চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়ায় এলাকার ৬টি বাড়ি লকডাউন থাকা একটি পরিবার এখন পালিয়ে বোয়ালখালী উপজেলার মধ্যম শাকপুরা এলাকায় গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছে। এলাকাবাসী থেকে খবর পেয়ে তারা ইতোমধ্যে ওই বাড়ি লকডাউন করেছেন।

গতকাল সোমবার (৬ এপ্রিল) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বড়ুয়াপাড়া ও মধ্যম শাকপুরা এলাকায় চট্টগ্রামের নগরী থেকে পালিয়ে আসা দুই পরিবারে লাল পতাকা উড়িয়ে সতর্কমূলক ব্যানার লাগিয়ে হোম কোয়ারেন্টিন চিহৃত করেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন, এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জিল্লুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৮ বীর ব্যাটেলিয়ন এর ক্যাপ্টেন মুবিন এর নেতৃত্বে সেনাসদস্যবৃন্দ।

সূত্র জানায়, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষায় দামপাড়া এলাকার এক ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। এই পরিবারটি সেদিন রাতেই বোয়ালখালীতে পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম এর প্রথম করোনা রোগীর প্রতিষ্ঠান বাস্কেট সিপার শপ এ চাকরিরত শাকপুরা বড়ুয়াপাড়ার খোকন বড়ুয়ার ছেলে সানি বড়ুয়া, বাস্কেট সুপার শপ বন্ধ করার পর তার গ্রাম বড়ুয়াপাড়ায় ফিরে এসে অবাধে এলাকায় চলাফেরা করার গোপন সংবাদ পেয়ে তার বাড়ীতে গিয়ে সত্যতা পাওয়া যায়, পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার বাড়ীর সামনে লাল পতাকা উড়িয়ে সতর্কতা মূলক ব্যানার লাগানোর নির্দেশ প্রদান করে পুরা পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টিন এ থাকার কড়া নির্দেশ জারি করেন।

এদিকে উপজেলার মধ্যম শাকপুরা এলাকার মৃত সৈয়দ কাদের ছেলে সৈয়দ বেলাল চট্টগ্রাম শহরের লকডাউন থাকা দামপাড়া এর পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে পুরা পরিবার নিয়ে গত তিন তারিখে চলে আসা পরিবারটিকে হোম কোয়ারেন্টিন এ থাকার কড়া নির্দেশ জারি করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বোয়ালখালী।

সহাকারি কমিশনার (ভূমি) মোজাম্মেল হক চৌধুরানী বলেন ‘সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় আমাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে’।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন বলেন, ‘যেহেতু চট্টগ্রাম শহরেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে তাই আমরা শতভাগ সতর্ক আছি, সন্দেহভাজন দের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতকরণ ও টেস্ট করানোর জন্য তৎপর আছি, আশা করব এ বিষয়ে কেউ তথ্য গোপন করে নিজের, পরিবারের এবং সমাজের ক্ষতি করবে না’।

এদিকে লকডাউন অমান্য করে ওই পরিবারের বোয়ালখালীতে যাওয়ার ঘটনা হতবাক করেছে এলাকাবাসীকে। তারা বলছেন, প্রশাসনের দৃষ্টি এড়িয়ে পুরো পরিবার গ্রামে আসায় করোনা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রভাষক ডা. সীমান্ত ওয়াদ্দেদার তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, দামপাড়ায় লকডাউনে থাকা মানুষ পুরো পরিবার নিয়ে কেমনে পালিয়ে যায়! দায়িত্বপ্রাপ্তরা কই?

বোয়ালখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী তারা ফেসবুক ওয়ালে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, চট্টগ্রাম এর প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকার সন্দেহে বোয়ালখালীতে দুই পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টােইনে থাকার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষায় এক ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। তার বাসা চট্টগ্রাম মহানগরীর  দামপাড়ায়। এ ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ওই গলির ছয়টি বাড়ি লকডাউন করা হয়।

Print Friendly and PDF

———