চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০ , ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনী আচরণ বিধির কারণে বিএনপি সুবিধা পাচ্ছে, চট্টগ্রামে তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ৮ মার্চ, ২০২০ ১১:১৩ : অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আমাদের অত্যন্ত দুঃখ হয় আমরা যারা দল করি আমরা মন্ত্রী ও এমপি হবার অপরাধে এখন আমাদের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে পারবনা। দুনিয়ার কোথাও এমন নিয়ম নেই। নির্বাচনী এই আচরণ বিধির কারণে বিরোধী পক্ষ বিএনপি অনেক সুবিধা পাচ্ছে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, সেখানে কেন্দ্রের মন্ত্রী হোক কিংংবা রাজ্যের মন্ত্রী হোক তারা ভোটের প্রচারণা করতে পারে, এমপিরাও পারে। মন্ত্রীরা সরকারি সুযোগ সুবিধা বাদ দিয়ে ভোটের প্রচারণায় নামতে পারে। যেখান থেকে ভারতবর্ষ গণতন্ত্র শিখেছে সেই ইংল্যান্ডেও পারে। আর আমাদের দেশে নির্বাচন কমিশন যে বিধি বিধান করেছে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন একটা দ্বীপ।

রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের কে সি দে রোডস্থ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর নির্বাচনী কার্যালয়ে নগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারররফ হোসেন এমপি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) আহমেদ হোসেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ এমপি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমি আশা করবো বাস্তবতার নিরিখে ও বিশ্ব প্রেক্ষাপটে অন্যান্য দেশকে অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশন এই বিধানের পরিবর্তন করবে। ভারত, ইংল্যান্ড, কন্টিনেন্টাল ইউরোপ, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ বিভিন্ দেশে সুযোগ সুবিধা বাদ দিয়ে এমপি ও মন্ত্রীরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারে সবাই যাতে সমান সুযোাগ পায় নির্বাচন কমিশন বিধি বিধান পরিবর্তন করে সেটা নিশ্চিত করবেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্লেয়িং গ্রাউন্ডটা আমাদের জন্য লেভেল প্লেইয়িং নয়। বিএনপির জন্য এটি সুবিধাজনক অবস্থান। তাদের অনেকে কয়েকবার মন্ত্রী ছিলেন, সমাজিক মর্যাদাও এমপি মন্ত্রী থেকে কম নয়, অনেক ক্ষেত্রে বেশি। তারা ভোট চাইতে পারবেন আর আমাদের নেতারা পারবেনননা এটা বৈষম্যমূলক। এই বৈষম্যের অবসান হওয়া প্রয়োজন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতপক্ষে সমগ্র চট্টগ্রামের নেতাকর্মীরা আমাদের মেয়র প্রার্থীর জয়লাভের জন্য ঐক্যবদ্ধ। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছে। আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ যখন ঐক্যবদ্ধ থাকে তখন চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করার মতো কোন রাজনৈতিক শক্তি নাই। আমাদের মনে করতে হবে প্রতিপক্ষ সবল। প্রতিপক্ষকে দূর্বল মনে করে যদি আমাদের রণ কৌশল সাজাই তাহলে ভুল হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, কাজেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত। তবে গতানুগতিক বিজয় নয়, বড় ব্যবধানে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করে নেত্রীর কাছে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করতে হবে। আর সেটি করতে পারলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে চট্টগ্রামের দাবি-দাওয়া নিয়ে আমরা কথা বলতে পারবো।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ কাউন্সিলর প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের কাছে অনুরোধ রাখতে চাই, আপনারা যখন প্রচারণায় নামবেন তখন সবার আগে মেয়র প্রার্থীর জন্য ভোট চাইবেন, তারপর চাইবেন নিজের জন্য। এটি হলে পরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া সহজ হবে এবং মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে একটা অবিস্মরণীয় বিজয় উপহার দেওয়ার সম্ভব হবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইভিএমে ভোট অত্যন্ত স্বচ্ছ ভোট। ঢাকা শহরে ইভিএমে ভোট হয়েছে। ইভিএম নিয়ে অনেক বিরূপ প্রচারণা চালিয়েছিল বিএনপি। বিএনপির এই বিরূপ প্রচারণার কারণে ভয়ভীতির প্রেক্ষিতে অনেকে ভোট দিতে যায়নি। কিন্তু তারাও পরবর্তিতে অনুধাবন করেছে ইভিএমে অত্যন্ত স্বচ্ছ পদ্ধতিতে ভোট হয়। এখানে একজনের ভোট আরেকজনে দেয়ার কোন সুযোগ নাই। স্বয়ং সিইসি’র যখন ফিঙ্গার প্রিন্ট নিচ্ছেনা তখন সিইসিকেও ভোট দেয়ার জন্য অনেক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান খান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, সহ সভাপতি ও সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Print Friendly and PDF

———