চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০ , ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফেনী নদীতে ভারসাম্যহীন নারী ৪দিন যাবৎ ধুকে ধুকে মরছে

করিম শাহ, রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৫ এপ্রিল, ২০২০ ৮:১৯ : অপরাহ্ণ

খাগড়াছড়ির রামগড়ে ভারত সীমান্ত ফেনী নদীর মাঝভাগে বালুর চরে রোদ ঝড়বৃষ্টিতে টানা ৪দিন যাবৎ ভারত থেকে পুশইন করা মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী ধুকে ধুকে মরছে। কখনো বসে, কখনো শুয়ে আবার কখনো হামাগুড়ি দিচ্ছে এই মানবতা! গত শুক্রবার ভারতে ফেরত পাঠাতে দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিএসএফ এর মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও কোন সুরহা ছাড়া বৈঠক শেষ হয়। এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় ঐ নারী পড়ে আছে নদীতে। অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় সীমান্তবাহীনি সুযোগ বুঝে এসব ভারসাম্যহীনদের ফেনী নদীতে ঠেলে দেয় যাতে তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে পারে।

নারীটি বারবার ভারতের দিকে যেতে চাইলে বিএসএফ ও স্থানীয় লোকজন তাকে বাঁধা দেয়। এদিকে বিএসএেেফর এমন অমানবিক কর্মকান্ডে বাংলাদেশ সীমান্তের লোকজনের মধ্যে দেখা দিয়েছে করোনা ভাইরাসের আতংক। এই আতংকের মাঝেও মানবতার বিবেচনায় তাকে খাবার পৌছে দিচ্ছে বাংলাদেশের অনেকেই।

গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর ভারসাম্যহীন ঐ নারী নদী পার হয়ে বাংলাদেশ আসতে চাইলে বিজিবি বাঁধা দেয়। পরে শুক্রবার সকাল ১০টায় আনন্দপাড়া আবাসিক এলাকা নোমেন্স ল্যান্ডে দুদেশের সীমান্ত বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে এবং বিকাল সাড়ে ৫ টার সময় মহামুনি সংলগ্ন বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী সেতু ১ এর নোমেন্স ল্যান্ডে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোন প্রকার সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে।

এই বিষয়ে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে রামগড় ৪৩ বিজিবির জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল তারিকুল হাকিম জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে ওই নারীকে বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তবর্তী ফেনী নদীর নোমেন্স ল্যান্ডে দেখাযায়। ওই নারী যখন বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করতে চায় তখন বিজিবি সদস্যরা তাকে বাঁধা দেয়। অন্যদিকে বিএসএফ পক্ষ থেকে দাবী করা হচ্ছে নারীটি বাংলাদেশী। কিন্তু বাংলাদেশের কোন জায়গা থেকে এখনো পর্যন্ত কেউ তাকে দাবী না করায় বাংলাদেশের ভিতরে প্রবেশে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এইদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভারসাম্যহীন নারীটিকে অমানবিক ভাবে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিলে নারীটি নদীর মাঝখানে টানা ৪দিন পড়ে আছে। প্রথমদিন অধ্যাহারে অনাহারে কাটালেও গত তিনদিন যাবত বাংলাদেশী লোকজন ঐ নারীর কাছে খাদ্য ও পানি পৌঁছে দিচ্ছেন। স্থানিয়রা সীমান্ত নদীতে পড়ে থাকা ঐ নারীকে তার প্রকৃত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে প্রশাসন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির সহায়তা কামনা করেছেন।

Print Friendly and PDF

———