চট্টগ্রাম, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ , ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ চট্টগ্রামে ফ্রিজে মাংস নিয়ে গুজব!

মোঃ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৫ মার্চ, ২০২০ ১২:৩৩ : অপরাহ্ণ

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস নিয়ে পুরো বিশ্ব টালমাটাল। করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া পৃথিবীর ১৯৫টি দেশের মানুষ যখন
উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে, ঠিক সে সময়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের গ্রামেগঞ্জে যাদের বাড়িতে ফ্রিজে মাংস আছে প্রশাসনের লোকজন অভিযান চালিয়ে জরিমানা করছে, ফ্রিজ ভেঙে দিচ্ছে এমন ‘গুজব’ ছড়িয়ে দিয়ে মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে একটি গ্রুপ।

এমন গুজব মহিলাদের মাঝে বেশি ছড়িয়ে পড়ায় বেশকিছু পরিবারে মহিলারা আগে থেকে ফ্রিজে সংরক্ষণ রাখা মাছ মাংস সরিয়ে ফেলেছে। দক্ষিণ ও উত্তর পাড়ায় বাসায় তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানা করছে এমন গুজবে কেউ কেউ দ্রুত ফ্রিজের মাছ মাংস বের করে রান্না করেছেন। কেউ বা মাংস আত্মীয়-স্বজনদের দিয়েছেন গত সোমবার ও মঙ্গলবার দুদিন গুজবে সাতকানিয়া লোহাগাড়ার বিভিন্ন এলাকায় এমন কাণ্ড ঘটার খবর পাওয়া গেছে।

অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাস্টাস দিয়ে বিষয়টির সত্যতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন। এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে ‘গুজবে’ কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন পুলিশ। বাসায় পুলিশ গিয়ে ফ্রিজ চেক করছে বিষয়টি নিতান্তই গুজব বলে নিশ্চিত করেছেন সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি সফিউল কবীর।

তিনি গুজব সম্পর্কে স্থানীয় লোকজনকে সচেতন হওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সাতকানিয়া বারদোনা বাহাদির পাড়ার বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম জানান, পাড়ার এক প্রান্তে থেকে আমাদের বাসায় খবর এলো ফ্রিজে মাছ মাংস চেক করছে পুলিশ। কিছু থাকলে নাকি জরিমানা করে দিচ্ছে, ফ্রিজ ভাংচুর চালাচ্ছে। তখন বাসায় লোকজনকে বলেছিলাম পাড়ার কেউ ফ্রিজ থেকে মাছ মাংস বের করে না রাখলে আমার বাসায় দিয়ে যাওয়ার জন্য। গত মঙ্গলবার শুনেছি অনেকে মাছ মাংস জরিমানার ভয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। এগুলো একধরনের খারাপ লোক সমাজে রয়েছে, তাঁরা এসব গুজব ছড়ায়।

লোহাগাড়ার উত্তর আমিরাবাদের বাসিন্দা মোঃ ফরিদুল আলম জানান, আমাদের এলাকার ফজু কোম্পানি, ইদ্রিস ও আবছারসহ অসংখ্য বাড়িসহ সোমবার পুলিশ এসে ফ্রিজ ভাংচুর করছে, ধরে নিয়ে যাচ্ছে এমন গুজবে মাছ মাংস ফ্রি থেকে বের করে রান্না করেছেন। কেউ কেউ ফ্রিজে রাখা মাছ মাংস লুকিয়ে রেখেছেন। পরে দেখল এগুলি গুজব ছড়ানো হয়েছে।

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি সফিউল কবীর জানান, পুলিশ কর্তৃক কোন নাগরিকের বাড়ীতে ফ্রিজ তল্লাশির তথ্য সঠিক নয়। এই সংক্রান্তে কোন তথ্য পাওয়া গেলে সাতকানিয়া থানা পুলিশকে অবগত করার জন্য জন সাধারণকে অনুরোধ করেছি। গুজব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন হওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছি।

এসব গুজবে জনসাধারণকে কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

Print Friendly and PDF

———