চট্টগ্রাম, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০ , ২১শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মুদি দোকানে ক্রেতাদের ভিড়, প্রশাসনের অভিযানের পরও দাম কমছেনা

করোনার প্রভাব: মিরসরাইয়ে চাল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি

এম মাঈন উদ্দিন, নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২১ মার্চ, ২০২০ ৬:০৪ : অপরাহ্ণ

করোনাভাইরাস আতংকের জের ধরে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চাল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে চলছে। গত ৩দিনের ব্যবধানে অনেক পণ্যে কেজিতে ৫-১৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন বাজারের মুদি দোকানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে দোকানগুলোতে অভিযান চালানোর পরও দাম না কমানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চালের সাথে সাথে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে আবার। করোনার অজুহাতে খুচরা ব্যবসায়ী থেকে আতড়দার সবাই সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের বাজার আবারও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।

বড়তাকিয়া এলাকার বাসিন্দা আবুল হাসনাত জামিল বলেন, করোনাভাইরাসকে পুঁজি করে এক আড়তদাররা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে বড়তাকিয়া, বড়দারোগাহাট, বারইয়ারহাট, আবুতোরাব, আবুরহাট, বামনসুন্দর দারোগাহাট, শান্তিরহাট, করেরহাট, ভোরের বাজার, শান্তিরহাট বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা জরুরী।

উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চালের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অন্যান্য পণ্যের দাম। দুইদিনের ব্যবধানে চিড়ার দাম কেজিপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে বস্তাপ্রতি সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা দাম বেড়েছে। মানভেদে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে ৫-১০ টাকা করে। আর বস্তা প্রতি এর দাম বেড়েছে ২৫০-৫০০ টাকা। হঠাৎ করে এই দাম বেড়ে যাওয়া কেন জানতে চাইলে মিরসরাই সদরের একজন বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের কারণে ক্রেতারা বেশি বেশি চাল কিনে মজুদ রাখছে। এ সুযোগে পাইকারী বিক্রেতারাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ দেশের মানুষ এখন চরম আতঙ্কে রয়েছে। সামনে কী হয় না-হয় এ নিয়ে তারা শঙ্কা এবং হতাশার মধ্যে আছে। গত দিনদিনে যে পরিমাণ বিক্রি হয়েছে ঈদেও এতো বেশি বিক্রি হয়না।

উপজেলার আবুতোরাব বাজারে বেশি দামে পণ্য বিক্রির খবরে বাজার মনিটরিং করেন মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন মাষ্টার। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের অজুহাতে বিভিন্ন পণ্যে বেশি দামে বিক্রির খবর পেয়ে বাজারে গিয়ে ন্যায্যমূল্যে পন্য বিক্রি করতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দিয়েছি। তারা প্রতিকেজি পিয়াজ বিক্রি করছে ৮০-৯০ টাকা। পাইকারী ক্রয় করা স্লিপ দেখে ৬৫ টাকা করে পিয়াজ বিক্রির জন্য বলেছি।

গত শুক্রবার পণ্যের মূল্য তালিকা না রেখে মনগড়া দামে পণ্য বিক্রির অপরাধে বারইয়ারহাট, করেরহাট, মিরসরাই সদর, আবুতোরাব ও মিঠাছড়া বাজারে অবস্থিত বিভিন্ন সংরক্ষিত খাদ্য দোকানকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদুল ইসলাম পৃথক অভিযান পরিচালনা করে এসব জরিমানা ও ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করেন।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুদি দোকানগুলোতে মানুষের প্রচন্ড ভিড়। করোনাভাইরাসের কারণে খাবার সংকট দেখা দিতে পারে এমন আশংকায় সবাই চাল, ডাল, তেল, আলু, পিয়াজ, চিনি, চিড়া, চাপাতা সহ কয়েক মাসের বাজার নিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার ছোট কমলদহ বাজার থেকে মোশারফ হোসেন নামে এক ক্রেতা জানান, ৫০ কেজি নুরজাহান চালের বস্তা আগে নিয়ে ১৫শ টাকা দিয়ে। শুক্রবার সকালে কামাল স্টোরে সে একই চালের বস্তার দাম ২ হাজার টাকা। এভাবে দাম বাড়লে আমাদের মতো নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর অবস্থা খুব খারাফ হয়ে যাবে।

বড়দারোগাহাট বাজারের ব্যবসায়ী নুর নবী বলেন, ‘করোনা আতঙ্কের কারণে তুলনামূলকভাবে মানুষ জিনিসপত্র বেশি কিনছে। যার ফলে কিছুটা দাম বেড়েছে। চাল আর চিড়ার দাম অনেক বেশি বেড়ে গেছে। ধান সংকটের কারণে কল মালিকেরা চিড়া আর চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে আমাদের।’

খুচরা দোকানি আব্দুল কাইয়ুম জানান, আমরা পাইকার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে খুচরা ক্রেতাদের কাছে আগের থেকে বেশি দামে বিক্রি করছি।

বারইয়ারহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হেদায়েত উল্লাহ বলেন, ‘বাজারে মনিটরিংয়ের অভাবে বাজারে এই অস্থিরতা বিরাজ করছে। আমরা তো হুজুগে বাঙালি। ঈদের মতো সবাই এক সাথে বাজার করা শুরু করেছে। যার নেগেটিভ প্রভাব বাজারে পড়ছে। আর করোনাভাইরাসের প্রভাবে আড়তদাররা জিনিসের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। এজন্য খুচরা ব্যবসায়ীদেরও বেশি মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, বেশি দামে পণ্য বিক্রি ও মূল্য তালিকা না রাখায় উপজেলার বিভিন্ন বাজারের কয়েকটি দোকানে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সবাইকে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি ও মূল্য তালিকা টাঙানোর জন্য সতর্ক করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Print Friendly and PDF

———