চট্টগ্রাম, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘করোনার ভয়াবহতা কেমন তা স্বচক্ষে না দেখলে বুঝানো অনেক কঠিন’

প্রকাশ: ২৫ মার্চ, ২০২০ ১২:৩৩ : পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো গ্রামে বসবাস করেন এবং তারা করোনা ভাইরাসের মহামারী নিয়ে মোটেও ভীত সন্ত্রস্ত নয়। পাশাপাশি করোনার ভয়াবহতা প্রকট আকার ধারণ করার আশংকায়  শহরে বসবাসকারী মানুষেরাও গ্রামে ফিরে এসেছেন।

কিন্তু সমগ্র বিশ্বের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে করোনা সংকট মোকাবেলায় যে ধরনের ব্যবস্থা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন গ্রামে তার ছিঁটেফোটাও চোখে পড়ছে না।

এদিকে, মরণ ভাইরাস করোনায় কাঁপছে চীনসহ পুরো বিশ্ব। করোনা ছড়িয়ে পড়া চীনে আছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বাংলাদেশি  শিক্ষার্থী ও গবেষক।  সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক ছাত্র হানযালা হোবাইব করোনার ভয়াবহতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ।

হানযালা হোবাইব লিখেছেন-

আসসালামু আলাইকুম,
প্রিয় সকল ভাই-বোন রা, আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে ভালো আছি। আমি বর্তমানে চায়না জিয়াংসু প্রদেশে অবস্থান করছি। প্রায় বলতে গেলে ২মাস ধরে রুমে অবস্থান করছি। করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা কেমন ছিলো তা হয়তো স্বচক্ষে না দেখলে বুঝানো অনেক কঠিন।

চীনে যখন করোনার মহামারী, ভাইরাসের গতি প্রকৃতি অনেক কিছুই অজানা , তখনও প্রায় ৬-৮ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীন ছেড়ে বাংলাদেশ গিয়েছেন, কিন্তু আল্লাহ রহমতে কোন ইনফেকশন ছড়ায়নি। অথচ ইতালি থেকে ৫০০-১০০০ জন আসতে না আসতেই ভাইরাস ছড়িয়ে গিয়েছে। কারণ সচেতনতা। ইনফরমেশন ফ্লো অত্যান্ত ফাস্ট হওয়াতে চীন থেকে যাওয়া সবাই আপডেটেড ইনফরমেশন জানত এবং সেই অনুযায়ী নিজে সচেতন ছিল। সেই সাথে চীনের প্রিভেন্টিভ মেজারগুলো তো আছেই। দেশে সরকারী বাধ্যবাধকতা না থাকলেও অধিকাংশ ছাত্ররাই নিজেকে কিছুটা আইসোলেট রেখেছিলেন আর সিম্পটম এর প্রতি খেয়াল রেখেছিলেন।

তাই আমি সবার প্রতি অনুরোধ রাখবো এই চরম মুহূর্তে অপ্রয়োজনীয় ঘুরাঘুরি থেকে বিরত থাকুন। আমরা অনেক সময় সরকারের বিভিন্ন ভাবে দোষ দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আমি নিজে যদি সে পরিমাণ সতর্কতা অবলম্বন না করি তাহলে এটা নিজেরই দুর্বলতা। চায়না এই মহামারীর বিরুদ্ধে যথেষ্ট ফাইট করতে পেরেছে শুধুমাত্র দেশে রুলস রেগুলেশন অনেক কঠিন ছিল তাই।

কিন্তু আমাদের দেশে সে পরিবেশ নেই বললেই চলে। তাই আমি মনে করি আমাদের নিজেদেরকে সচেতন থাকা অনেক অনেক বেশী দরকার। অপ্রয়োজনীয় যেকোন আড্ডা এড়িয়ে চলুন।

ভাইরাস প্রতিরোধে যেসব করা দরকার; সর্বোচ্চ চেষ্টা করি নিজেই! সেদিন সামান্য ক্যাম্পাসের ভেতরে বের হয়েছি -ডারমেটরী, সুপারশপ, সেলুন, কুরিয়ার চার জায়গায় চার বার জ্বর চেক করা হয়েছে। কিন্তু আপনি সারা বাংলাদেশ দৌড়ালে ও কেউ একবার জ্বর চেক করবে বলে মনে হয় না। তাই আসুন নিজে সচেতন হই অন্যকে সাধ্যমত সচেতন করি। সর্বোপরি আমরা সমস্ত যাহালত, ফাহেশা কাজ থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহ তাআলার দিকে ফিরে আসি। আজ আবার প্রমাণ হয়ে গেছে সবকিছুর উপরে আল্লাহ তাআলার স্থান।

চীন থেকে লিখছি , এখনো ইউনিভার্সিটির ভিতর লকড। এখানে জিরো রিস্ক , জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে ।

Print Friendly and PDF

———